০৫:১৪ পি.এম
কৈশোর জীবন থেকেই মো. খলিল কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ৪৫ বছর বয়সী এবং মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে চিকিৎসা চললেও অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসাও এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
খলিল ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল শেখের পুত্র। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমদিকে খলিল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে যান। তারা টাইফয়েড শনাক্ত করে চিকিৎসা দিলেও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। বরং দিন যত গড়িয়েছে, তার শরীরের রক্তের পরিমাণ কমতে শুরু করে এবং শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত।
রোগ নির্ণয়ের পর, মো. খলিল রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি জমিজমা, সঞ্চয় ও পরিবারের যা কিছু ছিল, প্রায় সবই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার মধ্যে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এখন সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
খলিলের স্ত্রী সুখী বলেন, "চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আমার স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে হবে। তবে সেখানে চিকিৎসা করাতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা আমাদের পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।"
খলিলের প্রতিবেশী ছিদ্দিকুর রহমান জানান, তার পরিবারের সদস্য রয়েছে স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান। এর মধ্যে একটি সন্তান প্রতিবন্ধী। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই খলিল, যিনি আজ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তাই একমাত্র একজন মানুষের জীবন নয়, অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পুরো একটি পরিবার। সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা মানবিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে খলিলের চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, "ক্যানসারে আক্রান্ত খলিলের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করা হবে।"
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন