বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২২ পি.এম
মাদক সেবনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের সাথে তাদের পরিবারের মধ্যে বাদানুবাদ ঘটে। গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের দাবি, তারা মাদকসেবী নন এবং তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। অপরদিকে, পুলিশের বক্তব্য হলো, তারা মাদকসেবী। এই পরিস্থিতি নিরসনের জন্য এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় ডোপ টেস্ট করার। সেই অনুযায়ী ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তারা গাজা, ইয়াবা এবং ঘুমের বড়ি সেবনকারী। পজিটিভ ফলাফল আসায় পরে আদালতের মাধ্যমে সিরাজুল ইসলাম রাব্বী ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায়।
পুলিশ জানায়, বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযানে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের কলেজপাড়ার আজগর আলীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম রাব্বী (৩০) এবং ঢাকালে পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে দুই মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে গ্রেফতারকৃতদের মাদকসেবন না করার অভিযোগে পুলিশের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়, মাদক সেবনের প্রমাণ হিসেবে ডোপ টেস্ট করানো হবে। সেই অনুযায়ী দুপুরে ওই দুইজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হলে পজিটিভ ফলাফল আসায় তাদেরকে বিকালে আদালতে নেওয়া হয়। ঝিনাইদহ আদালতের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ১৬ অনুযায়ী সিরাজুল ইসলাম রাব্বীকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অপরদিকে, সাদ্দাম হোসেনকে চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, দুইজন মাদকসেবীকে থানায় নিয়ে আসার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করেছিলেন। টেস্টের পজিটিভ ফলাফল আসায় আদালত তাদেরকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উপকুলিয় উপজেলা দাকোপের অভ্যন্তরীণ খালগুলো বর্তমানে দখল এবং দূষণের শিকার। অবৈধ জাল নেটপাটা ব্যবহার করে দেশীয় মাছের প্রজনন ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, অভিযান শেষ হওয়ার পরও বেআইনী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলার আয়তন ৮৯৫.৬৬ হেক্টর, যেখানে অন্তত ১১৭টি নদী ও খাল রয়েছে। এই নদী ও খালগুলো কৃষি উৎপাদনে সেচ এবং পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও প্রজননের জন্যও এগুলো বিশেষ স্থান। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে নদী ও খালে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। সরকারী নদী-খালের পাড় অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
দেশীয় মাছের প্রজনন ধ্বংস করতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী, নেটপাটা, বেড় জাল, চট জাল, ঠেলা জাল, মশারী জাল, ধর্ম জাল, ক্ষুদ্র ফাঁসের জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় মাছের সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। জনদাবীর মুখে, মৎস্য দপ্তরের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে খাল দখল, দূষণ এবং নিষিদ্ধ নেটপাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। তারা ব্যবহৃত জাল নেটপাটা জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়।
তবে বেআইনী কাজের সাথে জড়িতরা এতটাই বেপরোয়া যে, অভিযান শেষ হতেই তারা একই স্থানে আট ঘাট বেঁধে ফের নিষিদ্ধ জাল নেটপাটা ব্যবহার করতে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও দখলের মাত্রা বেড়ে যায়। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগ নেই। কেবল জাল নেটপাটা জব্দ করে এই সমস্যার সমাধান হবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। অপরাধীদের মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে তাৎক্ষণিক জেল ও জরিমানা করতে হবে।
বর্তমানে উপজেলার কামারখোলা কংস মাড়ি খাল, বাজুয়া চড়া নদী, গুনারী খাল, নলিয়ান চমন মন্দির খাল, জয়নগর নদী, লাউডোপ খাল, চুনকুড়ি নলবুনিয়ার গেটখালসহ চালনা পৌরসভা এবং ৯টি ইউনিয়নের অধিকাংশ নদী ও খালে বেআইনী দখল, দূষণ এবং নিষিদ্ধ জাল নেটপাটা ব্যবহার হচ্ছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, "নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা অভিযান করছি।" উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেবগাতুল্ল্যাহ জানান, "দখল, দূষণ এবং বেআইনী নেটপাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, এটি চলমান থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোল্লাহাটে, বাগেরহাট জেলার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, অপরাধ প্রতিরোধ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
এছাড়া, সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ সাহেদ আলী, প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ ফারুকসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের চিতলমারীতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ২ হাজার ৪২টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা পরিষদ মোড়ে অবস্থিত মের্সাস রোহা এন্টারপ্রাইজে আইনগতভাবে মজুত রাখা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ এসব গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ রিয়াদ মুন্সিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার এ আদেশ প্রদান করেন।
সিলিন্ডারগুলোর আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। সিলিন্ডারগুলো চিতলমারী থানার অভ্যন্তরে রাখা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী মের্সাস রোহা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ রিয়াদ মুন্সি ৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখতে পারবেন। কিন্তু তিনি ২ হাজার ৪২টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখেছেন, যার মধ্যে ১৭৪টি পূর্ণ সিলিন্ডার এবং ১ হাজার ৮৬৮টি খালি সিলিন্ডার রয়েছে।
এতো মজুদ সিলিন্ডার রাখার সঠিক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। তাছাড়া জব্দকৃত অনেক সিলিন্ডারের মেয়াদ ২০২২ ও ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে।
এগুলো সরাসরি কোম্পানী থেকে আনার কথা। কিন্তু তিনি বাইরে থেকে রিফিল করান।
যার কারণে অতিরিক্ত মজুদ রাখা এবং বেআইনী কাজ করার জন্য আমরা পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬ এর ২০(১) ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ রিয়াদ মুন্সিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। তাছাড়া ৪০টি সিলিন্ডার বাদে বাকি সিলিন্ডারগুলো জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মিলন কুমার ঘোষ জানান, জব্দকৃত সিলিন্ডারগুলো থানায় রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ রিয়াদ মুন্সিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের রাস্তার পাশে অবস্থিত বৃহৎ বৃক্ষ শুকিয়ে বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে পথচারী ও স্থানীয় জনগণ প্রাণ ভয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
অশাশুনির মানিকখালী ব্রীজ থেকে শুরু করে বড়দল ব্যস্ততম সড়কে ফকরাবাদ গ্রামে রাস্তার একেবারে পাশে ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে শিশু চটকা গাছটি বেড়ে উঠেছে। ফকরাবাদ শ্যামা মিস্ত্রীর মিলের মোড়ে জনসমাগম স্থানে বিনয় সরকারের কাঠগোলা, ধান, হলুদ ও তেলের মিল, বিল্লাল গাজীর চা স্টলসহ বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। মসজিদ, স্কুল ও ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় এখানে প্রতিদিন বহু মানুষের সমাগম ঘটে। রাস্তার উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন, ফকরাবাদ সরকারি প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রছাত্রী, সাধারণ জনগণ এবং দূরদূরান্তের পথচারীরা চলাচল করে থাকে। গাছটির দুটি বড় শাখা রাস্তার উপর ছায়া ফেলেছিল। কিন্তু ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে শাখা দুটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। মূল গাছটিও প্রায় মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। শুকনো শাখা দুটি রাস্তার উপর এমন বিপদজনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে যে, যে কোন সময় ভেঙে পড়লে জীবনহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী, স্কুলের পিটিএ সভাপতি, ইটভাটা ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, গাছটি রাস্তার উপর ঝুঁকে পড়েছে। শুকনো বড় আকৃতির ডাল দুটি যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, পথচারী ও যানবাহনগুলো রীতিমত হুমকির মধ্যে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। জেলা পরিষদকে অবহিত করা হলেও কেন গাছটি কাটা হচ্ছে না, তা জানা যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, গাছটি কেটে ফেলা হোক, অথবা কোন প্রতিষ্ঠানে দান করে দিলে তারা তা কেটে নেবে।
আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, গাছটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক। ঝড়-বৃষ্টি বা যে কোন সময় ভেঙে পড়ার শঙ্কায় পথচারী ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। তিনি দ্রুত গাছটি কেটে নেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের কাছে দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ