ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকার সংযোগ সড়কে বালুর বদলে মাটি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী


নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকার সংযোগ সড়কে বালুর বদলে মাটি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ও ইটের টুকরো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, রাতের আঁধারে এসব মালামাল দিয়ে সড়কের দুই পাশ ভরাটের চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ঠিকাদারকে আগেই ওই মালামাল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কীভাবে ওই মালামাল প্রকল্প এলাকায় এলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

‎

উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজার থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বরিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটির দুই পাশে প্রশস্তকরণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় বিএনপি'র পথসভা, অস্থিতিশীল পরিবেশের প্রতিবাদে আহ্বান

‎

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে মাটির সঙ্গে ইটের টুকরো মিশিয়ে ভরাটের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা বাধা দেন। একপর্যায়ে মাটিবোঝাই কয়েকটি গাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।

‎

এ বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কের অন্য পাশের ডব্লিউএমএম (WMM) কাজের নিচের অংশে মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় তিনি ঠিকাদারকে ওই পাশের মালামাল গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপরও ঠিকাদার দুই গাড়ি মালামাল নিয়ে এসেছিলেন। পরে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও সাংবাদিকদের দেখান।

আরও পড়ুন: প্রবাসীরা গ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে চান: ব্রিটিশ কাউন্সিলর আব্দুল মালিক

‎

তবে প্রকৌশলীর বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে, ঠিকাদারকে আগেই নিষেধ করা হয়ে থাকলে এরপরও কীভাবে ওই মালামাল প্রকল্প এলাকায় আনা হলো? নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মালামাল আনার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আর সড়কের দুই পাশে ইতোমধ্যে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

‎

অন্যদিকে, কাজের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি সাংবাদিককে বালু না মাটি, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখার কথা বলেন। পরে প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি মুঠোফোনে সাংবাদিককে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুগে যুগে এমপি-মন্ত্রী আসবেন, একজন নজরুলের জন্ম হবে না: জহির উদ্দিন স্বপন

‎

বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিদুল অভিযোগ করে বলেন, সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

‎

একই গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজের সময় নিয়মিত পানি দেওয়া হয়নি। যেখানে খোয়া দেওয়ার কথা, সেখানে ভাটার শক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ভরাটের জন্য নর্দমা থেকে মাটি তুলে আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: উগ্রতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লাল কার্ড, শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে ইয়েস কার্ড: তাহেরী

‎

প্রায় ২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিষেধ করার পরও যদি ঠিকাদার নিম্নমানের মালামাল নিয়ে আসেন, তাহলে প্রকল্পের কাজের সার্বিক মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৫ বছরে সেন্টমার্টিনে চালু হয়নি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


৩৫ বছরে সেন্টমার্টিনে চালু হয়নি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, যা পর্যটনের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘকাল ধরে বিরাজমান। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দ্বীপের সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল হয়নি। এর ফলে প্রায় ১১ হাজার মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে একটি বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে, ওই প্রকল্প থেকেও দিনে-রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

এদিকে, পর্যটন মৌসুমের প্রেক্ষাপটে গত ১ নভেম্বর থেকে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি না করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এক সময় সন্ধ্যা হলে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোয় আলোকিত হতো সেন্টমার্টিন। ১৯৮১ সালে স্থাপিত কেন্দ্রটির জেনারেটর ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আর সচল করা হয়নি। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

যেখানে একসময় বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, এখন সেখানে নীরবতা বিরাজ করছে। শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রই নয়, এর আওতাধীন সরকারি রেস্টহাউসেও নেই নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করেই চলছে সেটি।

সেন্টমার্টিন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কেয়ারটেকার তাতু বড়ুয়া সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে জেনারেটরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটর কক্ষটি এখন পরিত্যক্ত। সরকারি রেস্টহাউসটি সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লু মেরিন এনার্জি।

বেসরকারি প্রকল্পেও চাহিদা মিটছে না

দ্বীপের চিত্র সময়ের সঙ্গে বদলেছে। জনসংখ্যা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল-রিসোর্ট এবং পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় পুরো দ্বীপ এখন নির্ভরশীল বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর।

২০১৯ সালে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু করে ব্লু মেরিন এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা ৮০০-এর বেশি। তবে প্রকল্পের ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প থেকে সিস্টেম লস বাদ দিয়ে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৩৮ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ৮০০-এর বেশি গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দ্বীপে কয়েক শ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বা টমটম রয়েছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়েছে। তার অভিযোগ, টমটমের ব্যাটারি চার্জের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে নেয়া হয়। এছাড়া প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়ির মিটার থেকে আরও কয়েক শ বাসাবাড়িতে অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে কর্মীদের মারধরের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রকল্পের ব্যাটারির অবস্থাও ভালো নয় বলে জানান রফিকুল ইসলাম। তার ভাষ্য, ১০ বছর মেয়াদি ব্যাটারিগুলো সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় নতুন ব্যাটারি আমদানির জন্য চীন থেকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এগুলো আসতে আরও দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

জেনারেটরের খরচে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে রফিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন অনেক কমে যায়। এছাড়া সফ্‌টওয়্যার বা সার্ভারের ত্রুটির কারণে কখনো কখনো উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। তখন উচ্চক্ষমতার দুটি জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়।

তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্ট এবং ২০০টির বেশি রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট চালু হবে। তখন দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৭০০ থেকে ৮০০ কিলোওয়াটে পৌঁছাতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১৮০ কিলোওয়াট। বাকি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালাতে হবে।

রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে ডিজেল পরিবহনে লিটারপ্রতি আরও ৪০ টাকা খরচ হয়। এসব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেননি বলে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম। তার মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দ্বীপে আরও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হলে সরবরাহের চাপ কমবে।

দাম ও মিটার চার্জ নিয়ে অভিযোগ

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি মিটারে রিচার্জ ও বিভিন্ন চার্জ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। তাদের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও প্রতিবার রিচার্জের সময় বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল প্রায় দুই টাকা। ঘূর্ণিঝড়ে সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি আর সংস্কার করা হয়নি। সে সময় চাহিদা কম থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, রিসোর্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের প্রয়োজন বেড়েছে। তাই সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা জরুরি।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে এক ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। মিটারে কখনো ৭০০, কখনো ২০০ টাকা রিচার্জ করতে বলা হয়। মাসে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করেও কীভাবে টাকা খরচ হচ্ছে, তা গ্রাহকদের কাছে পরিষ্কার নয়।

আরেক বাসিন্দা আকতার কামালের অভিযোগ, প্রতি এক হাজার টাকা রিচার্জে প্রায় ৩০০ টাকা মিটার চার্জ হিসেবে কেটে নেয়া হয়। মাসে যতবারই রিচার্জ করা হোক, প্রতিবারই এই চার্জ দিতে হয়। এর সঙ্গে সরকারি কর যুক্ত হয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত খরচ ৬০ থেকে ৬২ টাকায় দাঁড়ায় বলে দাবি করেন তিনি।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আকতার কামাল। তার মতে, এ বিষয়ে গ্রাহকদের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর দাবি

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ে না। ব্লু মেরিন এনার্জির মালিকপক্ষ প্রতিবছর ব্যাটারি সরবরাহের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফয়েজুল ইসলামের ভাষ্য, সম্প্রতি বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে এক মাসের মধ্যে ব্যাটারি সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তার মতে, ব্যাটারি সরবরাহ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির উচিত নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া। সরকার চাইলে সৌরবিদ্যুৎ বা পিডিবির মাধ্যমে দ্বীপের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সূর্যের আলো ব্যবহার করে দিনে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। কোনো ধরনের সেবা না বাড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্বীপবাসী মেনে নেবে না।

ফয়েজুল ইসলামের দাবি, সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ কিংবা বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি দ্বীপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা পিডিবির

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেডের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ শিহাব সময় সংবাদকে বলেন, প্রকল্পটি চালুর সময় মূলত বাসাবাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ইজিবাইক, মিশুক, হোটেল-রিসোর্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যটন মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি সময় সংবাদকে বলেন, নানা কারণে সেন্টমার্টিনের অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন তারা।

৩৫ বছর ধরে অচল সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা-সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের প্রায় ১১ হাজার বাসিন্দার জন্য বিদ্যুৎ এখন বড় সংকট। নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানালেও কবে নাগাদ এর সুফল মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তাই সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান দ্বীপবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, নজরদারিতে ড্রোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, নজরদারিতে ড্রোন

শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্প-কারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া ও মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং করছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে এসব ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল ও শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না: মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না: মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালয়েশিয়া সরকার ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইনের বিধানকে বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, জাকির নায়েককে ভারতে পাঠানোর জন্য নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন তার সরকার পায়নি। সংসদে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত হলো, জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ করা হবে না। ফলে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, জাকির নায়েককে ফেরত চেয়ে ভারতের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক আবেদন কবে এসেছে এবং ভারত কর্তৃক দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইন ও দুই দেশের চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।

গত সেপ্টেম্বরে বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। এ নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা ব্যাখ্যা দাবি করেন।

মালয়েশিয়ার বিরোধী দল পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা ও কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান। তিনি ভারতের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইনের শর্ত পূরণ করে কি না, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি তোলেন।

অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভারত সরকার জাকির নায়েককে দেশে ফিরিয়ে নিতে চায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং মালয়েশিয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণার ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজে দুই বছর ধরে কেউ পাশ করেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


নেত্রকোণার ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজে দুই বছর ধরে কেউ পাশ করেনি

নেত্রকোণা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভুক্ত ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোক সাহিত্য গবেষণা একাডেমি থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, বরং নেত্রকোনা জেলার আরও পাঁচটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ, জেলার ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, এসব প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিওভুক্ত।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

কলেজের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পূর্ববর্তী বছরেও এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হন। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শাহ্পুর গ্রামে ‘ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সুন্দর ভবন নির্মিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের সাফল্য পাচ্ছে না।

চলতি বছর কলেজটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। এ ব্যাপারে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই।’ ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আপনাদেরকে কিছু বলতে চাই না, যা বলার শিক্ষা বোর্ডকে বলব।’

জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এবার নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯ শত ১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৮ শত ৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%