০৫:২৭ পি.এম
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাস বাদী হয়ে জুলাই মাসে ছাতক থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। পরে পুলিশ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ঝলক মোহন্ত।
আরও পড়ুন: নড়াইলে অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার অভিযোগে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও একাধিক সিমসহ ৪ জন গ্রেফতার
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ছাতক থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বহির্ভূত নদীপথে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর ও একটি হুইল লোডার জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, জব্দকৃত যন্ত্রপাতির কোনো বৈধ মালিক বা দাবিদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দকৃত আলামত ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ইজারা বহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে আসছিলেন, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, গঠন হলো নির্মূল কমিটি
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রহমতপুর গ্রামের ছালিম উদ্দিনের ছেলে আমির আলী (৩৮), জমির আলী (৩৫), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল বশর (৬০), আলমপুর গ্রামের আলতাবুর রহমানের ছেলে আতাউর (৪০), সোনাফর আলীর ছেলে চমক আলী (৬০), নজির আলী (৫৫), সোনাপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছেলে ধন মিয়া (৬২), জিয়াদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৫২) ও গাংপাড় নোয়াকুট গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে কামরুল (৩৮)।
এ ছাড়া বৈশাকান্দি (বাহাদুরপুর) গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে রফিক (৫৫), জয়নাল (৪৬), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবাদুল্লাহ (৫৪), জাইদুল (৪২), শারফিন পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আতাউর (৪৮) ও চাটিবহর গ্রামের তৈমুজ আলীর ছেলে সুজন (৪৬) এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী রেবুল কুমার দাস বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: গণধর্ষণের অভিযোগে কিশোরী মিথিলা আক্তারের মৃত্যু, অভিযুক্তদের নাম ভিডিওতে
ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ঝলক মোহন্ত বলেন, ‘মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে নৌ পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন