শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫১ পি.এম
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু মন্তব্য করেছেন যে, রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বরেণ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই কলেজটি বহু কৃতী সন্তানের জন্ম দিয়েছে, যারা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রেখে সুনামের সাথে কাজ করছেন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর হেয়ার রোডে নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের ঢাকাস্থ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনীর রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের বরেণ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সালাহউদ্দিন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শালসহ সরকারের সচিব ও উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ বিদ্যাপীঠের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অতীতে এইচএসসি পরীক্ষার মেধা তালিকায় বিভিন্ন স্থান অর্জন করে গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝরেপড়া রোধ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সরকারের বহুমুখী প্রচেষ্টা রয়েছে।
মন্ত্রী বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও শিক্ষার সার্বিক প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
বর্তমানে কলেজের ৫৮তম বছর চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে ৬০ বছরপূর্তি উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কলেজের জরাজীর্ণ অডিটোরিয়াম দ্রুত সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়ার ঘোষণা তিনি দেন।
এ সময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যেসকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পরলোকগমন করেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।
নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকারের সভাপতিত্বে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এই বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জ, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সৌদি আরবের প্রবাসী চালক হৃদয় হোসেন (২৭) নিহত হয়েছেন।
এই দুর্ঘটনায় আরোহী সাজ্জাদ (২৪) আহত হয়েছেন এবং তাকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে ঢাকামুখী লেনে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হৃদয় ও সাজ্জাদের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় হৃদয় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হৃদয় হোসেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সাইদ হোসেনের পুত্র। আহত সাজ্জাদ সিরাজদিখান উপজেলার ঘোড়ামারা এলাকার রবিউল আওয়ালের ছেলে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ৬টায় কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে ঢাকামুখী লেনে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে হৃদয় ও সাজ্জাদ ধাক্কা খায়। এই ঘটনায় সৌদি প্রবাসী চালক হৃদয় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, মরদেহের প্রাথমিক কার্য সম্পাদনের পর পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী উল্লেখ করেছেন যে, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর-বাহাদুরপুর এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলায় অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মাছের চাষসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটি বাংলাদেশের একটি মাস্টারসাইন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মানুষসহ দেশের ২৪টি জেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের জন্য এটি একটি স্বপ্ন ছিল।
মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি একনেকে অনুমোদন করানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো হবে। নতুনভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি দেশীয় অর্থেই বাস্তবায়ন করা হবে। জিওবি অর্থায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছর মেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নদী, মানুষ, প্রাণ-প্রকৃতি ও খাল খননকে গুরুত্ব দিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। পানি অপর নাম জীবন। প্রধানমন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ হলেও এ ব-দ্বীপকে কেন্দ্র করে আগে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিকল্পনার সূচনা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তির পর্যালোচনা করছে শেখ হাসিনার শাসনামলে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে।
তিনি শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকারের মূলনীতি ছিল- সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে, তাকে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টে যখন বাংলাদেশ ও বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে আসে, তখন বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে। শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে দেশের স্বার্থ বিরোধী অসংখ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। আমরা সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা চাই। আমরা এই দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। এর জন্য আমাদের যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।
চিফ হুইপ জানান, হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ সরকার পরিশোধ করেছে। দেশে ১৬ লাখ টন সার মজুদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধানে সরকারের সদিচ্ছার অভাব নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। সাইপ্রাসে হাম্মাদ মুজিবের নামে দুটি ব্যাংক হিসাব এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামে আরও দুটি হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে লাখ লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেনের তথ্য উদ্ধার করেছে দুদক। তদন্তে দেখা গেছে, এসব অর্থের উৎস তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধু সাইপ্রাসেই নয়, লন্ডনে তার বোন ও ছেলের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। এমনকি লন্ডনে সম্পত্তি কেনার জন্য ‘উপহার’ হিসেবে ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ ইউরো পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে তার সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েক লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ৩ সেপ্টেম্বর হাম্মাদ মুজিব এবং তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সাইপ্রাসের একটি ব্যাংক হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে ২ লাখ ৩ হাজার ইউরো পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক নথিতে এই অর্থগুলো ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দুদক বলছে, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য এ অর্থ পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের পড়াশোনার খরচ বাবদ লন্ডনের একটি কলেজেও অর্থ পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, হাম্মাদ মুজিব বিদেশে এসব ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কোনো নথিও দেখাতে পারেননি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মামলা দায়ের করে দুদক।
মামলায় হাম্মাদ মুজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।
পরবর্তীতে ওই অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আড়াল করা হয়েছে বলেও জানায় দুদক।
দুদকের নথি অনুযায়ী, হাম্মাদ মুজিব ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর সাইপ্রাসের ব্যাংক অব সাইপ্রাসে নিজের নামে একটি হিসাব খোলেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই হিসাবে জমা পড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো। নিজের নামে খোলা আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার। এর বাইরেও ‘বাগুটেল লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের নামে একই ব্যাংকে দুটি হিসাব খোলা হয়েছে। এর একটিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং অন্যটিতে ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব অর্থের উৎস হাম্মাদ মুজিবের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বলছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানের পর হাম্মাদ মুজিবকে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালের ২ জুন সম্পদবিবরণী জমা দেন। কিন্তু এতে সাইপ্রাসে নিজের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশে থাকা সম্পদের কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি।
দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ উপার্জনের বৈধ উৎস কিংবা বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদনের কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। সরকারি কর্মচারী হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদবিবরণীতে এসব তথ্য না দেওয়ার মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি দুদকের সামনে আসে। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাম্মাদ মুজিবের হিসাব থেকে লন্ডনের অ্যাশবোর্ন কলেজে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার খরচ বাবদ ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানো হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ৪৬ হাজার ৯৪৮ দশমিক ৩৫ ইউরো, ৮ এপ্রিল ৫০ হাজার ইউরো এবং ১৭ এপ্রিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৩ ইউরো যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে পাঠানো হয়। তিন দফায় পাঠানো অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক শূন্য ৮ ইউরো।
ব্যাংক নথিতে এসব অর্থকে ‘উপহার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দুদক বলছে, লন্ডনের ৩৩০ ওয়েল হল রোডের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এ লেনদেনে ‘বোলিং অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের একটি হিসাব ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে আরও ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯৩ ইউরো এবং ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯০ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলা বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে হাম্মাদ মুজিব দেশে ও বিদেশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। সম্পদ গোপন, হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলা ঠেকাতে সেগুলো জব্দ করা প্রয়োজন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী আবেদনে উল্লিখিত যুক্তরাজ্যের অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য কিংবা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অন্য কোনো সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ