১১:১৯ এম
সমুদ্রের বুকে এমন একটি শহরের স্বপ্ন প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা এক জায়গায় কখনো স্থির থাকবে না। এতে থাকবে ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, পার্ক, শপিং সেন্টার, এমনকি নিজস্ব বিমানবন্দরও। বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি হল ‘ফ্রিডম শিপ’—যা নিয়ে বর্তমানে সর্বত্র আলোচনায় রয়েছে বিশ্ব প্রকৌশল মহল।
প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা এই ভাসমান শহরের ধারণা প্রথম উত্থাপন করেছিলেন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে। বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রজার গুচ। তাদের লক্ষ্য হল বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘সমুদ্র নগরী’ গঠন করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হবে একটি বিশাল ভাসমান জাহাজ, যা কোনো নির্দিষ্ট বিদেশি বন্দরে নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিশ্বজুড়ে চলাচল করবে। প্রতি দুই থেকে তিন বছরে এটি একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এই ভাসমান শহরটি আকারে হবে অভূতপূর্ব। এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রুজ শিপের চেয়েও কয়েক গুণ বড় হবে, যেখানে থাকতে পারবে প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা। পাশাপাশি ২০ হাজার ক্রু এবং একসাথে এখানে ১০ হাজার অতিথি অবস্থান করতে সক্ষম হবে।
শুধুমাত্র বসবাসের জন্য নয়, এই শহরে স্থাপিত হবে স্কুল, ব্যাংক, অফিস, হাসপাতাল, গবেষণা কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, শপিং এলাকা, মিউজিয়াম, কনসার্ট হল এবং বিশাল ইকো-পার্ক। তাছাড়া দ্রুত চলাচলের জন্য থাকবে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, জাহাজের ছাদে অবস্থিত হবে বিমান ওঠা-নামার জন্য রানওয়ে এবং একাধিক হেলিপ্যাড। ছোট উড়োজাহাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বিমান পর্যন্ত এখানে অবতরণ করতে পারবে।
তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রয়েছে অনেকে চ্যালেঞ্জ। বিশাল আকারের কারণে এটি কোনো বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না, ফলে এটি স্থায়ীভাবে সমুদ্রেই অবস্থান করতে হবে। জ্বালানি ব্যবস্থাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে, যেখানে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে বিপুল অর্থায়ন। বিশাল ডলারের বিনিয়োগ ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাই বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও, বাস্তব রূপ পাওয়ার পথ এখনো কঠিন ও অনিশ্চিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন