১১:১৪ এম
স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি পাহাড়ের নিচে প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো রোমান সোনার খনি সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা।
এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই রোমান প্রকৌশলীরা জলচালিত খনন পদ্ধতি ব্যবহার করে কোটি টন মাটি সরিয়ে সোনা উত্তোলন করতেন।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, স্পেন-ফ্রান্স সীমান্তবর্তী সেরদানিয়া উপত্যকা-এর গুইয়েতেরেস দ’আল এলাকায় আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলো একটি সুপরিকল্পিত রোমান সোনা খনির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
সেখানে পলি স্তরের নিচে চাপা পড়ে থাকা একটি প্রাচীন জলাধারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সোনা উত্তোলনে ব্যবহৃত জলচালিত প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
প্রথম নজরে এলাকা প্রাকৃতিক পাহাড়ি ভূদৃশ্য মনে হলেও, বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করলে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা সরু পরিখা, কাটা ঢাল এবং বৃহৎ খননক্ষেত্রের জটিল কাঠামো শনাক্ত করেন।
বিশেষভাবে, প্রায় ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি বৃত্তাকার খনন এলাকা গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইউনিভার্সিটি অব আ কোরুনা ও ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনা রোমান খনিশ্রমিকদের নির্মিত এবং এটি কোনো ছোট অনুসন্ধানমূলক প্রকল্প নয়, বরং এটি বৃহৎ পরিসরের পরিকল্পিত খনিকাজের অংশ ছিল।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
গবেষণায় জানা গেছে যে, রোমানরা গভীর সুড়ঙ্গ খননের পরিবর্তে জলচালিত খনন প্রযুক্তি ব্যবহার করত।
এ পদ্ধতিতে জলাধারে বিপুল পরিমাণ পানি জমা করে খালের মাধ্যমে সোনাসমৃদ্ধ পলির দিকে প্রবাহিত করা হতো।
পানির প্রবল স্রোতে মাটি, নুড়ি ও শিলা ভেঙে নিচে নেমে যেত, পরে শ্রমিকেরা সেখান থেকে স্বর্ণকণা সংগ্রহ করতেন।
২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পরিচালিত খননকাজে প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার চওড়া ও ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর একটি প্রাচীন জলাধার আবিষ্কৃত হয়েছে।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
বড় পাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে এটি শক্তিশালী করা হয়েছিল।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা পলি এই স্থাপনার ইতিহাস সংরক্ষণ করে রেখেছে।
জলাধারটি সর্বশেষ কবে ব্যবহৃত হয়েছিল তা নির্ধারণে গবেষকেরা অপটিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেসেন্স (ওএসএল) পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
এতে দেখা যায় যে, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে খনিটির জলচালিত ব্যবস্থা পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
ফলে এটিকে যে রোমান যুগের স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করছে, তা নিশ্চিত হয়েছে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, খননকাজে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার মাটি সরানো হয়েছিল, যার পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন টনের সমান।
মধ্যাকর্ষণ, পানি এবং মানবশ্রমের সমন্বয়ে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছিল।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কেবল একটি হারিয়ে যাওয়া সোনা খনির সন্ধান নয়, বরং এটি রোমান সাম্রাজ্যের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রকৌশলক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক শক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে স্পষ্ট বার্তা দিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলাধার, খাল ও বৃহৎ জলচালিত অবকাঠামো নির্মাণে রোমানদের অসাধারণ দক্ষতার নতুন প্রমাণ মিলেছে এই খনিতে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন