ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পাহারাদার হিসেবে থাকবেন যুবদল: নুরু উদ্দিন


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পাহারাদার হিসেবে থাকবেন যুবদল: নুরু উদ্দিন

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় যুবদলের নেতাকর্মীরা পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ নুরু উদ্দিন নুরু সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মিলিত উৎসব উদ্‌যাপন এবং সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সুন্দর ফটিকছড়ি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই আহ্বানটি তিনি গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জানান।

নুরু উদ্দিন নুরু বলেন, "যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।" তিনি আরও বলেন, "সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।" ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মিলেমিশে উৎসব উদ্‌যাপন করা তাঁদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন: প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে ওএসডি হয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার

তিনি প্রথমে ফটিকছড়ি পৌরসভার সেবাখোলা পূজামণ্ডপ এবং পরে রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরের দিন পালপাড়া পুজা মন্ডপ ও কচুয়ারপাড় পুজা মন্ডপেও তিনি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি দুস্থ মানুষের মাঝে উপহার হিসেবে বস্ত্রসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিন্টু নাথ, সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিন, হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণফ্রন্টের সদস্য বাসু নাথ, মোহাম্মদ সাইফু উদ্দিন মানিক, যুবদল নেতা মোহাম্মদ বাহাদুর, নুরুল আফছার, আব্দুর রহিমসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে চট্টগ্রামে সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীকে বরণে চট্টগ্রামে সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন কার্যক্রম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করার জন্য চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক নগরী হিসেবে সাজানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে।

তবে এই উদ্যোগগুলো শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং নগরবাসীর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নগরের ঐতিহাসিক জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, "চার দিন আগেও জেএম সেন হলের যে চিত্র ছিল, বর্তমানে তার আমূল পরিবর্তন হয়েছে।" চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জায়গাটিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী এখানে এলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের একটি সুন্দর প্রতিফলন দেখতে পাবেন।"

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে চসিক মেয়র বলেন, "ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।" যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসসহ যারা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। মেয়র উল্লেখ করেন, একসময় এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সেগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের পরিবর্তন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, "এখানকার সার্বিক পরিবেশ, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।" প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। অন্যান্য দৃশ্যমান উপস্থাপনাও নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করা হয়েছে, বিভিন্ন সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে এবং বোট ক্লাব সড়কেও উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পর কাজ শুরু করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বিমানবন্দর সড়ক ও ভিআইপি সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন বলেন, "বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিদর্শন করেছি।" গত কয়েক মাস ধরে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা চাই, চট্টগ্রামে প্রবেশের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও আগত অতিথিরা একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগরীর চিত্র দেখতে পান।" সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরবাসীর আগ্রহ ও উৎসাহের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, "চট্টগ্রামের মানুষ আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন।" নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী মা-বোনেরাও তাকে বরণ করতে উচ্ছ্বসিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শারদীয় উৎসব উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


বালিয়াকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শারদীয় উৎসব উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

সারাদেশে চলছে শারদীয় উৎসব , তেমনি বেড়েছে গরিব-দুঃখী মানুষের দুর্ভোগ। ছিন্নমূল অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এই শারদীয় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে

‎রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের একদল তরুণ যুবকদের নিজস্ব অর্থায়নে ১৯ শে অক্টোবর বিকেলে সুইজগেট ডক্টর,স কেয়ার এন্ড ফার্মেসীতে

‎স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০ টি অসহায় হত দরিদ্র পরিবারের  মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন সংগঠনটির যুবকরা।

‎স্বপ্ন ছোয়া ফাউন্ডেশনের শতাধিক  সদস্যের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে বস্ত্র  কিনে দিচ্ছেন ছিন্নমূল হতদরিদ্র ও বিধবা মানুষদের। 'ঐক্য শক্তি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘অগ্রগামী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ গড়ে তুলছেন যুবকরা।

‎

‎বিতরণ করা এসব বস্ত্র দেওয়া হয়েছে গ্রামের আশে পাশের মানসিক ভারসাম্যহীন, বিধবা, বয়স্ক পুরুষ ও নারীদের।

‎এছাড়া বালিয়াকান্দি  সদর ইউনিয়নের বকচর সুইজগেট এলাকায়  একটি মানবিক দেয়াল তৈরি করেছে সংগঠনটি। এছাড়াও অসুস্থ অসহায়ের পাশে দাড়ানো, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের  পড়ালেখার খরচ চালানো, সহ বিভিন্ন সামাজিক মানব কল্যাণ মূলক কাজের সাথে জড়িত হয়ে উঠেছেন সংগঠনটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির লাশ আনার চেষ্টা চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির লাশ আনার চেষ্টা চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির লাশ বিমানের অন্য ফ্লাইটে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি হস্তান্তর ও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন শেষে এই তথ্য জানান।

সৌদি সরকার গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা জানিয়েছে যে, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঢাকাকে পূর্বে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। এই ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের শেষ নেই।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি বগুড়া এবং অন্যজনের কুমিল্লা। একজন ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন, অপরজন মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার ছিলেন।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত “ইএসডিপি-এমওসি” চুক্তি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরাও সেখানে সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও ভালো বেতনের সঙ্গে স্থানীয়রা যে সুবিধা পান, একই সুবিধা পাবেন।’

এ সময় তিনি আরও জানান, সৌদিতে ওমরাহ করতে গিয়ে অনেকে আটকে আছেন। সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। সিকিউরিটি কঠিন থাকায় বাংলাদেশ থেকে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং দু-এক দিনের মধ্যে তথ্য জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব

হজ একটি প্রেমময় ইবাদত। হজের মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে রবের সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। আরবি ভাষায় হজ শব্দটির অর্থ হলো- ইচ্ছা করা, সফর করা, ভ্রমণ করা। ইসলামি পরিভাষায় হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কাজ সম্পাদন করা। সংক্ষেপে, ঋণমুক্ত ও শারীরিকভাবে আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য হজ ফরজ। পরিবারের আবশ্যকীয় খরচ বাদে, মক্কা শরীফ থেকে হজ করে ফিরে আসা পর্যন্ত যাতায়াতের মোটামুটি খরচ যার কাছে থাকে, তার ওপর হজ ফরজ। এই ফরজ কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করা আবশ্যক। প্রত্যেক সক্ষম মুসলমান নর-নারীর জন্য একবার হলেও হজ সম্পাদন করা অপরিহার্য। হজযাত্রীদের উচিত আগেভাগে প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

নিয়তের শুদ্ধতা

প্রতিটি কাজের জন্য নিয়ত আবশ্যক। যে কোনো ধরনের আমল কবুল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিয়তের শুদ্ধতা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয় নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ০১)

পার্থিব যশখ্যাতির মোহে না পড়ে, একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজের নিয়ত করা উচিত। হজকে পার্থিব যেকোনও ধরনের খ্যাতির বাইরে রাখতে হবে। অন্যথায় তা রিয়া বা লোক দেখানো আমল হিসেবে গণ্য হবে। হাদিসে রিয়াকে ছোট শিরক বলা হয়েছে। ছোট শিরক বুকে ধারণ করে হজ করলে হজ কবুল না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এমন হজ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেছেন, "হে আল্লাহ! এমন হজের তওফিক দাও, যা হবে রিয়া ও সুনাম কুড়ানোর মানসিকতা হতে মুক্ত।" (ইবনে মাজাহ : হাদিস ৮৯০)

হজ যাত্রার প্রস্তুতি নেয়া

আপনার হজের গন্তব্যানুসারে যাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি নোটারি করে নিন এবং বিমানের টিকেট ও মেডিকেল সার্টিফিকেটের ফটোকপি তৈরি করুন। বাসায়ও এর কপি রেখে দিন। অতিরিক্ত ১০ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ১০ কপি স্ট্যাম্প সাইজের রঙ্গিন ছবি সঙ্গে নিন। মজবুত চাকাওয়ালা মাঝারি বা বড় আকারের ১টি ব্যাগ/লাগেজ সঙ্গে রাখুন। মূল্যবান জিনিসপত্র (টাকা, টিকেট, পাসপোর্ট ইত্যাদি) রাখার জন্য ১টি কোমর/কাঁধ/সৈনিক ব্যাগ নিন। দুই জোড়া করে চশমা ও কোমল স্লিপার সেন্ডেল এবং এগুলো রাখার জন্য ছোট পাতলা কাপড়ের একটি ব্যাগ রাখুন। রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছোট সাদা বা বিশেষ রঙের ছাতা অথবা ক্যাপ রাখতে পারেন। সব ধরনের খরচ ও হজ প্যাকেজ সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

হজযাত্রায় প্রয়োজনে একাধিক সামগ্রী রাখতে পারেন। যেন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে সহজে পাওয়া যায়। হজসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, পুরুষের ইহরামের কাপড়; কমপক্ষে দুই সেট (গায়ের জন্য আড়াই হাত বহরের তিন গজ ও শরীরের নিচে পরার জন্য একই বহরের আড়াই গজ)। ইহরামের কাপড় সাদা ও সুতি হলে আরামদায়ক হবে।

নারীদের ইহরামের কাপড় তাদের স্বাভাবিক পোশাক-পরিধেয়ই। ইহরাম বাঁধার টাওয়াল সেট, এহরাম বাঁধার বেল্ট, মানিব্যাগ, পাসপোর্ট ব্যাগ, জুতা রাখার ব্যাগ, পাথর রাখার ব্যাগ, প্লাস্টিক জায়নামাজ, নখকাটার কাটার বক্স, কাঁধের ব্যাগ, নারীদের হিজাব, নারীদের চুল বাঁধার টুপি, হাত মোজা ও পা মোজা, হাওয়ার বালিশ, বোডিং হোল্ডার, সানক্যাপ, চামড়ার মোজা, তায়াম্মুমের মাটি, মিসওয়াক, ছাতা, গামছা, লুঙ্গি, গেঞ্জি, পায়জামা, পাঞ্জাবি, টাওয়াল, জুতা, টুপি, তসবি, আতর, বোরকা, সাবান, ব্রাশ-টুথপেস্ট, সুঁই-সুতা, থালা, বাটি, গ্লাস, হজ গাইড ও কোরআন শরিফ অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাগ ও জিনিসপত্র গোছানো

নিজের প্রতিটি ব্যাগে ইংরেজিতে নাম, ঠিকানা, পাসপোর্ট নম্বর ও বাংলাদেশের কাছের কারও মোবাইল নম্বর লিখে রাখুন। বড় ব্যাগ তালাবদ্ধ রাখা খুবই জরুরি। তবে ব্যাগ যত ছোট ও হালকা করা যায়, যাত্রা ততই আরামদায়ক হবে। যেসব জিনিসপত্র সঙ্গে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা করে রাখলে ভালো হবে।

জরুরি কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী

দীর্ঘ হজযাত্রায় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদপত্র, টিকাকার্ড, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ, নারী হজযাত্রীর ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত মাহরামের সঙ্গে সম্পর্কের সনদ ইত্যাদি সঙ্গে রাখা চাই।

সব হজযাত্রীর জন্য বাংলাদেশ থেকে একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। এতে পিলগ্রিম নম্বর, নাম, ট্রাভেল এজেন্সির নাম ইত্যাদির তথ্য থাকে। এটা গলায় বা হাতের কাছে রাখুন। একটি কাগজে নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, এজেন্সির নাম ও সৌদি আরবে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর ইংরেজিতে লিখে রাখুন। এ ছাড়া সৌদি আরবে থাকাকালে মোয়াল্লেমের পক্ষ থেকে হজযাত্রীকে পরিচয়পত্রের একটি কার্ড দেয়া হয়। সেই কার্ড ও যে হোটেলে থাকবেন, সেই হোটেলের কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখুন।

ইহরাম বাঁধা ও মিকাত পেরোনো

ঢাকা থেকে আপনার গন্তব্য মক্কা না মদিনায় তা জেনে নিন। তবে অধিকাংশ হজযাত্রীর গন্তব্য মক্কা হয়ে থাকে। মক্কা হলে বিমানে ওঠার আগে ইহরাম বাঁধা ভালো। কারণ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ‘মিকাত’ বা ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট স্থান। চাইলে বিমানেও বাঁধা যায়। কিন্তু বিমানে পোশাক পরিবর্তন করাটা ঝামেলার। বিনা ইহরামে মিকাত পার হলে এজন্য দম বা কাফফারা দিতে হয় এবং এটি গুনাহের। ইহরামবদ্ধ হওয়ার পর যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলুন। (ইহরামের নিয়ম জানতে হজ গাইড পড়ুন)। যদি কারও গন্তব্য ঢাকা থেকে মদিনা হয়, তাহলে মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার সময় ইহরাম বাঁধলে চলবে।

মোবাইল সিম ও মানচিত্র সংগ্রহ

মক্কা গিয়ে মোবাইলের একটি সিমকার্ড কিনুন। পাসপোর্টের কাগজপত্র দেখিয়ে সিমকার্ড কিনতে পারবেন। এয়ারপোর্টে সৌদির বিভিন্ন কোম্পানি সাময়িক মোবাইল সিমকার্ড দেয়। শুধু আঙুলের ছাপ দিয়ে সিমকার্ডগুলো সংগ্রহ করা যায়।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবপোর্টালে আরাফার ময়দান, মিনা বা মক্কা-মদিনা হজের স্থানগুলোর মানচিত্র দেওয়া আছে। সেখান থেকে মানচিত্র সংগ্রহ করে প্রিন্ট করে নেওয়া যায়। মানচিত্র থাকলে চলতে-ফিরতে সহজ হবে।

হজের যাবতীয় বিধিবিধান জেনে নেয়া

হজে যাওয়ার আগে অবশ্যই হজের যাবতীয় নিয়ম-কানুন জেনে নেওয়া কর্তব্য। হজ করতে ইচ্ছুক এবং প্রথমবারের মতো হজ করতে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তির জন্য  অবশ্যই হজের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা রাখা জরুরি।

হজ সফরে কোথায় কখন কী আমল করতে হবে, কোন আমল করা ফরজ, কোন আমল ওয়াজিব, কোন আমল সুন্নত ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে হজের তালবিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো মুখস্থ করে নিতে হবে। বিজ্ঞ আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি বিষয়গুলো জেনে নেওয়া উচিত। কোথাও হজের প্রশিক্ষণ হলে, সেখানে যোগাযোগ করে হজের বিধিবিধান ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে হজ-সংক্রান্ত বই পড়েও জেনে নেওয়া যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%