বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৫:০৯ পি.এম
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর ভাঙচুরের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার মধ্যে এক কর্নেল ও এক মেজরও আছেন। খবরটি এসেছে এনডিটিভির মাধ্যমে।
দায়েরকৃত প্রতিবেদনে পুলিশ ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের অধীনস্থ কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনা সদস্যকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে এবং সরকারের কর্মকর্তা ও থানার মধ্যে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটি একটি চলমান তদন্ত, তাই এ পর্যায়ে মন্তব্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচও হামলার শিকার হয়েছেন।
এসএইচও’র দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, যখন তিনি পাড্ডারের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলেন, তখন সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার। তথ্যে উল্লেখ থাকে যে, থানার ভেতরে ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত থানায় ফিরে যান।
এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগকারী কর্মকর্তা যখন থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, তখন মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির সময় সেনাসদস্যরা তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং এসডিপিও আথোলির ওপরও হামলা করে।
পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড ও সরকারি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়।
এফআইআর অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। তারা এআরটিওর সরকারি গাড়ি, আথোলি থানার এসএইচওর গাড়ি এবং এসডিপিও আথোলির গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ভেঙে ফেলে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের লক্ষ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ‘হত্যা করা’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন জায়গায় শতশত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। খবর এএফপির।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ আপডেটে ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএসজিএস। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ বহুতল ভবনগুলো থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।
তীব্র আতঙ্কিত ও ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষ পরবর্তী আফটারশকের ভয়ে সারারাত খোলা আকাশের নিচে বাইরে কাটিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংগীতপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষার প্রহর এখন শেষ হতে চলেছে। অবশেষে, ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। তিনি গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকার একটি কনসার্টে গান গাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই কনসার্টটি স্থগিত হয়ে যায়। সেই কনসার্টই এবার গায়ক নতুন করে আয়োজন করতে আসছেন।
সংগীতপ্রেমীদের জন্য সুখবরটি জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কনসার্ট পোস্টারে গায়কের একটি ছবি আপলোড করার মাধ্যমে এই সুখবরটি জানানো হয়।
ক্যাপশনে আয়োজকরা জানান, অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় এসে গেছে। তাদের স্থগিত হওয়া কনসার্ট অবশেষে আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পোস্টে আরও জানানো হয়, যারা পূর্বে কনসার্টের টিকিট কিনেছেন, তারা পুরনো টিকিট দিয়েই এই কনসার্ট উপভোগ করতে পারবেন। যেসব দর্শক টিকিটের টাকা ফেরত চান, তারা চাইলে তাদের আবেদনটি বাতিল করে নতুন টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
পোস্টের শেষে আরও জানানো হয়, নতুন টিকিটের বিক্রি, কনসার্টের ভেন্যু এবং অন্যান্য সব তথ্য খুব শিগগিরই অফিসিয়ালি ঘোষণা করা হবে।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র দুই দিন আগে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কনসার্টটি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত করা হয়েছিল।
কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল যে অনুষ্ঠানটি বাতিল নয়, বরং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পুনরায় আয়োজন করা হবে। নির্ধারিত তারিখ ১৩ ডিসেম্বরের ৭ মাস পর আয়োজক সংশ্লিষ্টরা এখন সেই কনসার্টের আয়োজন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি আমের মৌসুমে রাজশাহী বিভাগের আমবাজার সংলগ্ন ব্যাংকের শাখাগুলো আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি শনিবার সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট এন্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
এতে বলা হয়েছে, চলমান আমের মৌসুমে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ (শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা), নওগাঁ (সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা), রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠেছে স্থায়ীও অস্থায়ী আমের বাজার।
এসব বাজার সংলগ্ন তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোতে নগদ অর্থের পর্যাপ্ত সরবরাহ বা জমা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ সংরক্ষণজনিত ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিন প্রতি শনিবার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যাংকের স্বীয় বিবেচনায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা বা উপশাখা খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হল।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (BCMIA) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অযাচিত এবং অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এই অবৈধ এবং অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বুধবার, ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার বিকালে BCMIA এর সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, Dhaka Stock Exchange কর্তৃক অযাচিত ও অবৈধভাবে স্বাভাবিক মার্কেটের গতি ব্যাহত করা হচ্ছে, এবং নানা কোম্পানির উপর হস্তক্ষেপ করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বক্তারা এ ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপকে পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
সমাবেশের বক্তারা বলেন, BCMIA পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অতিরিক্ত বেশি নানামুখী অবৈধ ও অযাচিত সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। বক্তারা মনে করেন যে, একটি অসাধু চক্র এই সঙ্কটের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে এবং বাজার তার স্বাভাবিক গতি হারাবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন, সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, মিজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আবদুল আউয়াল মিছবাহ, কোষাধ্যক্ষ সাহাদাত হোসেন এবং সদস্য শাখায়াত হোসেনসহ আরও অনেকেই। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে BCMIA-এর কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সদস্য ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ