নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০১:২৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা বা অন্য কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। সম্প্রতি লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে জার্মানি বর্তমানে ‘গুরুতর হুমকির’ মুখে রয়েছে এবং দেশটি ধীরে ধীরে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন পাওয়া যায়। ওই সময় বিমানবন্দরে ইউক্রেনের কয়েকটি কার্গো বিমানও ছিল। তবে ড্রোনে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্রে ত্রুটি থাকায় এটি বিস্ফোরিত হয়নি।
পুলিশ পরে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে। তদন্তকারীদের ধারণা, কাছাকাছি থাকা একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে আরেকটি ড্রোনের সংঘর্ষ হতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ ঘটনার পেছনে রাশিয়ার হাত থাকতে পারে।
তবে জার্মান সরকার সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি। মস্কোও এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি জার্মান সামরিক বাহিনী এবং ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ইউক্রেনের অ্যান্টোনভ এয়ারলাইনসের একটি ঘাঁটিও। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের বড় একটি অংশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন করে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের জন্যও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ।
মের্জ বলেন, ‘আমরা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, যার কিছু দেশের বাইরের উৎস থেকে আসছে। এসব সমস্যা আমরা কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারি না।’
তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি, এমনকি মানুষের আহত হওয়া বা প্রাণহানির ঝুঁকিও নিতে প্রস্তুত। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা পরে লাইপজিগ বিমানবন্দরের কাছে আরো একটি ড্রোন খুঁজে পান।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআর এবং সংবাদপত্র সুডডয়চে সাইটুং জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে হেক্সোজেন নামের একটি সামরিক বিস্ফোরকের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
নিউহার্ডেনবার্গে সরকারি জোটের এক বৈঠকের ফাঁকে মের্জ বলেন, সরকার এ ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেছেন মের্জ। তিনি বলেন, জার্মান সরকার দৃঢ়ভাবে ইউক্রেনকে সমর্থন করে যাচ্ছে এবং বর্তমানে জার্মানিই ইউক্রেনের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক। তবে এই সমর্থনের লক্ষ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা নয়, বরং রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।
জার্মানিকে এ ধরনের হামলা থেকে আরো ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান মের্জ। এর মধ্যে শক্তিশালী ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জার্মানি। এর মধ্যে হামলাকারীদের কম্পিউটার সার্ভারে সাইবার হামলা চালানোর মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে জার্মানির সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর ও বিভিন্ন লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি অননুমোদিত ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, এসব ঘটনার কিছু রুশ এজেন্টদের পরিকল্পনা বা পরিচালনায় হয়ে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাপখেলা চলাকালে সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এন্দাজ মিয়া (৭৪) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত এন্দাজ মিয়া কাশিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত গহর উদ্দিনের পুত্র। অভিযুক্ত মানিক মিয়া কাশিয়াবাড়ি গ্রামের নুর ইসলামের সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে কাশিয়াবাড়ি বাজারে সাপখেলা চলছিল। এসময় সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে উপস্থিত দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টি ধাক্কাধাক্কি ও ঘুষি মারামারিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মানিক মিয়া (৪৫) এন্দাজ মিয়ার বড় ছেলে আব্দুল মালেকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারিতে জড়ান। পরে আবারও তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে খবর পেয়ে এন্দাজ মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় মানিক মিয়া তার ওপর চড়াও হয়ে ঘুষি মারেন।
এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত এন্দাজ মিয়ার বড় ছেলে আব্দুল মালেক বলেন, ‘সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধের জেরে আমার বাবাকে তারা হত্যা করেছেন।
স্বামীকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মালেকা খাতুন বলেন, ‘মানুষটা ভাত খেয়া এলায় (এইমাত্র) বাজার গেইল। কায়বা (কিছুক্ষণ) আসি কইছিল, ক্যাথা বালিশ ধরি বাজার চল। তোমার স্বামী এই দুনিয়াত আর নাই।’
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এখন মানুষ যেন মানুষ নেই। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনা মেনে নিতে কষ্ট হয়।’
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষ অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাদান ও হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বাসকপ) টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল রানা, সহ-প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টিটু ও সদস্য তানিয়া ইসলামকে টাঙ্গাইল শহরের ঢাকা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিককে বাধা, হেনস্তা বা হয়রানি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো গণমাধ্যমকর্মী যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বাসকপ) টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
”২৬ আগস্ট ২০২৬” ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকায় বাইপাস সড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (স্ত্রী) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী সেনাসদস্য সোহেল কাজী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত বাসটি আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি নড়াইলের লোহাগড়া থানার লক্ষীপাশা গ্রামের সেনাসদস্য সোহেল কাজীর স্ত্রী। আহত সোহেল কাজী চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর বিএমএ শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নড়াইল থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে সঙ্গে নিয়ে শৈলকুপার বড়দাহ এলাকায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন সোহেল কাজী। পথে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি নিহত হন। গুরুতর আহত সোহেল কাজীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ