বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৯ এম
কেনাকাটা করতে আমরা প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গিয়ে থাকি। দেখা গেল, রাজধানীতে আজ আপনি যেখানে কেনাকাটা করতে যাবেন ওই এলাকা বন্ধ, তখনই পড়তে হবে মহাবিড়ম্বনায়।
তাই যাওয়ার আগে দেখে নিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার মার্কেট
পাবলিক ওয়ার্কস সেন্টার, ইউনিটি প্লাজা, যমুনা ফিউচার পার্ক, নুরুনবী সুপার মার্কেট, ইউনাইটেড প্লাজা, কুশল সেন্টার, এবি সুপার মার্কেট, আমির কমপ্লেক্স, উত্তরার মাসকট প্লাজা।
যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ
বারিধারা, সাঁতারকুল, শাহাজাদপুর, নিকুঞ্জ-১, ২, কুড়িল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মধ্য ও উত্তর বাড্ডা, জগন্নাথপুর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, জোয়ার সাহারা, আশকোনা, বিমানবন্দর সড়ক ও উত্তরা থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত এলাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, একই স্থানে নতুন দোকান; রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৯ নম্বর সাপলেজা বাজারে প্রায় ৩০ বছর ধরে গরুর মাংসের ব্যবসা করে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে শামীম পহলান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় প্রতিটি গরু জবাইয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে একই স্থানে নতুন মাংসের দোকান চালু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী মাংস ব্যবসায়ী ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে মাংসের ব্যবসা করছি। হঠাৎ করে আমার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিটি গরুর জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। আমরা এতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ইদ্রিসের অভিযোগ, তাঁদের উচ্ছেদের পর একই জায়গায় শামীম পহলান ও তাঁর অনুসারীরা নতুন দোকান চালু করেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসা হারিয়ে তাঁরা এখন পরিবার নিয়ে জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
তবে শামীম পহলান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন এবং পরে ওই মাংস অন্য মাংসের সঙ্গে মেশানোর চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, গরুটি অসুস্থ হয়ে থাকলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, প্রশাসন বা পুলিশকে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন। গরুটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেছিলেন কি না—এ নিয়েও তাঁরা তদন্ত দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার ভাষ্য, সাপলেজা বাজারে শামীম পহলান ও তাঁর সহযোগীরা এখন *মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন*। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “শামীম পহলান বাহিনী”র প্রভাবের কারণে সাপলেজা বাজারে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শামীম পহলানের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বাজারে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন দোকানে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
মাংস ব্যবসায়ী ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সাপলেজা বাজারের বিএনপির কিছু নেতা শামীম পহলানকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে আমাদের অভিযোগ। সেই প্রভাবের কারণে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও আমরা প্রতিকার পাইনি।”
তিনি বলেন, “এখন আমাদের শেষ ভরসা আমাদের এমপি মহোদয়। তিনি মঠবাড়িয়ায় এলে আমরা তাঁর কাছে সব বিষয় তুলে ধরব। আশা করি, তিনি বিষয়টি শুনে স্বচ্ছ বিচার করবেন এবং আমাদের পাশে থাকবেন।”
তবে শামীম পহলানকে বিএনপির কোনো নেতা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন—এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিএনপির সঙ্গে শামীম পহলানের আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা বা কোনো পদ-পদবি রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক ও সাংবাদিক আব্দুস কুদ্দুস খান জানান, শামীম পহলানের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা থাকার কথা তিনি জানেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে শিক্ষক আব্দুস কুদ্দুস খানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় শামীম পহলানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আহত কুদ্দুস খানকে প্রথমে পিরোজপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশে মঠবাড়িয়া থানায় এ ঘটনায় এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পূর্ববর্তী সময়েও শামীম পহলানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা ছিল। এর মধ্যে হত্যা মামলার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব মামলার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, মামলা নম্বর এবং বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডির কাছে ভুক্তভোগী মাংস ব্যবসায়ীদের ভিডিও বক্তব্য, অডিও রেকর্ডিং, শিক্ষক আব্দুস কুদ্দুস খানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলার কপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষিত রয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলো প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শামীম পহলানের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যবসা থেকে তাঁদের উচ্ছেদ, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং একই স্থানে নতুন দোকান চালুর ঘটনাসহ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের পাশাপাশি সাপলেজা বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ নৈশভোজের আয়োজন করেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে আয়োজিত এ নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহামেদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সেটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে সেটির আয়োজন বিবেচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ফের ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ভালো মানের স্বর্ণের মূল্য এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকে। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।
বাজুস জানায়, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
বাজুস আরও জানায়, পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলায় প্রীতি গ্রুপের মালিকপক্ষের কাউকে আসামি করা হয়নি। কারখানার জিএম, এজিএম, প্রকৌশলী এবং হেলপারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির এলপিজি প্ল্যান্ট এলাকায় বিপজ্জনক ও অরক্ষিত অবস্থায় রাখা সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিস্ফোরণের ফলে কারখানার ভেতরে ও আশপাশে ছিটকে পড়া সিলিন্ডারের আঘাতে সাতজন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন শ্রমিক ও পথচারী মারাত্মক দগ্ধ ও আহত হন।
এই ঘটনার পর ২২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে একটি অবহেলাজনিত হত্যার মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণীতে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, প্রকৌশলী মো. রাজীব হোসেন, হেলপার মো. আল আমীন ও মো. এনামুল। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শীর্ষ ব্যবস্থাপনার দায় নিশ্চিত হলেও বাদ রাখা হয়েছে রাজীব আহমেদ তালুকদারের পরিবারকে। প্রীতি গ্রুপের সিইও রাজীব আহমেদ তালুকদার (পিয়াল) কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ সম্পাদক এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। তিনি বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মা পারভীন তালুকদার প্রীতি গ্রুপের পরিচালক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল’ ও ‘প্রীতি উলওয়্যার’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের (বরিশাল) সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রীতি গ্রুপের মূল এমডি হিসেবে রয়েছেন রেজিন আহমেদ তালুকদার।
মামলা দায়েরের আগে প্রীতি গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আহত ও নিহতদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, রাজীব আহমেদ (পিয়াল) সিইও পদে থাকলেও গত ৪-৫ বছর ধরে এই প্রজেক্টে নিয়মিত আসেন না, প্রকল্পের কার্যক্রম মূলত এমডি রেজিন আহমেদ তালুকদার দেখভাল করেন। কারখানা পরিচালনা ও দায়িত্ব বণ্টন প্রজেক্টভিত্তিক আলাদা করা হয়েছে। সিলিন্ডার রিফিল বা সরবরাহের দায়িত্ব থার্ড পার্টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের, তাই কারখানার নিজস্ব কোনো সিলিন্ডার তৈরির ব্যবস্থা নেই।
আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, "ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ৯২ নাম্বার মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে যাদের দায়-দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে এজাহারে তাদের নাম আনা হয়েছে।" মামলায় ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তিনি জানান, "পরবর্তীতে তদন্তে যাদের গাফিলতি বা অনিয়মের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে। তবে মালিকপক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, মালিকপক্ষকে আড়াল করে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, "কোনো কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার কেবল বেতনভুক্ত সাধারণ কর্মচারীদের ওপর চাপানো অযৌক্তিক। বড় পদে থাকা মালিক কিংবা নির্বাহী পরিচালকদের গাফিলতিতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। যানবাহন দুর্ঘটনা হলে যেমন মালিকের দায় আসে, তেমনি কারখানার অগ্নিকাণ্ডেও মূল দায়িত্ব মালিকপক্ষের। সাধারণ কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে মালিকদের আড়াল করা শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসন মুলক আচরণ।
ঘটনার পর প্রীতি গ্রুপের এমডির ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। একাধিকবার চেষ্টা করার পরও তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত রোববার প্রীতি গ্রুপের এস সূহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারখানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে আকস্মিক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির ভেতরে থাকা সিলিন্ডারগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে লরির ভেতরে ও আশপাশে থাকা ব্যক্তিরা দগ্ধ হন। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা লরির ভেতর ও প্রাঙ্গণ থেকে মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় ৫টি মরদেহ উদ্ধার করেন।
বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শক্তিতে লরি বা সিলিন্ডারের একটি অংশ ২০০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে কাপড়ের দোকানের সামনে বসে থাকা মোছাম্মৎ জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক নারী পথচারীর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া দগ্ধ ও গুরুতর আহত অন্তত ২৬ জনকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বুলবুল হোসেন (৪৫) ও নজরুল ইসলাম (৫২)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ