সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৮ পি.এম
গাজীপুরের জয়দেবপুরে খালের পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও পূর্বের ক্ষোভের জেরে ডলি আক্তার (৩০) নামে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পরিচয় গোপন ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তার লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে নিহতের প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
পুলিশ জানায়, ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেস ও বস্তার ভেতর থেকে এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও উদ্ঘাটন করে পিবিআই।
৫ বছরের প্রেম, বিয়ে নিয়ে বিরোধ
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি নিয়মিত মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
পুলিশের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থাকেন।
পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে মিশনের মধ্যে ডলির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন।
যেভাবে হত্যা
আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়।
মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করেন। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বঁটি-দা দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করেন।
পিবিআই জানায়, পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুরে যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ভবানীপুর এলাকায় যান তারা।
পরে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। এরপর তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।
নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক একটি ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় শুরুতে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিকভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নিজের বিরুদ্ধে অডিও-ভিডিও প্রচারের অভিযোগ করেছেন বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোসাঃ ফারজানা বেগম। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল তার নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারজানা বেগম এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার বিরুদ্ধে অডিও ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত অডিও-ভিডিওর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভিডিওতে যে অডিও ক্লিপে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত বারেক হাওলাদারের ছেলে নুরুল ইসলাম নুহুর কথোপকথন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি তার নয়। একই সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফারজানা বেগম লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, ঘটনার দিন তিনি নিজের শয়নকক্ষে মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময় নুরুল ইসলাম নুহ তার বসতঘরে প্রবেশ করে ওই ভিডিও ধারণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার স্বামী খোকন হাওলাদারের সঙ্গে নুহুর পরিচয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় তিনি বিভিন্ন সময় তাদের বাসায় আসতেন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে নুরুল ইসলাম নুহ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। তিনি ওই ধরনের কথা বলতে নিষেধ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একদিন সন্ধ্যায় তিনি তার ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে গেলে নুহ সেখানে উপস্থিত হয়ে সন্তানদের সামনে তাকে পুনরায় আপত্তিকর প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন। এ সময় রেস্টুরেন্টের মালিকসহ সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তার ধারণা, এসব ঘটনার পর থেকেই ওই ব্যক্তি তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব অডিও-ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি প্রকাশিত অডিও-ভিডিওর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় সাংবাদিকদের প্রতিও কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই না করে প্রচারিত অডিও-ভিডিওর ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড নওগাঁয় পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় এক অনুষ্ঠানে মোট ৯০০টি ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা তুলে দেন। পরে সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেন।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা জানান, সরকারি পরিবেশবান্ধব চারা রোপণ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বোর্ডের আওতাধীন আঞ্চলিক পর্যায়ের ১২টি বাছাইকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় নয়শত শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে চারা উপহার দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে গাছগুলো পরিচর্যা করে বড় করতে পারে।
কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রউফ এবং নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স.ম আল কাফি তুহিনসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই পরিবেশ চেতনার এই বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাউজানে প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ প্রশংসা অর্জন করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে। একাধিক খুনের ঘটনায় রাউজান থানা পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়েছিল, তবে নতুন জেলা পুলিশ সুপার যোগদানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে।
মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানাধীন উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। জানা যায়, সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা একদল সন্ত্রাসী করিমকে ঘিরে ধরে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পুনরায় সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও তিনি হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে জনৈক পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেয়। করিম মোটরসাইকেলটি চুরি করেনি জানালে পারভেজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে পারভেজ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে পারভেজসহ অন্যান্য আসামি পরস্পর যোগসাজশে করিমকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রথমে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান থানাধীন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর সকাল ৫ টায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের দেখানো এবং তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ফার্মের ভিতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মোঃ সেলিম (৫০) ও মোঃ আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ২ রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১। মোঃ সেলিম (৫০) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে ১টি চুরির মামলা রয়েছে।
২। সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান।
৩। মোঃ জাবেদ (২৮) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান, তার নামে ১টি অপহরণ মামলা রয়েছে।
৪। মোঃ আলামিন (২৯) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে অস্ত্র ও মাদকের ২টি মামলা রয়েছে।
থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পলাতক আসামি মোঃ পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজান থানা সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজ সহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নাটোর জেলায় মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ থেকে শুরু হয়েছে। জেলা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে নয়টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার।
জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, "ক্রীড়া চর্চায় নিয়োজিত থাকলে শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষতা অর্জিত হয়। ফলে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করা অনেক সহজ হয়।" তিনি জানান, জেলার সকল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনকে সচল করতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রোস্তম আলী হেলালী সভাপতিত্ব করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জান্নাতআরা ফেরদৌস, জেলা ক্রীড়া অফিসার রাকিবুল হাসান এছামী এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এই বছরের প্রতিযোগিতায় দলগত ইভেন্টে কাবাডি ও হ্যান্ডবল এবং একক ইভেন্টে দাবা ও সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুইদিনের এই প্রতিযোগিতায় জেলার সাতটি উপজেলার বিজয়ী দল অংশগ্রহণ করবে। জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ