ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিআরটিএর মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর


বিআরটিএর মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা সম্প্রসারণ করা হয়েছে জরিমানা ছাড়া।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জরিমানা ব্যতীত মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সকল ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র যেমন ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন এবং রুট পারমিটসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে।

আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

এর আগে, এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, মোটরযান বিক্রয়ের পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ বিষয়ে সতর্ক করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো মোটরযান বিক্রয়ের পর তার মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক বা মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। এর ফলে বিক্রেতাদের বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মালিকানা পরিবর্তন না করার কারণে পুরনো মালিককেই নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০% অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটি বিক্রেতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা

সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা হয়েছে। এখন অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd) আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই করে একই দিনে মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন।

এ অবস্থায়, সংশ্লিষ্ট সকল মোটরযান মালিক ও ক্রেতাদের দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিআরটিএ অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যথায়, নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তন শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এ বিষয়ে বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী: ‘সাংবাদিকদের পেটানো দরকার’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোটের গুঞ্জন উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামছেন মেক্সিকোর বিস্ময়বালক মোরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


চোটের গুঞ্জন উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামছেন মেক্সিকোর বিস্ময়বালক মোরা

মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ড সেনসেশন গিলবার্তো মোরার চোট নিয়ে তৈরি হওয়া সব নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়েছেন দলটির প্রধান কোচ রাফায়েল মার্কেজ। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আসন্ন হাইভোল্টেজ ম্যাচে খেলার জন্য মোরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ফিট।

সম্প্রতি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিষেকে গোল করে মেক্সিকোর ত্রাতা বনে যান এই তরুণ তুর্কি। তবে ঠিক তার পরের ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে তাকে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এরপর অনুশীলনে তাঁর গোড়ালির চোটের কারণে এমআরআই করাতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে মেক্সিকো শিবিরে বড় দুশ্চিন্তার মেঘ দানা বাঁধে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোরাকে সব ধোঁয়াশা দূর করে কোচ রাফায়েল মার্কেজ বলেন, ‘গিলবার্তোর গোড়ালিতে সামান্য অস্বস্তি থাকায় কিছু রুটিন পরীক্ষা বা টেস্ট করানো হয়েছিল। তবে সে ইতিবাচকভাবে সেরে উঠছে এবং পরবর্তী ম্যাচে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।"

মার্কেজ আরো স্পষ্ট করেন যে, পেরু ম্যাচে মোরাকে কোনো গুরুতর চোটের কারণে নয়, বরং কাজের অতিরিক্ত চাপ থেকে এই টিনেজারকে সুরক্ষিত রাখতেই সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। বার্সেলোনা যেভাবে তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালকে আগলে রেখে তৈরি করেছে, মোরাকে নিয়ে সেই একই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো হচ্ছে।

শনিবার রাতে অ্যারিজোনায় কনকাকাফ ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো। মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় ‘টেকনিক্যাল অস্ত্র’ মোরা স্কোয়াডে ফিরলেও, তিনি শুরুর একাদশে থাকবেন নাকি বদলি হিসেবে নামবেন—তা ম্যাচ শুরুর আগে কৌশলগত কারণে গোপনই রেখেছেন মেক্সিকান বস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ

২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত বাইম মাছ প্রবেশের একটি ঘটনা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মাছটি তার পায়ুপথ দিয়ে প্রবেশ করে অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে মারাত্মক সংক্রমণের সৃষ্টি করে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ এই বিরল ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

জার্নালে প্রকাশিত কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে একটি জীবন্ত বাইম মাছ শরীরে ঢুকে যায়। তিনি প্রথমে লজ্জায় কাউকে বিষয়টি জানাননি। মাছটি নিজে থেকেই বের হয়ে যাবে— এ আশায় ছিলেন তিনি। পরে তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে যান।

বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পায়, মাছটি অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করেছে এবং পেটে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা জীবন্ত বাইম মাছটি বের করে আনেন চিকিৎসকরা।

গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায় ও মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা। তাদের কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইম মাছের মতো জীবন্ত প্রাণীর কারণে মানুষের অন্ত্রের দেয়াল ছিদ্র হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

অস্ত্রোপচারে দেখা যায়, রোগীর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আকারের একটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রাণঘাতী পেরিটোনাইটিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি কোলস্টমি করেন। এর ফলে রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং চার দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মলদ্বারে বাইম মাছ প্রবেশ করালে তারও গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীরা অনেক সময় লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিকিৎসকদের কাছে গোপন করেন। এতে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। তাই তীব্র পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কারণগুলোকেও বিবেচনায় রাখা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচার না হলে এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌ পুলিশের অভিযানে পদ্মায় ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদসহ ২ আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


নৌ পুলিশের অভিযানে পদ্মায় ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদসহ ২ আটক

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর লঞ্চঘাটের নিকটবর্তী পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে নৌ পুলিশ ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ করেছে। এই ঘটনায় রফিক (৪৫) এবং উজ্জ্বল (৪০) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আড়াইটার সময় সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।

সুরেশ্বর নৌ পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের মাধ্যমে বিদেশি মদ পরিবহনের খবর পায় তারা। এরপর সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ একটি দল সুরেশ্বর লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীতে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের সময় এমভি তাসলিমা নামের বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি উদ্ধার করা হয়। পরে মদগুলো জব্দ করে বাল্কহেডসহ রফিক ও উজ্জ্বলকে আটক করা হয়।

এই বিষয়ে নিশ্চিত করে সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের মাধ্যমে বিদেশি মদ পরিবহন করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নদীপথে মাদক পরিবহন ও পাচার রোধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত নেওয়ার বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

দ্বিতীয় মতামত গ্রহণের অর্থ প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানার প্রক্রিয়া। এতে রোগী এবং তার পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং চিকিৎসার জন্য দেশের বা বিদেশের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারে।

দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লে অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা চিন্তা করে। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফলাফল নিশ্চিত করে না।

বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?”

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন। রোগটি আসলে কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা রয়েছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? এবং চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। চিকিৎসার মান শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসব বিষয়ও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানে চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে।

তাহলে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়।

শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধুমাত্র একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়—এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন

হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর

এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%