সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৮ পি.এম
রাউজানে প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ প্রশংসা অর্জন করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে। একাধিক খুনের ঘটনায় রাউজান থানা পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়েছিল, তবে নতুন জেলা পুলিশ সুপার যোগদানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে।
মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানাধীন উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। জানা যায়, সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা একদল সন্ত্রাসী করিমকে ঘিরে ধরে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পুনরায় সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও তিনি হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে জনৈক পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেয়। করিম মোটরসাইকেলটি চুরি করেনি জানালে পারভেজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে পারভেজ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে পারভেজসহ অন্যান্য আসামি পরস্পর যোগসাজশে করিমকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রথমে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান থানাধীন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর সকাল ৫ টায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের দেখানো এবং তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ফার্মের ভিতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মোঃ সেলিম (৫০) ও মোঃ আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ২ রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১। মোঃ সেলিম (৫০) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে ১টি চুরির মামলা রয়েছে।
২। সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান।
৩। মোঃ জাবেদ (২৮) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান, তার নামে ১টি অপহরণ মামলা রয়েছে।
৪। মোঃ আলামিন (২৯) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে অস্ত্র ও মাদকের ২টি মামলা রয়েছে।
থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পলাতক আসামি মোঃ পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজান থানা সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজ সহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নাটোর জেলায় মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ থেকে শুরু হয়েছে। জেলা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে নয়টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার।
জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, "ক্রীড়া চর্চায় নিয়োজিত থাকলে শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষতা অর্জিত হয়। ফলে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করা অনেক সহজ হয়।" তিনি জানান, জেলার সকল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনকে সচল করতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রোস্তম আলী হেলালী সভাপতিত্ব করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জান্নাতআরা ফেরদৌস, জেলা ক্রীড়া অফিসার রাকিবুল হাসান এছামী এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এই বছরের প্রতিযোগিতায় দলগত ইভেন্টে কাবাডি ও হ্যান্ডবল এবং একক ইভেন্টে দাবা ও সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুইদিনের এই প্রতিযোগিতায় জেলার সাতটি উপজেলার বিজয়ী দল অংশগ্রহণ করবে। জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বলদা খাল থেকে মতলব সড়কটির পাঁচ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ নির্মাণ কাজ নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে শুরু হলেও, কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। এই কারণে, সড়কটি দিয়ে চলাচলরত কয়েক জেলার সাধারণ যাত্রী ও চালকদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ী ঢাকা ও কুমিল্লা যাতায়াত করে। অতি ধীর গতিতে সংস্কার কাজ চলার ফলে জনদুর্ভোগ ক্রমশ তীব্র থেকে অতি তীব্রতর হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কটির কাজির কোনা থেকে গোয়ালমারী পর্যন্ত অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার কাজিরকোনা ও দৌলতদি অংশে রাস্তার একপাশে প্রায় ১৫ দিন ধরে অর্ধ বাধা রড আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অপর পাশ খোলা রাখা হয়েছে যাতায়াতের জন্য। এই সরু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের কাঁচা অংশের ধুলা ও নির্মাণ সামগ্রীর ধুলা উড়ছে, যা পথচারী ও যানচালকদের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন স্থানের গর্ত, এবড়োখেবড়ো ও উঁচুনিচু সড়কে গাড়ী আটকে যাওয়ার পাশাপাশি অহরহ অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়করাপুর স্টিলের সেতুর উভয় পাশে যানজট দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকে।
শ্রীরায়েরচর ব্রিজের সংযোগস্থলের রাস্তার ইট, পাথর ও পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি করেছে। এই কারণে গাড়ি উঠানামার সময় গতি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকে। বেশ কয়েকটি ব্রিজের এ্যাপরোচে মাটি সরে গেছে, এবং নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি সেতুর রডে মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে।
এদিকে, এই সড়কটির প্রশস্তকরণ কাজটি দেড় বছরের মেয়াদে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, কাজ শুরু হওয়ার পর পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় রাস্তার এই বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, সড়কে চলাচলরত যাত্রীসাধারণসহ স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বলদাখাল থেকে মতলব সড়কটির দাউদকান্দির শ্রীরায়েরচর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্ধারণ করে ২০২১ সালের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় থেকে দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, পাঁচ বছরেও কাজ সম্পন্ন হয়নি।
কারণ হিসেবে জানা যায়, নির্মিত সড়কটির ঢুলি নসরুদ্দি ও সোনাকান্দা মাদ্রাসা হতে শ্রীরায়েচর মাজার পর্যন্ত অংশে অনেক বসত বাড়ি, বিল্ডিং ও মাদরাসা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এই সকল অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদেরকে ২০২২ সালে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। টাকা না পাওয়ায় সড়কের জন্য ভূমি ছাড়ছিল না জমির মালিকেরা। ফলে, রাস্তার অধিকাংশ নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখেই কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালে ৩০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স আদ্রিতা কনস্ট্রাকশনকে দেওয়া হয়। রাস্তার বিভিন্ন অংশের প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য এই চুক্তি করা হয়।
শ্রীরায়েরচর খালিশা বাজারের সভাপতি এস এম মনির হোসেন বলেন, "দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পরে, যদিও রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে, তার গতি এতটাই ধীর যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুতগতিতে কাজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
গোয়ালমারী বাজারের দোকানদার হালিম মিয়া বলেন, "দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ার কারণে বাজারের ভিতর দিয়ে চলমান এই রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি এলে গর্তে পানি জমে যায়, গাড়ি চলাচলের সময় এই কাদা পানি দোকানের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে এবং পথচারীদের জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।"
এই সড়কে দীর্ঘদিন যাবত চলাচলরত মো: খোকন মিয়া, রাজু প্রধানসহ অনেক সিএনজি চালক বলেন, "ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় সিএনজি চালানোর কারণে এক্সেল, ব্রেক শো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হই। যাত্রী ও চালকদের গা-হাত-পা ব্যথা হয়ে যায়। এত ধীর গতিতে কাজ করলে আমাদের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। দ্রুতগতিতে রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে আমরা এই অবস্থা থেকে রেহাই পাবো।"
কাজিরকোনা গ্রামের হাবিবুর রহমান (দোকানদার) বলেন, "অধিকাংশ সময় কয়রাপুর স্টিল ব্রিজের উভয় পাশে দীর্ঘ সময় যানজট থাকার কারণে বলদা খাল সিএনজি স্টেশন ও শ্রীরায়ের চর সিএনজি স্টেশনে কোন সিএনজি থাকে না। এতে অনেক যাত্রী দীর্ঘক্ষণ সিএনজির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। যা একটি বড় ধরনের জনদুর্ভোগ। এত অসুবিধার শর্তেও ধীরগতিতে কাজ সম্পাদন করলে এই রাস্তায় চলাচলরত জনগণের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।"
সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লা জেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম "দৈনিক ইনকিলাবকে" বলেন, "ভূমি অধিকরনের জটিলতা সম্পূর্ণ হয়েছে। বলদা খাল থেকে শ্রীরায়েরচর ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশের অসমাপ্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য ৩০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নতুন টেন্ডারের ভিত্তিতে মেসার্স আদ্রিতা কন্সট্রাকশনকে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।"
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী, খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, "দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত রাস্তাটি আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ধীর গতিতে কাজ চলছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি ইনকিলাবকে বলেন, দ্রুততম সময়ে কাজ সমাপ্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হবে।"
এ সড়কটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ না হলে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই সচেতন মহল দ্রুত সড়কটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যুর দীর্ঘ ১৫২ দিন পর অবশেষে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী কাবুলের নিজ বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। জটিল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দীর্ঘ আন্তর্জাতিক দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার পর বাংলাদেশ থেকে তার মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে হাসমত মোহাম্মদীর মৃত্যু ঘটে। পরের দিন, ১৪ এপ্রিল, ঝিনাইদহের একটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ঝিনাইদহ পৌর গোরস্তানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে হাসমত মোহাম্মদীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এই তথ্য জানার পর তার পরিবার মরদেহ আফগানিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে অবস্থিত আফগান দূতাবাস, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহায়তায় দীর্ঘ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ পৌর গোরস্তান থেকে হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উত্তোলন করা হয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ছাড়পত্র ও এয়ার কার্গো সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহ কাবুলে পাঠানো হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর কাবুলে পৌঁছানোর পর স্বজনদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা শেষে হাসমত মোহাম্মাদীকে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
মরদেহের হস্তান্তরে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশে অবস্থিত আফগান দূতাবাস, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনি সমন্বয়কারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুমের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের ইনফ্লুয়েন্সার এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গী ভার্জিনিয়া ফনসেকার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী রুজেরিও কামিলো রামোস এবং তার স্ত্রী পাউলা রেজিনা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুঃখজনক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফনসেকা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘রোতা ভের্দে গোইয়াস’এর তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের গোইয়ানিয়া মেট্রোপলিটন অঞ্চলের গুয়াপো পৌরসভার রিবেইরাও দাস পোস এলাকায় মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার পর জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলে থাকা রুজেরিওর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তার স্ত্রী পাউলা রেজিনাকে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ফনসেকা স্প্যানিশ ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের মাদ্রিং সার্কিটের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে নিরাপত্তারক্ষী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নিহতদের পরিবারের সকল সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে খবর দেওয়ার আগে বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
ফনসেকা তার আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, "আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী কামিলো ও তার স্ত্রীর অকালমৃত্যুর খবর পেলাম। এতক্ষণ কিছু পোস্ট করিনি, কারণ আমরা চেয়েছিলাম খবরটি যেন আগে পরিবারের সব সদস্য জানতে পারেন। কিন্তু খবরটি পাওয়ার পর থেকে আমি আর কোনো কাজই করতে পারছি না। আমার হৃদয় একেবারে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।"
কামিলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, "আমাদের পরিবারের প্রতি আপনার যে যত্ন, সুরক্ষা, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসা ছিল, তার জন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। আপনার উপস্থিতি ছিল আমাদের কাছে এক নিরাপদ আশ্রয়, আর আপনার স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।"
প্রয়াত দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। হেলোইস নামের শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন ফনসেকা। তিনি জানিয়েছেন, শিশুটির অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকবেন এবং ভবিষ্যতেও তার দেখভাল করবেন।
ফনসেকা মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সূত্র: গোলডটকম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ