ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

‘বাবা-মা অসুস্থ থাকলে অন্য কিছু মাথায় থাকত না’: সোনু সুদ


‘বাবা-মা অসুস্থ থাকলে অন্য কিছু মাথায় থাকত না’: সোনু সুদ

অভিনেতা সোনু সুদ জানিয়েছেন, বাবা-মা অসুস্থ থাকলে জীবনের অন্য কোনো কিছুই মাথায় থাকত না। হাসপাতালে বাবা-মাকে নেওয়া, চিকিৎসার খোঁজ রাখা এবং তাদের পাশে থাকা তখন তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল।

সম্প্রতি ‘কুছ হোগা তো বাতানা’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখার পর সোনুর মনে পড়ে যায় বাবা-মায়ের অসুস্থতার সময়ের কথা। চলচ্চিত্রটিতে একজন তরুণীকে বাবার চিকিৎসার জন্য নিজের চাকরি, বন্ধু ও ব্যক্তিগত সময় অনেকটাই ছেড়ে দিতে দেখা যায়।

সোনু জানান, বাবা-মা অসুস্থ থাকার সময় তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। সে সময় সিনেমা, কাজ, নিজের দৈনন্দিন জীবন, শরীরচর্চা কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ভাবার মতো মানসিকতা তার ছিল না। বাবা-মায়ের সুস্থতাই তখন তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন: লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসট্রেনসেন

হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াতের সময় তিনি আরো অনেক মানুষকে স্বজনের দেখাশোনা করতে দেখেছেন। তাদের জীবন যেন অসুস্থ স্বজনকে ঘিরেই থেমে গেছে—এমন অনুভূতির কথাও তিনি জানান।

সোনুর ভাষ্য, কোনো পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হলে প্রায়ই পরিবারের অন্য একজনকে তার পুরো জীবনযাপন বদলে ফেলতে হয়। কখন ওষুধ দিতে হবে, কোন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, চিকিৎসক কী বলেছেন, এরপর কী করতে হবে—এসব ছোট ছোট বিষয় ধীরে ধীরে তার পুরো জীবনের অংশ হয়ে যায়।

সুতরাং, শুধু সহানুভূতি জানানো নয়, পরিচর্যাকারীর পাশে বাস্তবভাবে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সোনু। তার মতে, কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও অসুস্থ ব্যক্তির দায়িত্ব অন্য কেউ নিলে পরিচর্যাকারী কিছুটা নিজের সময় ফিরে পান।

সোনু বলেন, যে মানুষটি সবার যত্ন নিচ্ছেন, তারও কারও যত্ন প্রয়োজন। বাবা-মায়ের অসুস্থতার সময় নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি পরিচর্যাকারীদের এই মানসিক চাপ ও দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: দীপিকার ৮ ঘণ্টার শিফটের দাবি নিয়ে ইশিতার প্রতিক্রিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুগঞ্জে গাঁজা ও ফেয়ারডিল সিরাপসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


আশুগঞ্জে গাঁজা ও ফেয়ারডিল সিরাপসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৬ কেজি গাঁজা ও ৯৬ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এরপর একই দিন দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেটকার আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ৯৬ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ উদ্ধার করা হয় এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর গ্রামের মো. মাসুদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বড় বাজার চন্দন শাহ বাগান বাড়ি এলাকার মো. রাসেল এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গোদারাঘাট এলাকার মো. রুহুল আমিন।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা গাঁজা ও ফেয়ারডিল সিরাপ এবং প্রাইভেটকার বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রো রেলের দুই লাইনের নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


মেট্রো রেলের দুই লাইনের নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন

ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুইটি লাইনের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় লাইন-১ ও লাইন-৫-এর ভূগর্ভস্থ ও উড়ালপথ, স্টেশন, ডিপো, ট্র্যাক, বিদ্যুৎ, সংকেত এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে মেট্রো রেলের কাজের আটটি ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় এবং তিনটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ। এছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর চার প্যাকেজের জন্য ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র ও ট্র্যাকশন উপকেন্দ্র।

এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

প্রাক্‌-যোগ্যতা উত্তীর্ণ তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই দরপ্রস্তাব জমা দেয়। সব কটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় নাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এই প্যাকেজে দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। স্টেশনগুলো হলো—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। এছাড়া টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট নির্মাণ করা হবে।

এই প্যাকেজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, সিপি-০৯ প্যাকেজের আওতায় রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগব্যবস্থা থাকবে।

এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে কাজটির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় মেট্রো রেলের সংকেত, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্মের দরজা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক সঞ্চালন নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির বেতার যোগাযোগব্যবস্থাও এর অন্তর্ভুক্ত।

এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

লাইন-৫-এ উড়ালপথ ও পাঁচ স্টেশন

লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুন বাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটার—মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা।

চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশকৃত দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

আরো তিন প্যাকেজের প্রস্তাব সুপারিশ

বৈঠকে লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশকৃত দরদাতা করা হয়েছে।

সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায় ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা। সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশকৃত দরদাতা করা হয়েছে।

এছাড়া লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ করা হবে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশকৃত দরদাতা করা হয়েছে।

২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য

জানা গেছে, লাইন-১ ও লাইন-৫-দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। উভয় প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুর মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে এসে নিখোঁজ জামায়াত নেতার স্ত্রী গুল নাহার বেগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


দিনাজপুর মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে এসে নিখোঁজ জামায়াত নেতার স্ত্রী গুল নাহার বেগম

দিনাজপুরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জামায়াত নেতার স্ত্রী গুল নাহার বেগম (৫৫)। এই ঘটনার পর দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় জিডি করা হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতাল থেকে রোগী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। অনেকেই হাসপাতালের রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নিখোঁজ গুল নাহার বেগম সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের জার্জিস হোসেনের স্ত্রী। জার্জিস হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের কর্মপরিষদ সদস্য।

জানা গেছে, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গুল নাহার বেগমকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করান তার স্বজনরা। চিকিৎসা চলছিল যথারীতি। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার সময় পাশে থাকা মেয়ে জাকিয়া সুলতানা টয়লেটে গিয়ে ফিরে এসে দেখেন তার মা নেই। এরপর থেকে তারা রোগীকে খুঁজে পাচ্ছেন না। পরে কোতয়ালী থানায় জিডি করার পাশাপাশি শহরজুড়ে মাইকিং করা হয়েছে।

নিখোঁজ গুল নাহার বেগমের স্বামী জর্জিস হোসেন জানান, এখনও তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি কোতয়ালী থানায় জিডি করেছেন।

কোতয়ালী থানার পুলহাট ফাঁড়িতে কর্মরত উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, নিখোঁজ রোগীর সন্ধান পেতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রোগী নিখোঁজ হওয়ার পর হাসপাতালের সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে দেখা হয়েছে। তবুও হাসপাতালের ভেতরের অংশ ছাড়াও হাসপাতাল এলাকা খুঁজে দেখার জন্য চিঠি ইস্যু করেছি। তার নিখোঁজ হওয়া দুঃখজনক।

কোতয়ালী থানার ওসি নুরনবী বলেন, থানায় জিডি হয়েছে। আমরা সব থানায় ম্যাসেজ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে আবারও ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি ২২৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব (প্রতিনিধি)

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


ভৈরবে আবারও ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি ২২৬ জন

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জন ভর্তি, বেসরকারি হাসপাতালেও শতাধিক রোগী; মশক নিধন ও ময়লা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবারও ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে লায়লা মাহাবুবা মিতা (৪৮) নামে ওই নারী মারা যান। তিনি পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বিল্লাল মিয়ার মেয়ে। এ নিয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৯ জন নারী ও ১৩ জন পুরুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। আর সেপ্টেম্বর মাসেই ভর্তি হয়েছেন ২২৬ জন।

ভৈরবের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও শতাধিক রোগী। ফলে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকা এবং মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। আমার আত্মীয় লায়লা মাহাবুবা মিতাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। আমরা নিজেদের মতো করে সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ময়লার স্তূপের পাশাপাশি দুটি বড় ময়লার ভাগাড় রয়েছে। এসব জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ময়লা অপসারণের দাবিতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ভৈরবের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চেম্বারের পক্ষ থেকে এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট-বড় অনেক ময়লার স্তূপ রয়েছে। পাশাপাশি দুটি বড় ময়লার ভাগাড়ও আছে। ময়লা ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান না হলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য রোগও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এক ডেঙ্গু রোগীর স্বামী জসিম উদ্দিন বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে জ্বর থাকার পর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আজ তিন দিন ধরে চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক। সিট না থাকায় মেঝেতেও রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আরেক রোগীর বাবা হাজিফ মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ছেলের জ্বর অনেক বেড়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর পরীক্ষা করে জানতে পারি, সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। তার প্লাটিলেটও কমে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে এখন কিছুটা সুস্থ আছে। আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, তাঁর স্ত্রীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু একজন ব্যক্তি সচেতন হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।

ডা. কিশোর কুমার ধর জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ভৈরবের ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে বর্তমানে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক ফরহাদ আহমেদ বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় মানুষের সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে হবে। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে।”

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ময়লা ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণসহ বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসা ও পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানোরও দাবি রয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%