ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নীরব শাহরুখ, লন্ডনের ছবি ভাইরাল হতেই নতুন বিতর্ক


ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নীরব শাহরুখ, লন্ডনের ছবি ভাইরাল হতেই নতুন বিতর্ক

ভারতের নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটি দেশে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। এই ইস্যুতে বলিউডের তারকাদের নীরবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনা চলছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন শাহরুখ খান।

গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মুখ না খোলায় অনেক বলিউড তারকাই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহরুখ খান। অনেকের প্রশ্ন উঠেছে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়েও কেন তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নীরব রয়েছেন?

আরও পড়ুন: এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, প্রকাশিত ফলাফল

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহরুখ খানের লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে।

ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তিনি স্ত্রী গৌরী খান এবং মেয়ে সুহানা খানের সঙ্গে লন্ডনের রাস্তায় হাঁটছেন। হুডি ও সানগ্লাস পরা শাহরুখের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ লিখেছেন, ‘আপনি কি লন্ডনে এতটাই ব্যস্ত যে নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে একটি পোস্টও করলেন না?’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘আপনারও তো সন্তান রয়েছে, তাই সন্তানহারা অভিভাবকদের জন্য অন্তত দুটো কথা বলতে পারতেন।’

এদিকে, শুক্রবার শাহরুখ খানের নাম ব্যবহার করে নিট ইস্যুতে একটি ভুয়া পোস্টও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি ভুয়া বলে নদা যায়, তবুও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

আরও পড়ুন: পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে হয়েছে: মাহদী আমিন

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘কিং’ সিনেমার শুটিংয়ের কাজে শাহরুখ খান লন্ডনে গিয়েছিলেন, যেখানে তার মেয়ে সুহানা খানও ছিলেন। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো সম্ভবত সেই সফরের সময় তোলা হয়েছে। তবে ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে শাহরুখ খান চলমান আন্দোলন নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তার এই নীরবতা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত। ফ্রান্সেসকা আলবানিজ একই সঙ্গে ইসরায়েলের ওপর অবিলম্বে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজ বলেন, গাজায় যখন হামলা চলছে, তখন পশ্চিম তীরজুড়ে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও ‘গণহত্যা’ চলছে। তিনি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীকে এসব হামলায় ‘একজোট হয়ে কাজ করার’ অভিযোগ করেছেন। এর দায় শুধু প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বা ‘কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর’ ওপর চাপানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলবানিজ বলেন, ‘এখনই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা—এখনই বাণিজ্য বন্ধ করুন।’ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে শুক্রবার অবৈধ হাভাত গিলাদ বসতির কাছে এক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। এর পর পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ‘ব্যাপক সামরিক অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, এরপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা নাবলুস গভর্নরেটের বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি এলাকায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তেল শহরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও সেনাদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাতকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


ছাতকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাস বাদী হয়ে জুলাই মাসে ছাতক থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। পরে পুলিশ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ঝলক মোহন্ত।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ছাতক থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বহির্ভূত নদীপথে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর ও একটি হুইল লোডার জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, জব্দকৃত যন্ত্রপাতির কোনো বৈধ মালিক বা দাবিদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দকৃত আলামত ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ইজারা বহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে আসছিলেন, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রহমতপুর গ্রামের ছালিম উদ্দিনের ছেলে আমির আলী (৩৮), জমির আলী (৩৫), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল বশর (৬০), আলমপুর গ্রামের আলতাবুর রহমানের ছেলে আতাউর (৪০), সোনাফর আলীর ছেলে চমক আলী (৬০), নজির আলী (৫৫), সোনাপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছেলে ধন মিয়া (৬২), জিয়াদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৫২) ও গাংপাড় নোয়াকুট গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে কামরুল (৩৮)।

এ ছাড়া বৈশাকান্দি (বাহাদুরপুর) গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে রফিক (৫৫), জয়নাল (৪৬), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবাদুল্লাহ (৫৪), জাইদুল (৪২), শারফিন পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আতাউর (৪৮) ও চাটিবহর গ্রামের তৈমুজ আলীর ছেলে সুজন (৪৬) এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী রেবুল কুমার দাস বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ঝলক মোহন্ত বলেন, ‘মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে নৌ পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বদির ফুপাতো বোনের জামাই আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বদির ফুপাতো বোনের জামাই আটক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. হাফেজ উল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আটক হাফেজ উল্লাহ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার মৃত তমিম গোলালের ছেলে। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ফুপাতো বোনের জামাই।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ জুলাই সকাল ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড স্টেশন ইনানীর একটি বিশেষ দল ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন যাত্রী হাফেজ উল্লাহর কাছে থাকা ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

কোস্টগার্ড জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা এবং আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষতেও অব্যাহত রাখতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হাফেজ উল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হাফেজ উল্লাহকে আটক করা হয়েছিল। পরে বাসের মালামাল রাখার সাইডবক্সে থাকা তার একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে ৫ হাজার ১৮৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নিয়োগ, বরখাস্ত শুধু আঞ্চলিক কর্মকর্তা

১৪৩ জনের আউটসোর্সিং নিয়োগে সচিবালয়ের অনুমোদন, বিপিপিএর ছাড় ও মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ; তদন্তের আগেই একক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


১৪৩ জনের আউটসোর্সিং নিয়োগে সচিবালয়ের অনুমোদন, বিপিপিএর ছাড় ও মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ; তদন্তের আগেই একক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৪৩ জন জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পুরো নিয়োগ কার্যক্রম আসলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের লিখিত নির্দেশনা, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) বিশেষ অনুমোদন ও মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ধারাবাহিকতায় সম্পন্ন হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, অনুমোদন ও কমিটির সুপারিশ ছিল, সেই প্রক্রিয়ার দায় কি শুধু একজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তার? নাকি তদন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরের ভূমিকা একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে?

এই প্রতিবেদকের কাছে থাকা সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ২৩ জুন ২০২৬ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমুল কবিরের স্বাক্ষরিত কপির স্মারক নম্বর: ১৭,০০,০০০০.০১৬.১১.০১৫.২১-৩১৫ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা প্রদান করে। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) অনুসরণের অনুমোদন দেয়। নির্দেশনাটি ৩০ জুনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেয়।

এরপর ২৪ জুন সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমুল কবীরের স্বাক্ষরিত কপিতে স্মারক নম্বর: ১৭,০০,০০০০.০১৬.১১.০১৫.২১-৩১৬ এ মূল্যায়ন কমিটি গঠন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলে, ২৫ জুন দরপত্র আহ্বানের জন্য তৎপরতা শুরু হয় এবং ২৭ জুন স্মারক নম্বর-১৭.০৪.০০০০.০০০.০৮১.০০৬.২৬-৫৭৩ এ মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সুপারিশ প্রণয়ন করা হয় এবং ২৯ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডকে কার্যাদেশ (Notification of Award) প্রদান করা হয়। একই দিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায় প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পৃথক নির্দেশনায়, আগে থেকেই কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়। এর ফলস্বরূপ ১৩৭ জন কর্মরত কর্মীর তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাঠানো হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি ১৪৩ জনের চূড়ান্ত তালিকা জমা দিলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তারা পর্যায়ক্রমে যোগদান করেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউবভিত্তিক প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো লিখিত অথবা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উত্থাপনের পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করে।

তবে, এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী পাওয়া নথিপত্রে নিয়োগ কার্যক্রমের নানা ধাপের অনুমোদন, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ, কার্যাদেশ ও চুক্তির তথ্য পাওয়া গেলও ঘুষ লেনদেনের পক্ষে কোনো সরকারি নথি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য কিংবা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগ উত্থাপনকারী সোশ্যাল মিডিয়া অথবা ইউটিউব প্রতিবেদনে অর্থ লেনদেনের সমর্থনে সংলগ্ন কোনো যাচাইযোগ্য নথিও প্রদর্শিত হয়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে অভিযোগটি সত্য নয় বা মিথ্যা, এর সত্যতা নির্ধারণ করবে চলমান তদন্ত।

অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। গত ২১ জুলাই স্মারক ১৭,০০,০০০০.০৮৩.২৭.০০৬৩.২৬-৬০৮ এ উপসচিব (শৃঙ্খলা) সালাহউদ্দীন আহমদের স্বাক্ষরিত আদেশে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয় এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নথিপত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায়, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মূল্যায়ন কমিটি, বিপিপিএ এবং জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পৃথক ভূমিকা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কেবল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত কি শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তার ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত ভূমিকা সমানভাবে যাচাই করা হবে?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত আউটসোর্সিং চালক ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ২০১৬ সাল থেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যোগদানপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং এ প্রক্রিয়ায় তাঁর কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি বা কেউ টাকাও দাবি করেনি।

বোয়ালিয়া থানা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফারুক হোসেন বলেছেন, তিনি ২০২৩ সালে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ২০২৫ সালের নীতিমালায় অভিজ্ঞ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান অনুযায়ী তাঁকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়োগেও তাঁর কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।

২০২৩ সালে যোগদানকৃত রাজপাড়া থানা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাব্বির হোসেনও একই রকম মন্তব্য করেছেন, বলছেন যে নতুন কাউকে নিয়োগ না দিয়ে পুরাতন কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ক্ষেত্রেও কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি।

কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসাইন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে আগের কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্বভাবে কোনো তালিকা তৈরি করেনি; বরং নির্বাচন কমিশনের থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুসারে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ নিয়ে থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পুরো নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তাঁর দাবি, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডিএম আতিকুর রহমান বলেছেন, তদন্ত না করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না এবং বলেছেন যে তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তখন বিষয়টি জানানো সম্ভব হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রকৃতপক্ষে অনিয়ম হয়েছে কি না, ঘুষের অভিযোগের বাস্তবতা কী, আর যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে সে দায় কার? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলে তদন্ত প্রতিবেদনে। তবে সরকারি নথিতে যখন দেখা যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা, বিপিপিএর অনুমোদন, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং সচিবালয়ের স্বাক্ষরিত অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে, তখন অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন হলো, বহুস্তরের সিদ্ধান্তে সম্পন্ন একটি প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক দায় কি কেবল একজন কর্মকর্তার ওপরই বর্তাবে, নাকি তদন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তর সমানভাবে মূল্যায়িত হবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%