০৮:২৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী বুধবার (১৭ জুন) থেকে মহররম মাসের গণনা শুরু হবে। সারা দেশে আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
আশুরা একটি আরবি শব্দ। এটি 'আশারা' থেকে এসেছে। যার অর্থ দশ। আরবি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়।
আশুরা দিবসে অনেক স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ এবং যাবতীয় সৃষ্টি-জীবের আত্মা সৃষ্টি করেছিলেন, সে দিনটি ছিল ১০ মহররম, অর্থাৎ পবিত্র আশুরার দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হলো ‘সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ি’ এই দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে।
ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির অন্তর্গত ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের উদ্যোগে মোংলার চিলা বাজারে বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালি, বৃক্ষরোপণ এবং ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা আগ্রহসহকারে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় তরুণদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ গ্রুপ’ এবং ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপ’ সদস্যরা সাইকেল র্যালির আয়োজন করেন, যা উপজেলা চিলা ইউনিয়নের চিলা বাজার থেকে কেয়াবুনিয়া সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভাঙ্গন রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পশুর নদীর পাড়ে ৬ একর জায়গায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪টি প্রজাতি (কাঁকড়া, বাইন, কেওড়া ও পশুর) এর ওপর ৩৫ হাজার ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়। বিশাল এই বনায়ন কর্মসূচিতে বর্তমানে ব্র্যাক এবং ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ গ্রুপ’ ও ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপ’ এই নবীন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের দীর্ঘ মেয়াদি ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, পরিচর্যা এবং টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ পরিকল্পনা করছে।
আলোচনা সভায় কীভাবে বিদ্যমান বনকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা যায় এবং স্থানীয় জনগণকে অধিক সম্পৃক্ত এবং সচেতন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
দিবসটির আলোচনা সভায় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের অপরিসীম গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বৃদ্ধির উপায়, বিদ্যমান বনকে সুরক্ষিত রাখা এবং স্থানীয় জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ুর চরম ভাবাপন্নতা রোধে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অপারেশনস ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, এরিয়া ম্যানেজার তৃপ্তি সরদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপ’ ও ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ গ্রুপ’ এর সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে BNP’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম তাকে দেখতে গিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার তিনি রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পৌঁছান।
এ সময় অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম মুশফিকুল ফজল আনসারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি মুশফিকুল ফজল আনসারীর শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নিয়েছেন। এছাড়া, পরে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও তিনি অনুরোধ জানিয়ে ছিলেন।
বর্তমানে মুশফিকুল ফজল আনসারী সিএমএইচের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. সাইয়েদা আলেয়া সোলতানার নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য যে, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে বুকে ব্যথা অনুভব করার পর মুশফিকুল ফজল আনসারী হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর হৃদরোগ শনাক্ত করা হয়। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়। এ বিষয়ে ফাইল ছবি দেওয়া হয়েছে।
ফেনী জেলাকে বন্যার হাত থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে ২০১২ সালে মুহুরী-কহুয়া এফসিডিআই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর প্রত্যেক উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং এতে ২৯ জনের মৃত্যু হয়ে।
প্রকল্প অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী এবং জলাধার পুনঃখনন, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন এবং শক্তিশালীকরণ, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, একটি আধুনিক হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ, তিনটি নতুন রেগুলেটর এবং ২৭টি বিদ্যমান সেচ অবকাঠামোর পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষিজমিসহ আনুমানিক ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে। এ ছাড়াও বার্ষিক পৌনে চার লাখ টন অতিরিক্ত শস্য ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদন বন্যার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে দুই হাজার ৩৭০ জন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে, প্রকল্পটি অনুমোদনের খবর ফেনীতে পৌঁছালে বন্যায় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন এবং ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল প্রধানমন্ত্রীর নিকট ধন্যবাদ জানিয়েছেন যে, জনগণের দাবির প্রতিফলন ঘটে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। আশা করি, এ টেকসই বাঁধ নির্মাণের ফলে আমরা ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট বন্যা থেকে রক্ষা পাব।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক গনমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্পটি পাস হওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি।
প্রকল্পটির বিষয়ে আমি এর আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে বারবার তাগাদাপত্র দিয়েছি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বন্যা পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা যেন আর না হয়। যেহেতু জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা নেই, তাই আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব।
২০২৪ সালে ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা উজানের পানিতে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং আশপাশের জেলাগুলো ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফেনীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য বারবার অর্থ বরাদ্দ দিলেও স্থায়ীভাবে কোনো সমাধান হয়নি। এ নিয়ে ফেনীর মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং জেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ