০৬:৩৯ পি.এম
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে এক সরকারি সুবিধা বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “যাঁরা জীবন বাঁচাতে এবং নিজেদের ধর্ম রক্ষা করতে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন; তাঁরা হলেন শরণার্থী।”
এই বক্তব্যটি তিনি শনিবার (২৪ অক্টোবর) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেন। শুভেন্দু ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার কাজ আগামী ১০ জানুয়ারির আগে সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমা শাসককে নির্দেশ দিয়েছি যেন দ্রুত তাঁদের সকলকে সিএএ শংসাপত্র দেওয়া হয়। যাতে তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন।’
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেভাবে মিয়ানমারে পৌঁছায় ইরানের জ্বালানি
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আমি আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর সাগরদ্বীপে যাব। এরপর ১০ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধন করতে ফের সেখানে ফিরে আসব। তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমা শাসককে নিশ্চিত করতে হবে যাতে সমস্ত শরণার্থী তাঁদের সিএএ শংসাপত্র হাতে পান। স্বরাষ্ট্র সচিব নিজে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।”
তিনি যোগ করেন, “এই শংসাপত্র পাওয়ার পর আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই মানুষগুলো ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না।”
সিএএ শংসাপত্র প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে শুভেন্দু 'অনুপ্রবেশকারী' এবং 'শরণার্থী'দের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যাঁরা নিজের জীবন ও ধর্ম রক্ষার্থে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের কখনোই অনুপ্রবেশকারী বলা চলে না।
ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দু অধিকারী ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানান, সিএএ শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা যেন রাজ্য সরকারের পরিবর্তে জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্ব সরাসরি জেলা শাসকদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভুসিচের পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা
আগামী মাসের শুরুর দিকে হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু মতুয়া সম্প্রদায়ের পুণ্যভূমি ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতেও যেতে পারেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি শরণার্থীদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও উদ্যোগের ঘোষণা করতে পারেন। উল্লেখ্য, বিশেষ করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি ১৮টি আসন পাওয়ার পর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায় ও হিন্দু শরণার্থীরা বিজেপির অন্যতম বড় সমর্থন ভিত্তি হয়ে উঠেছেন। তাই প্রথম বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের কাছে শরণার্থী সমস্যার সমাধান অত্যন্ত অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।
পাশাপাশি, সুন্দরবনের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সুন্দরবনকে একটি মডেল অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন এবং ঘোষণা করেন যে ২০২৯ সালের মধ্যে মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর ব্রিজ উদ্বোধিত হবে।
তিনি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সুন্দরবনের দ্বীপগুলোকে একের পর এক সংযুক্ত করা হবে এবং কাকদ্বীপ মহকুমাকে একটি পৃথক জেলায় উন্নীত করা হবে।
আরও পড়ুন: চীনে কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন