শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৩ পি.এম
রাজধানীতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর বিক্ষোভ প্রতিহত করতে পুলিশের সংগৃহীত ১,৫৫০টি কনটেইনারের জন্য সরকারকে দৈনিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি খরচ করতে হবে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটিআই তাদের নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার ফলে ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল পুলিশের চাওয়া নিরাপত্তা বাজেট কার্যত দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি (১ বিলিয়ন) রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। এই ঘোষণার পর ইসলামাবাদ পুলিশসহ অন্যান্য স্থানে প্রস্তুতি শুরু হয়। পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়া এবং কনটেইনারের ভাড়া মেটানোর জন্য তারা ৮২ কোটি (৮২০ মিলিয়ন) রুপি বাজেট আবেদন পাঠিয়েছে।
‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে কনটেইনারগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি পুলিশের হেফাজতে রাখা হবে। পুলিশ মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিক্ষোভ ও লংমার্চ ৪ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার হিসাব করে এক সপ্তাহের বাজেট নির্ধারণ করেছিল। তবে বিক্ষোভের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
নিসার হোসেন জাফরি জানান, সমিতি প্রথমে ৪০ ফুট ও ২০ ফুটের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া যথাক্রমে ৪০,০০০ ও ২০,০০০ রুপি দাবি করেছিল। পরে তা সংশোধন করে সব আকারের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া ৩০,০০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়।
পিটিআই লংমার্চ স্থগিত করার পর কনটেইনারগুলোর বিষয়ে পুলিশের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, তাদের দাবিকৃত দর অনুযায়ী ১,৫৫০টি কনটেইনারের প্রতিদিনের ভাড়া ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি। এক সপ্তাহের ভাড়া ৩২ কোটি ৫৫ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহের ভাড়া ৬৫ কোটি ১০ লাখ রুপি।
সূত্র আরও জানায়, পুলিশ পাঞ্জাব থেকে ১৬,০০০ এবং সিন্ধু পুলিশ থেকে ২,০০০ অতিরিক্ত সদস্যের চাহিদা দিয়েছিল। সিন্ধু পুলিশের দলটি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাদের পুলিশ লাইন্স হেডকোয়ার্টার্স, ফয়সাল মসজিদ এবং জি-১৩ সেক্টরের কমিউনিটি সেন্টারে মার্কি (অস্থায়ী তাবু) খাটিয়ে রাখা হয়েছে।
আগামী এই সদস্যদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। জনপ্রতি তিন বেলার খাবারের খরচ ৬০০ রুপি। সেই হিসেবে সিন্ধু পুলিশের ২,০০০ সদস্যের খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ১২ লাখ রুপি। এক সপ্তাহে এই ব্যয় দাঁড়াবে ৮৪ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপি।
তবে পাঞ্জাব পুলিশের কাঙ্ক্ষিত দলটি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। সূত্রের খবর, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যেই ১৬,০০০ সদস্যের দলটির পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঞ্জাব পুলিশের কোনো সদস্য রাজধানীতে এসে পৌঁছাননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াতের জন্য প্রায় ৭০টি কোস্টার, ৩০টি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ি এবং বেশ কিছু বাস ভাড়া করা হয়েছে। একটি কোস্টারের দৈনিক ভাড়া ১৫,০০০ রুপি হিসেবে ৭০টি কোস্টারের দিনে লাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি। অন্যদিকে, একটি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ির প্রতিদিনের ভাড়া ১০,০০০ রুপি ধরে ৩০টি গাড়ির জন্য দিনে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ রুপি।
এছাড়া বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জন্য শহরজুড়ে ১৩টি হোটেলে ১৭৫টি রুম বুক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৪৬ জন পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর), ৫৮ জন সহকারী ও ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, পুলিশ সুপার, ১০ জন সিনিয়র পুলিশ সুপার এবং ৮ জন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের (ডিআইজি) থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৩টি হোটেলের মধ্যে ১১টি হোটেলের ১৫৭টি রুম বুক করা হয়েছে ইনস্পেক্টর থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য। এসব রুমের দৈনিক ভাড়া ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ রুপি, যা এক সপ্তাহে দাঁড়ায় প্রায় ৫২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ রুপি।
পাঞ্জাব পুলিশের ফোর্স এখনও না পৌঁছালেও তাদের তিন বেলার খাবারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা হয়েছে দৈনিক ৯৬ লাখ রুপি, যা এক সপ্তাহে গিয়ে ঠেকবে ৬ কোটি ৭২ লাখ রুপি।
তবে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা বাসগুলোর ভাড়া এবং ডিআইজি ও এসএসপিদের জন্য দুটি হোটেলে বুক করা ১৮টি রুমের খরচের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
এদিকে, ‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান নিসার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব পুলিশ তাদের কর্মীবৃন্দসহ অন্তত ২,৭০০টি পণ্যবাহী গাড়ি নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি গাড়ি ও তার চালক-সহকারীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাকিদের বিভিন্ন থানায় আটকে রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পুলিশ চালক ও কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার না করলেও থানা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, কেবল খাবারের ব্যবস্থাটুকু করছে। পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন, গাড়ির কাগজপত্র এবং চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কনটেইনার ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের থানায় রেখে দেওয়া হবে। এসব বড় কনটেইনার চালানোর জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হওয়ায় মূলত তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়েছে যেন প্রয়োজনমতো গাড়ি চালানো যায়।
ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ঝং, হাসানআব্দাল, অ্যাটক, কামোকে, তক্ষশীলা, ঝিলম, মিয়ানওয়ালি, চকওয়াল, ফয়সালাবাদ এবং গুজরাট থেকে এসব যান ও কর্মীদের আটক করা হয়। আটক ২,৭০০টি গাড়ির মধ্যে ৪৫০টিতে ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য ও রাসায়নিক সামগ্রী বোঝাই ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নগরবাসীর সচেতনতার বিকল্প নেই। তিনি বাসাবাড়ির ছাদ, ড্রেন ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ অভিযান ‘ক্লিনিং ডে’ উদ্বোধন করার পর তিনি এই বক্তব্য দেন।
মো. আবদুস সালাম বলেন, "বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।"
তিনি আরও বলেন, "সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকাকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।"
এ সময় তিনি বিরোধী দলকে জনভোগান্তি তৈরি হয়, এমন কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এক দফার হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না। বিএনপি জনগণের দল।"
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান ডিএসসি প্রশাসক। তিনি গণতন্ত্রকে নস্যাৎ না করে ধৈর্য ধরে সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জাতিসংঘে সারা বিশ্ব ও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মো. আবদুস সালাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুক্রবার দেশটিতে স্পোর্টস বেটিং বা খেলাধুলার ফল নিয়ে অনলাইন বাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
এই খাত বন্ধের সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মাত্র কয়েক দিন পর। লুলা চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে জুয়া ও অনলাইন বেটিং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক মানুষ ঋণের মধ্যে পড়েছেন।
জনমত জরিপগুলোতে এই শিল্পের বিরুদ্ধে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। লুলা নিজেও বেটিং শিল্পকে ‘ক্যানসার’ বলে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার লুলার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘দেশে বেটিং সাইটগুলোতে আর টাকা জমা করা সম্ভব হবে না।’
আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম দফার ভোটের আগে, লুলা সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের মধ্যে এটি সর্বশেষ।
নির্বাচনী জনমত জরিপে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে লুলার ব্যবধান খুবই কম।
২০২৩ সালে স্পোর্টস বেটিং বা বাজি ধরার বাজারের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালু হওয়ার পর থেকে ব্রাজিলে এই বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।
রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম— সবখানেই ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রীড়া তারকাদের মাধ্যমে ব্যাপক বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে।
দেশটির শীর্ষ বিভাগের ২০টি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাবের জার্সিতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অনলাইন বেটিং কোম্পানির নাম রয়েছে।
ফুটবল তারকা নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও এই শিল্পের বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে রয়েছেন।
সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেটিং ব্যবসার জন্য ৮৫টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লাইসেন্সের মূল্য ছিল ৩ কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বা প্রায় ৫৭ লাখ ডলার। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।
অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান জানান, বেটিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন বিজ্ঞাপন চুক্তিও তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা চুক্তিগুলো ৬ অক্টোবরের পর বাতিল হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ওই তারিখের পর দেশে ‘কোনো সাইট, কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা কোনো বৈধ বেটিং স্পনসরশিপ থাকবে না।’
ফুটবল ক্লাবগুলোর আপত্তি
ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ফ্লামেঙ্গো এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্রাজিলের ক্রীড়াঙ্গনের ওপর বড় আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।
ক্লাবটির আশঙ্কা, এর প্রভাব শুধু পেশাদার ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুব একাডেমি, নারী ফুটবল, অলিম্পিক ক্রীড়া ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এক বিবৃতিতে ফ্লামেঙ্গো বলেছে, ‘ব্রাজিল স্পোর্টস বেটিং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা করেছে।
একটি নিয়ম তৈরি করে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পর রাতারাতি পুরো নিয়ন্ত্রক কাঠামো বদলে দেওয়া যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পর ফেনী সফরে যাচ্ছেন। সফরের ঘোষণা ১৭ সেপ্টেম্বর করা হলেও তা পিছিয়ে ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশাসন বৈঠকের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও সভা করছেন।
ফেনী সফরের সময় জেলার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা করছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু জানান, ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালু করা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির খন্দকার ফেনীতে মেডিক্যাল কলেজের জন্য জোর দাবি তোলেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত করা হলেও ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনী আগমন করবেন।" পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে। এছাড়া, পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
আরো পড়ুন
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বৈঠক
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সফরে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কর্মসূচির প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়ে তা থেকে রক্ষা পাবে। সামগ্রিকভাবে এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবে। প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তীতে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সফরে প্রধানমন্ত্রী তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন।
আরো পড়ুন
ফেনীর নতুন ডিসি মাহবুবউল করিম
এছাড়া, বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।
এদিন ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ জনসভাস্থল থেকে ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এই ঘোষণার পর ফেনী জেলার ছয় উপজেলাতে ৬টি পৌরসভা গঠিত হবে। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৈতৃক বাড়ি ও নিজের নির্বাচনী এলাকা ফুলগাজীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৯৯৩ সালে লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি জানাবেন বিএনপি নেতারা। এটি চালু হলে জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসার প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ১ অক্টোবর ফেনী সফরের সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। শুক্রবার দিনভর ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করেন ডিআইজি। এ সময় তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
আরো পড়ুন
শেল্টার থেকে জাতিসংঘে, ইরানের নেতাদের সফল কূটনীতি
আজ শনিবার ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দোসরদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করতে। তিনি একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখার জন্য পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
আরো পড়ুন
মুমিনের চূড়ান্ত প্রত্যাশা জান্নাতুল ফিরদাউস
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদের, আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব। গত সপ্তাহে এরকম দুজন ফ্যাসিবাদের শক্ত দোসর গ্রেপ্তার হয়েছে, গতকালও একজন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের ইন্টেলিজেন্স সাপোর্টকে আমি সবচেয়ে উত্তম মনে করি। আপনাদের ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট আপনারা ইউজ করুন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। তারা যদি স্বেচ্ছায় আসে, আইনের মুখোমুখি হয়, তাহলে তো ভালো। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, আইনের নিজের কোর্স অনুযায়ী চলবে।’
অনুষ্ঠানে ৯৮ পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ