১০:৩৮ পি.এম
বাংলাদেশের জন্য ঢাকা টেস্টে জয়টি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে নিজেদের পছন্দের কন্ডিশন তৈরি করেও টাইগাররা পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ব্যর্থতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পরেও বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে টাইগাররা ১৪২ রান করে ১৭০ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। অধিনায়ক বলেছেন, '১৭০ হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওটা হয়নি। ওদেরকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কিন্তু আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।'
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনাররা একটি উইকেটও নিতে পারেননি। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান স্পিনাররা ৯ উইকেট নিয়েছেন, সেখানে ঘরের মাঠে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী মিরাজরা কোনো উইকেট নিতে পারেননি। অধিনায়কের কণ্ঠে স্পিনারদের বোলিং নিয়ে হতাশা স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, তিন ফরম্যাটে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী
তিনি মন্তব্য করেছেন, 'লেংথটা আমরা ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। অন্যথায় এত সহজে... বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে আমরা ওদের দুই উইকেট নিয়েছি। ম্যাচ হারলেও অন্তত ৭-৮টা উইকেট নিতে পারলে বুঝতাম যে রানটা কম হয়েছে। আমার মনে হয় একটু এলোমেলো ছিল (বোলিং)।'
চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের ভাগ্যও কিছুটা খারাপ ছিল। পাঁচবার আম্পায়ার্স কলে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা বেঁচে গেছেন। অধিনায়ক এটিকে দুর্ভাগ্যজনক বললেও অযুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না। তিনি বলেন, 'যখন ১৭০ রান টার্গেট হয় তখন আম্পায়ারস কল পাঁচটার মধ্যে তিনটা আপনার দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। এটা আম্পায়ারকে দোষও দেয়া যায় না। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে যদি তিনটা পেয়ে যেতাম বা শুরুতে যেটা পাইনি, সেটি হলে মোমেন্টাম ভিন্ন হতো। তবে এসব অযুহাত দিতে চাই না।'
বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর অধিনায়ক বলেন, 'সত্যি বলতে এখন একটু কঠিন। তবে আমি প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। এই ম্যাচে আমরা সেরটা খেলিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিভাবে ভালো কামব্যাক করতে পারি সেটাই চিন্তায় আছে।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে মাঠে নামার এক সপ্তাহ আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছিলেন দলের একাধিক ক্রিকেটার। অধিনায়ক এই প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বলেন, 'আমার মনে হয়, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এক ফরম্যাট ভালো হবে (প্রস্তুতি), আরেক ফরম্যাট ভালো হবে না। এগুলো তো থাকবেই। তবে আমার কাছে মনে হয়, আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। প্রতিটি ক্রিকেটার তাদের যে যে জায়গায় কাজ করা দরকার, সেই জায়গা থেকে প্রস্তুত হয়েই ম্যাচ খেলতে এসেছে।
আরও পড়ুন: অ্যাশেজের ব্যর্থতা ভুলে ওয়ানডেতে নতুন শুরুর পথে ম্যাককালাম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন