মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৭ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বেমালীয়া নদীতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার এক যুবকও রয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে, উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের নিকটে।
নিহত সজীব মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার পুত্র। অপর নিহত ব্যক্তি দয়াল মিয়া নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় একটি অসুস্থ রোগীকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়ার পর স্পিডবোটটি চাতলপাড়ের দিকে ফিরছিল। খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে পৌঁছানোর পর, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এই সংঘর্ষে স্পিডবোটে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার তীব্র শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সজীব মিয়া ও দয়াল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় তিনজনকে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজনের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, সজীব মিয়ার মৃত্যুর খবর কুলিয়ারচরের বড়খারচর গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা উপত্যকায়, যা ফিলিস্তিনের একটি অবরুদ্ধ এলাকা, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের গাজার পুরো অঞ্চলে অবাধ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে, যাতে ইসরায়েল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করা যায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, "ইসরায়েলি হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া স্থানগুলো থেকে একের পর এক পুরো পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। আমার আশঙ্কা, এ পর্যন্ত যে পরিমাণ মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় খুবই সামান্য। গাজার একটি বড় অংশ ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"
তুর্ক আরও উল্লেখ করেছেন যে, বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় সেখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ বা আলামতের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৩০টিরও বেশি মরদেহ ও মানবাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব দেহের অধিকাংশই নারী ও শিশুদের। বোমাবর্ষণের দীর্ঘ সময় পরও যেভাবে ব্যাপক হারে মানবাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে, তা ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় বলে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে, তা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির বাধার কারণে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়ে, শেষ পর্যন্ত নদীপথে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নদীপথে ওই ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীনস্থ জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সীমান্ত পিলার ১৫২/১০-এস থেকে আনুমানিক ১২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের নার্সারিপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেন।
বিষয়টি জানার পর জামালপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেন। বিজিবির বাধার কারণে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি। পরে মঙ্গলবার সকালে নদীপথে তাকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় এবং তিনি কোন দেশের নাগরিক, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাতটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অন্তর্ভুক্ত আছেন। ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং চারজন কারাগারে আছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর সর্বশেষ রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাদের অনুপস্থিতিতেই এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়।
সাত মামলার রায়ে ৬৮ জন দণ্ডিত
ট্রাইব্যুনালের প্রথম ছয়টি রায়ে মোট ৬১ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। তবে মোট মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ছিল ১৬টি। কারণ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড—দুটি মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড পান।
সপ্তম রায়ে আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় এখন মোট দণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা ৬৮ এবং পৃথক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২২।
যে সাত মামলায় রায়
শেখ হাসিনা মামলা: ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাসিনা ও কামালের বিচার তাদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
চানঁখারপুল হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে তিন থেকে ছয় বছরের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানো: ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়াসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য চার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা ও মুকুল চোখদার। এ ছাড়া নয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৮ জুন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসানুল হক ইনু মামলা: ২০২৬ সালের ৩০ জুন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
ওবায়দুল কাদের মামলা: ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন হলেন—শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, মো. সাইফুল ইসলাম, রনি ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম, এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা, মুকুল চোখদার, আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র রায়, মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমান।
হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড—দুই মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মৃত্যুদণ্ড হলেও পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ২২ জনের হিসাবের মধ্যে তাকে একবারই গণনা করা হয়েছে।
১১ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী রয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাইফুল ইসলাম ও রনি ভূঁইয়া।
বাকি ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
কারাগারে চারজন, পলাতক ১৮
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন আশুলিয়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক ও মুকুল চোখদার এবং আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়।
অন্য ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ৬ জন হিজড়াকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। একই রাতে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট এবং কীটনাশক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে, প্রায় ৭টার দিকে, বাঘাডাংগা বিওপির আওতাধীন বাজারপাড়ার একটি মেহগনি বাগানে বিশেষ টহলের সময় সীমান্ত পিলার ৬০/৭৫-আর থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হিজড়া সম্প্রদায়ের ৬ জন। বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটককৃতদের মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ১৪ই সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে, মাটিলা বিওপি এলাকার শ্মশানঘাট থেকে ২২ বোতল ভারতীয় মদ এবং ২ হাজার পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় গয়েশপুর বিওপি এলাকার গোয়ালপাড়া গ্রাম থেকে ৯৭ প্যাকেট এবং উথলী বিওপি এলাকার সন্তোষপুর গ্রাম থেকে ১৩২ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করা হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে, মাধবখালী বিওপি এলাকার একটি আমবাগান থেকে ৩৮৮ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে, উদ্ধারকৃত মাদক ও চোরাচালান পণ্যের ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ