বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৫ পি.এম
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ট্রেনের চালক লাল সিগন্যাল (Red Signal) দেখে সতর্কবার্তার প্রতি মনোযোগ না দিয়ে উল্টো গতি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্ত শাখার (RAIB) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
১৯ জুন তারিখে লন্ডনের উত্তরে বেডফোর্ডশায়ারের এলস্টো (Elstow) এলাকায় ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের (EMR) দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় করবি (Corby) থেকে লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাসগামী ট্রেনের চালক শন বার্টন (৬০) নিহত হন এবং ১০২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সংঘর্ষের ফলে উভয় ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে প্রায় ২৫৭ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চালক শন বার্টন সংকেত পাওয়ার পরও ট্রেনের গতি কমাননি, বরং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৬ মাইল (প্রায় ১২২ কিমি) পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। অপর থেমে থাকা ট্রেনটির মাত্র ২০০ মিটার দূরত্বে পৌঁছানোর পর (যা সংঘর্ষের মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে) তিনি জরুরি ব্রেক চাপেন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায় এবং ঘণ্টায় ৭৫ মাইল গতিতে অন্য ট্রেনটির পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, সামনের নটিংহাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি কারিগরি ত্রুটির (অটোমেটিক ওয়ার্নিং সিস্টেম বা AWS) কারণে লাইনে হঠাৎ থেমে গিয়েছিল। এর ফলে পেছনের সিগন্যালটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল হয়ে যায়।
কেন অভিজ্ঞ এই চালক লাল সংকেত দেখার পরও ট্রেনের গতি বাড়ালেন এবং ট্রেনের অটোমেটিক ব্রেকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না—এগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে তদন্তকারী দল RAIB। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ইউনিটটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাইবার পুলিশিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।
অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল থাকবে। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এ জনবল পূরণ করা হবে।
ইউনিটটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন কারিগরি পদে দক্ষ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ ইউনিটে পদায়ন করা হবে। ইউনিটের সিনিয়র কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাইবার অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউনিটের অধীনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে। মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদসহ বিভিন্ন অপরাধ তদন্তে এ ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, নতুন ইউনিটের মাধ্যমে তা দূর করা হবে। এখন থেকে একক ও সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষায়িত এ ইউনিটের কার্যক্রমের মাধ্যমে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে। প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যে গভীর সংযুক্তি তৈরি করেছে, তা থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এবং দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, এফবিসিসিআই’র প্রশাসক ফজলুল হক, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনিন আহমেদ, এনপিও'র মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলী, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান, ট্যুরিজম রিসার্চ ডেভেলপমেন্টের পরিচালক আবু সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ওভারল্যাপিং বা একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা উচিত। এ জন্য এডিপির আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের ওভারল্যাপিং রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, এনএসডি মূলত একটি রেগুলেটরি বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। এই দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখা যাবে না। যদি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং অপচয় কমবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো গেলে এডিপির বাস্তবায়নে যে ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
মুক্তাদির বলেন, উৎপাদনশীলতা কেবল শিল্পকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক ও উন্নতমানের উৎপাদন নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত প্রমাণ করেছে যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। তাই আমাদের মূল ঘাটতি শুধু দক্ষতার নয়; নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত বাস ভাড়া প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালুর দাবিতে সাত ছাত্র সংগঠনের জোট ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। ৩ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী হাফ পাস চালুর জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটামসহ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা উল্লেখ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহন ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করে। তাঁদের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত হার ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইওভারের টোলসহ এ রুটে ভাড়া কোনোভাবেই ৫৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
ভাড়া কমানোর দাবি তোলার পর মালিকপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করার কৌশল নিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা।
তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া অবিলম্বে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা কার্যকর করার দাবি জানান। পাশাপাশি সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় পরিচয়পত্র দেখালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া এবং নিঃশর্ত হাফ পাস চালুর দাবি জানান।
এ ছাড়া বাস ও কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার নোটিশ টাঙানো, যাত্রীদের রসিদ প্রদান এবং ভাড়া নির্ধারণে খরচ ও টোলের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা এবং রেলপথে ট্রেন ও বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও জানান তাঁরা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৪ অক্টোবর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধ পালন করবে ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, বেসরকারি পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিআরটিসি বাস সার্ভিস সীমিত রাখা এবং ট্রেনের বগির সংখ্যা কমিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রনেতারা জানান, বাস মালিকেরা বৈঠকে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাস্তবে তাঁরা নিজেরাই ‘মাফিয়াতন্ত্র ও সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলে যাত্রীদের পকেট কাটছেন।
দলীয় মতপার্থক্য ভুলে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, ছাত্রদলের স্থানীয় একটি অংশ শিক্ষার্থীদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিলেও প্রগতিশীল ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা নূর, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সম্পাদক কামরুল হাসান মিরাজ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সিয়াম, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের জেলা আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সংগঠক মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির বিভাগের ২০০৬ সেশনের শিক্ষার্থী জুলকারনাইন রাদ। তার বড় ছেলে মুহাম্মাদ মুয়াজ আব্দুল্লাহর জন্ম ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।
মুহাম্মাদ মুয়াজ মাত্র আড়াই বছর বয়সে প্রথমবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। দেড় বছর ধরে ৮ সাইকেল কেমোথেরাপি, ৩৯ সেশন রেডিওথেরাপি এবং ৬টি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুয়াজ ক্যান্সারকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল, যা সবার দোয়া, ভালোবাসা এবং সহযোগিতার ফলস্বরূপ।
মুয়াজের জীবন তখন মনে হয়েছিল স্বাভাবিক ও সুন্দর হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবতা তাকে আবারও কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করেছে।
সম্প্রতি দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং জ্বরের কারণে পরীক্ষা করা হলে রিপোর্টে দেখা যায়– হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ৫ দশমিক ৮, প্লাটিলেটের মাত্রা ১০ হাজার এবং ডব্লিউবিসি (WBC) দেড় লাখ। অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর শিশুটির শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে।
এরপর বোনম্যারো টেস্ট, এনজিএস, ক্যারিওটাইপিং, এমআরআই, হিস্টোপ্যাথলজিসহ রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (Internal Bleeding) চলতে থাকায় প্রাথমিক অবস্থায় জটিল এ চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি হননি। বর্তমানে মুয়াজ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মুয়াজের জন্য ইতোমধ্যে BFM 2004 প্রোটোকল অনুযায়ী কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় ৫টি ইন্ডাকশন বা কেমোথেরাপি সাইকেলের প্রয়োজন, যার মধ্যে প্রথম সাইকেলটি বর্তমানে চলছে। শুধু এই অংশের হাসপাতাল খরচ আনুমানিক ৭৫ লাখ টাকা।
ক্যান্সারকে শরীর থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হবে। মুয়াজকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে অন্ততপক্ষে আরও ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে এই দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসার জন্য আনুমানিক সোয়া কোটি টাকার প্রয়োজন।
এতো বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা মুয়াজের পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই মুয়াজের পরিবার সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে।
মুয়াজ করুণার পাত্র নয়, সে কেবল আরও একবার নতুন করে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ চায়।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা—
ব্যাংকের মাধ্যমে সহযোগিতা:
Dutch-Bangla Bank PLC
Account Name: K. M. ZULKERNINE
Account No: 2551580020269
Branch: Panthapath
Routing No: 090270424
SWIFT: DBBLBDDH
BRAC Bank PLC
Account Name: K.M. ZULKERNINE
Account No: 1082583500001
Branch: Gulshan Branch
Routing No: 060261726
SWIFT: BRAKBDDH
Mutual Trust Bank PLC
Account Name: K.M. ZULKERNINE
Account No: 1311004548413
Branch: Tejgaon
Routing No: 145264480
SWIFT: MTBLBDDH
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা:
বিকাশ
মুয়াজের বাবা: 01551618574
মুয়াজের মা: 01533054254
মুয়াজের মামা: 01683997324
নগদ
মুয়াজের বাবা: 01917195064
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ