মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৩ পি.এম
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মিতাকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাহফুজুর রহমান মিতা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর তানোরে বিএনপির কার্যালয়ে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বারীগ্রামে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ওই কার্যালয়ে আগুন লাগায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। স্থানীয়দের দাবি, রাতের কোনো এক সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
তবে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তানোর থানার পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আরিফুর রহমান মণ্ডলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। চাকরি থেকে পলায়ন এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করেছে সরকার।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য ও বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে আরিফুর রহমান মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, সিরাজগঞ্জ জেলার সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত আরিফুর রহমান মণ্ডল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
সরকারি চাকরি বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (গ) অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় বিধি ১২ উপবিধি (১) অনুযায়ী, আরিফুর রহমান মণ্ডল যেদিন থেকে অনুপস্থিত, সেদিন থেকে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৌন মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে তারা এই কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টির সামনে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহিদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর হয়ে আইন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহিদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের অনেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা, কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দায়িত্ব স্বীকার করে প্রত্যাহার করা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন করা।
বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, "এতদিন আমরা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছি। আজকের কর্মসূচি মূলত শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদের মৌন ভাষা হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা আবারও দাঁড়িয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "ঘটনার প্রথম দিন থেকেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা কর্মসূচি পালন করছি। একই সঙ্গে ভাইকে হারানোর শোক ও প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়েছে।"
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাব্বানী বলেন, "আমরা প্রথম দিন থেকেই পুলিশের উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হলো, আসামিদের ধরা হলো; কিন্তু এখনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। আসামিদের বয়স নিয়ে একটি চক্রান্ত করা হচ্ছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।" তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সঠিক বয়স নির্ধারণ করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, "অপ্রতিমের অপহরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা রাজপথে আছি। মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। চার দফা দাবি জানালেও প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে কোনো সাড়া পাইনি। আজকের মৌন মিছিলের মাধ্যমে জানাতে চাই, আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাইনি। চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।"
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) একই দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। তার আগের দিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধান খেতের পাশে রাস্তা থেকে মো.নাঈম (১৪) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ি সংলগ্ন ধান খেতের পাশে রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত।
স্থানীয়রা জানায়, নাঈম বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের ঘরের নাতি। তার মা-বাবার প্রায় তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয় যায়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়া লেখা করত।
নিহেতর নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, শনিবার নাঈম মাদ্রাসা থেকে চলে আসে। পরে তার বাবা আমাদের ফোন দিয়ে তার ছেলের অবস্থান জানায়। পরে তার নানী আমেনা খাতুন ওই জায়গায় গিয়ে নাতীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে দেখি ঘরের দরজা খোলা, সে শয়ন কক্ষে নেই। সকাল ৭টার দিকে আমি সার আনার জন্য যাওয়ার পথে আমার বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে ধান খেতের পাশে রাস্তার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, ২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল তার মা সুমি আক্তার নানা ভাবে হুমকি ধমকি দেয়। কিভাবে ছেলের আয় রোজগার খায় দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছে। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে অনেকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ দেখতে আসেনি বাবা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার নিহতের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের থুতনির নিচে চিলা দাগ রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানা যাবে। নিহেতর বাবার সাথে কথা হয়েছে তিনি চট্রগ্রাম অথবা ফেনীতে আছেন। তিনি আসছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ