বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:১৬ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যাবে না। 'জুলাই সনদে' অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) 'জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে টাঙ্গাইল জেলা হ্যাপি মাঠ স্মৃতি চত্বরে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তিনি ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ঘটনার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তা সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করব।' গণতন্ত্রের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, সেই সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। বর্তমান সরকার অনিয়ম দূর করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাইয়ের শহিদরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, সেই গণতন্ত্র যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।' বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সরকার শহিদ ও আহত পরিবারের পাশে রয়েছে। তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।' আলোচনাসভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং শহিদ ও আহত পরিবারের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানোর দাবি জানান বক্তারা। সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মহসিন কবিরসহ সকল শহিদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এসময় মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে খরিপ মৌসুমে মরিচ, পেঁয়াজ ও নানা শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজি। এছাড়া এমপির প্রতিনিধি তাজউদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জীবন ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব ও ফারুকও উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খরিপ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালীন উন্নত (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের শাকসবজির বীজ ও সার সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার কৃষককে শাকসবজির বীজ ও সার এবং ৩০০ কৃষককে হাইব্রিড মরিচের বীজ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি কৃষককে শাকসবজির জন্য ৩০০ গ্রাম বীজ, এমওপি ১৫ কেজি এবং ডিএপি ১৫ কেজি সার প্রদান করা হয়। অপরদিকে, মরিচ চাষিদের প্রত্যেককে ১০ গ্রাম হাইব্রিড মরিচ বীজ, এমওপি ৫ কেজি, ডিএপি ৫ কেজি এবং ১ কেজি বালাইনাশক দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে প্রান্তিক কৃষকরা নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন।
এসময় উপস্থিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সঠিক পদ্ধতিতে বীজ বপন ও সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ মহা পরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আজ বলেছেন যে, পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার সকালবেলায় রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ৪২তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
আইজিপি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পুলিশ ব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনয়ী, মানবিক ও বন্ধুসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সেবা নিতে আসা মানুষের যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের সর্বদা সজাগ থাকার জন্য বলেন। তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল অপরাধ প্রবণতা বিশেষ করে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের অনলাইন জুয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোসহ প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, তাঁদের সন্তানরা আজ থেকে রাষ্ট্রসেবার এক গৌরবময় দায়িত্ব পালন করার সুযোগ লাভ করেছেন।
তিনি ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’—এই আদর্শকে ধারণ করে দেশ সেবার মহান ব্রতে আত্মনিয়োগের জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী এসআইদের অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেছেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেছেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ এসআইদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৭
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন, দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা। তিনি উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নানান অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন।
তবে দেশের জনগণই এসব অপকৌশল প্রতিহত করবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকদের সাথে। সেখানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করেছেন তিনি। এ সময় শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেছেন, ‘দুই বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা তিনিও সমান অপরাধী। তারও বিচার হওয়া উচিত।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে পারলে জুলাই-আগস্টের সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।’
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম।
এদিকে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ মেহেরনামা গ্রামের বাড়িতে শহীদ ওয়াসিম আকরামের মা জোছনা বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি ছেলে ওয়াসিমের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরের একটি কোণে যত্ন করে রাখা ওয়াসিমের ক্রেস্ট, বিভিন্ন উপহার ও ছবিগুলো বারবার স্পর্শ করেন। কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে যায় তার।
জোছনা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে খুব মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। বাজার থেকে শুকনো খাবার এনে দিয়েছিল, বাড়ির সব কাজও করেছে। কবরের পাশে গেলে ফিরতে মন চায় না। মনে হয়, ছেলেটা এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়, একইভাবে জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আজীবন সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে জানান, শহীদদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীভাতা প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে মাদারীপুরে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহরের শকুনি লেকপাড়ে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এমপি জাহান্দার আলী মিয়া আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্র আজীবন সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করবে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের মতো তাদের পরিবারও সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হলে সেটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মাদারীপুরের ১৭ জন সহ সারা দেশের সব শহীদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জাতীয় সংসদও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। এরপর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং অবদান স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছে। এই বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না দেশের মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ