ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ


পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ

২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত বাইম মাছ প্রবেশের একটি ঘটনা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মাছটি তার পায়ুপথ দিয়ে প্রবেশ করে অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে মারাত্মক সংক্রমণের সৃষ্টি করে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ এই বিরল ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

জার্নালে প্রকাশিত কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে একটি জীবন্ত বাইম মাছ শরীরে ঢুকে যায়। তিনি প্রথমে লজ্জায় কাউকে বিষয়টি জানাননি। মাছটি নিজে থেকেই বের হয়ে যাবে— এ আশায় ছিলেন তিনি। পরে তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে যান।

বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পায়, মাছটি অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করেছে এবং পেটে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা জীবন্ত বাইম মাছটি বের করে আনেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায় ও মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা। তাদের কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইম মাছের মতো জীবন্ত প্রাণীর কারণে মানুষের অন্ত্রের দেয়াল ছিদ্র হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

অস্ত্রোপচারে দেখা যায়, রোগীর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আকারের একটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রাণঘাতী পেরিটোনাইটিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি কোলস্টমি করেন। এর ফলে রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং চার দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মলদ্বারে বাইম মাছ প্রবেশ করালে তারও গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীরা অনেক সময় লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিকিৎসকদের কাছে গোপন করেন। এতে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। তাই তীব্র পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কারণগুলোকেও বিবেচনায় রাখা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচার না হলে এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স

আরও পড়ুন: টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌ পুলিশের অভিযানে পদ্মায় ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদসহ ২ আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


নৌ পুলিশের অভিযানে পদ্মায় ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদসহ ২ আটক

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর লঞ্চঘাটের নিকটবর্তী পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে নৌ পুলিশ ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ করেছে। এই ঘটনায় রফিক (৪৫) এবং উজ্জ্বল (৪০) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আড়াইটার সময় সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।

সুরেশ্বর নৌ পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের মাধ্যমে বিদেশি মদ পরিবহনের খবর পায় তারা। এরপর সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ একটি দল সুরেশ্বর লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীতে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের সময় এমভি তাসলিমা নামের বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি উদ্ধার করা হয়। পরে মদগুলো জব্দ করে বাল্কহেডসহ রফিক ও উজ্জ্বলকে আটক করা হয়।

এই বিষয়ে নিশ্চিত করে সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের মাধ্যমে বিদেশি মদ পরিবহন করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নদীপথে মাদক পরিবহন ও পাচার রোধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত নেওয়ার বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

দ্বিতীয় মতামত গ্রহণের অর্থ প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানার প্রক্রিয়া। এতে রোগী এবং তার পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং চিকিৎসার জন্য দেশের বা বিদেশের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারে।

দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লে অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা চিন্তা করে। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফলাফল নিশ্চিত করে না।

বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?”

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন। রোগটি আসলে কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা রয়েছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? এবং চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। চিকিৎসার মান শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসব বিষয়ও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানে চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে।

তাহলে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়।

শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধুমাত্র একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়—এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন

হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর

এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণদের অপতথ্য রোধে সচেতন হতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


তরুণদের অপতথ্য রোধে সচেতন হতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য একটি ‘অশুভ সংকেত’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এই অপতথ্য প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার রাজধানীর নটরডেম কলেজে আয়োজিত ‘২য় ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সবসময়ই দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মিডিয়া লিটারেসি ও দায়িত্বশীল যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নটরডেম কলেজে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানে আগেও বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন এবং সেই সময়ের নানা স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে।

তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে এসে পুরোনো অনেক স্মৃতি ফিরে এসেছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের মিডিয়া কার্নিভাল নিয়মিত আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চায় আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের বিষয়ে অনেক আগ্রহী উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতেও এ জাতীয় আয়োজনে সরকারের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, ফাদার অ্যান্টনি গোমেজ রোজারিও, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের মডারেটর শাপলা বনিক, ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ’-এর চেয়ারম্যান রুবায়েত মান্নান রাফি, এনসিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ডিভিশন আনিসুর রহমান মজুমদার, চায়না এডুকেশন বাংলাদেশের সিইও সাজ্জাদ হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিমরান রহমান।

উল্লেখ্য, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের উদ্যোগে ২ ও ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ কার্নিভালে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। মিডিয়া কার্নিভাল শিক্ষার্থীদের মিডিয়া, যোগাযোগ, গবেষণা ও সৃজনশীলতার বিকাশে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন ৯৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন ৯৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ

বাংলাদেশের ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বর্তমান সক্ষমতার সাথে একটি বিশাল ঘাটতি বিদ্যমান। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি তথ্যভাণ্ডার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতির নিশ্চয়তা অপরিহার্য।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় ড্যাক্কা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দাইরা) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর : ২০৩০ সালের ঘাটতি পূরণ ও সামনের অর্থনৈতিক সুযোগ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারের শুরুতে দাইরার গবেষক সুবর্ণা আক্তার লাবনী একটি নীতিবিষয়ক গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রিড বিদ্যুতের প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা। তবে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশে মাত্র প্রায় ৩৫৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা নির্মাণাধীন রয়েছে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৭৬০ মেগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যুক্ত করতে হবে।

গবেষণায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট প্রায় ৯ টাকা ৫০ পয়সা, যেখানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গবেষণায় আরো বলা হয়, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিবছর আনুমানিক ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসংস্থান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ২৬ দশমিক ৬টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যেখানে ইউটিলিটি-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে কর্মসংস্থান হয় প্রায় ২ দশমিক ১টি।

বিদ্যুৎ গ্রিড ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাও গবেষণায় তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ৫১৫ মিলিয়ন ডলারের বিশ্বব্যাংকের একটি গ্রিড কর্মসূচি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ‘মাঝারি মাত্রায় অসন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়িত হয়। কর্মসূচিটির আওতায় ০ দশমিক ১৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে প্রায় ০ দশমিক ০৪ গিগাওয়াট।

গবেষণায় বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত সক্ষমতার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করা হয়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকল্পগুলো পুনরায় পর্যালোচনার জন্য খোলা হয়। এছাড়াও ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক সুবিধা এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রণোদনা চালুর বিষয়ও আলোচনায় আসে।

আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি জ্বালানি রূপান্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং সরকারি অর্থের ব্যবহারে স্পষ্ট নজরদারি নিশ্চিত করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মানেই আমলাতন্ত্র—এ ধারণাটি দেখার একটি ভুল পদ্ধতি।’ তার মতে, তথ্য প্রকাশ এবং অভিন্ন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আস্থা বাড়ানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো কার্যকর করা সম্ভব।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে র‍্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার্সের সিওও (COO) এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি মোহাম্মদ সুবাইল বিন আলম বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত নই।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গ্রিড মূলত সীমিতসংখ্যক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি। কিন্তু ছাদভিত্তিক ও বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে হলে দ্বিমুখী বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক, উন্নত ট্রান্সফরমার, SCADA-এর মতো আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং বেশি মাত্রায় ব্যাটারি স্টোরেজ প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত করতে হলে সঞ্চালন, উৎপাদন ও পর্যবেক্ষণ অবকাঠামোর পরিকল্পনা একসঙ্গে করতে হবে। পাকিস্তানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও গ্রিড পরিকল্পনা ছাড়া দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

এ জন্য অন্তত পাঁচ বছরের নীতিগত নিশ্চয়তা, টেকসই ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, SREDA ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহজ শর্তের অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

দ্য ডেইলি জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদক মো. ইসমাইল আলী জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি একটি কেন্দ্রীয় ও সবার জন্য উন্মুক্ত ডিজিটাল জ্বালানি তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তার মতে, নিয়মিত হালনাগাদ এই তথ্যভাণ্ডারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা, স্থাপিত সক্ষমতা এবং প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য তুলনা করার সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের নীতির স্থায়িত্ব প্রয়োজন। স্বল্পমেয়াদি নীতি ও প্রণোদনা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অর্থায়ন কার্যকরভাবে করা কঠিন।

ওয়েবিনারের সঞ্চালক দাইরার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতির হার প্রায় ১০ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিকভাবে তা প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ। ফলে বিদ্যুৎব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP), বিশেষ করে বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার (BOT) মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি জাতীয় জ্বালানি তথ্যকেন্দ্র ও পরিবেশগত মান পরিষদ গঠন, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভর্তুকি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি দক্ষতা ও চাহিদা ব্যবস্থাপনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে পূর্বানুমানযোগ্য নীতিপরিবেশ জরুরি। প্রণোদনায় ঘন ঘন পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অস্পষ্টতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সহজলভ্য অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার পথে বাধা তৈরি করতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে ড. সাকিব বিন আমিন বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘নীতিকে প্রকল্পের সঙ্গে, প্রকল্পকে অর্থায়নের সঙ্গে, অর্থায়নকে অবকাঠামোর সঙ্গে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকে এমন একটি গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যে গ্রিড নির্ভরযোগ্যভাবে সেই বিদ্যুৎ গ্রহণ ও সরবরাহ করতে সক্ষম।’

ওয়েবিনারে একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দাইরার টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের উদীয়মান নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%