ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাটোরে ৩৫ বছর ধরে বেদখল থাকা ১৪ কোটি টাকার জমি উদ্ধার


নাটোরে ৩৫ বছর ধরে বেদখল থাকা ১৪ কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নাটোরে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের ১ দশমিক ৩৭ একর সরকারি জমি প্রশাসন উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার নাটোর শহরের দক্ষিণ চৌকির পাড় এলাকায়, হোমিওপ্যাথি কলেজসংলগ্ন ওই জমিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মূল্যবান এই সম্পত্তিটি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে একই এলাকার মহসিন আলী ওরফে সোনার দখলে ছিল। জমি উদ্ধারের পর সেখানে চারদিকে লাল নিশানা টানানো হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন জমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাটিরাঙ্গায় ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার, ২০ লাখ টাকার লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী, নাটোর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরহাদ হোসেন, নাটোর পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অভিযানে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

দখলদার মহসিন আলী ওরফে সোনার জানান, আগের সরকারের সময় ক্ষমতাশালী এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ টাকায় তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে তিনি ওই জমিতে মাছ চাষ করছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারের আমলে সরকারদলীয় স্থানীয় নেতারা জমিটি নিজেদের দখলে রেখে পরে অন্যদের কাছে লিজ দিতেন। এভাবে জমিটি পরর্বর্তীভাবে ভোগদখল হয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মহসিন আলী ওরফে সোনারও জমিটি দখলে নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন।

নাটোর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমিটি প্রাকৃতিকভাবে পুকুরে রূপান্তরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে জমিটি বেদখলে ছিল।

আরও পড়ুন: আওরাবুনিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শামসুল হক সুমন

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা সম্পত্তিটি সাইরাত খাস জমির শ্রেণিতে নিয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে সম্পূর্ণরূপে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করেছে লেবানন। দেশের সংসদ কয়েক দফা সংশোধনের পর মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে। এর ফলে লেবানন বিপ্লবীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তকারী প্রথম দেশ হিসেবে নতুন একটি নজির তৈরি করল।

লেবাননের সংসদের স্পিকারের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে। যাইহোক, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্যরা এই আইনটির বিরুদ্ধে বিরোধিতা করেছেন।

সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যে দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার, মৃত্যুদণ্ড বাতিলের উদ্যোগকে দেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নতুন আইনের আওতায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

লেবাননের আদালত ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত রেখেছে। তবে এ সময়ে দেশটির আদালতগুলো বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছে। লেবাননের বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ সময় পর্যন্ত ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়ে ছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে আশাবাদীভাবে স্বাগত জানিয়েছে, বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ এটিকে লেবাননের জন্য ‘বিশাল মাইলফলক’ এবং ‘মানবাধিকারের বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি মন্তব্য করেছেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ থাকার পর নতুন আইনটি সেই অনিশ্চিত বিরতিকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় রূপান্তর করেছে। একই সাথে, এটি জীবনের অধিকারকে সমুন্নত রাখবে এবং মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির বৈশ্বিক ধারার সাথে লেবাননকে সম্পৃক্ত করবে।

কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডকে কীভাবে বাস্তবায়িত করা হবে, তা এখনো সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা নতুন শাস্তির শর্তাবলি সম্পর্কে অস্পষ্টতা প্রকাশ করেছেন।

লেবাননের আইন ও আদালতের রায় অনুযায়ী সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক সংকট, সম্পদের সংকট এবং কারাগারগুলোর সীমিত সক্ষমতার কারণে সাম্প্রতিক বেশ কয়েক বছর ধরে এ ধরনের সাজা কার্যকর হয়েছে খুবই কম।

মৃত্যুদণ্ড বাতিলের এই সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে নেওয়া হলো, যখন লেবাননের সংসদ একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা বিষয়ক আইন নিয়ে আলোচনা করছে। ১৯৯০ সালে ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় ক্ষমা আইন হতে যাচ্ছে। এর আওতায় সংঘাত বা সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সাজা হ্রাস বা মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে, হামলায় নিহত লেবাননের সেনা ও সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যরা এই আইনের বিরুদ্ধে বজায় রেখেছেন তাদের অবস্থান। তাদের কয়েকজন জানিয়েছে যে, তারা স্বজনদের হত্যাকারীদের সাজা কমানোর পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ডই প্রত্যাশা করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউমার্কেটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


নিউমার্কেটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ১৫

রাজধানীর নিউমার্কেটের এলাকায় চাঁদা আদায়, দোকান দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। জানা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এই আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৮ জন সদস্য এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের গ্রুপের ৭ জন সদস্য রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, অন্যদের পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনার পর, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এ ঘটনার শুরু এবং দায়ভার নিয়ে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে একেবারে ভিন্ন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদল উল্লেখ করে, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের অনুসারী মো. সোহেল এবং আজিম, যিনি ‘গুন্ডা আজিম’ নামে পরিচিত, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতের দোকান ও ভ্যানগাড়ি থেকে জোরপূর্বক চাঁদা তুলতে গিয়েছিলেন।

জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন সেখানে গিয়ে চাঁদা আদায়ে বাধা প্রদান করলে, দুই পক্ষের মধ্যে উন্মত্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল লাঠি, রামদা, চাপাতি, এবং চাইনিজ কুড়াল।

ভুক্তভোগী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সুমন সিকদার জানান, ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে তারা চাঁদাবাজির ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন, প্রতিবাদ জানালে তাদের গালাগাল করা হয় এবং পরে সশস্ত্র হামলার শিকার হন।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. সায়মন ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় বলাকা হলের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা চাঁদা দাবি করেন এবং দোকানদারের খবরের ভিত্তিতে তারা সেখানকার দিকে গিয়েছিলেন। সেখানে যুবদল সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে হামলার সম্মুখীন হন এবং তার মাথায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাগর খান জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা দেখতে পান, ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে গুরুতর আহত ৮ জনসহ মোট ১০-১২ জন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার (২৬), মো. সুমন সিকদার (২৮), আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাগর খান (৩২), সায়মন ইসলাম (২৭), সদস্য মুসফিকুর রহিম (২৬), জিহাদুল ইসলাম (২৯), শাকিব হাসান (২৭) এবং ইমরান হোসেন (২৫)।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্রদলের নেতারা।

অন্যদিকে ছাত্রদলের তোলা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে নিউমার্কেট থানা যুবদল। তাদের তরফ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, তারা কোনো চাঁদাবাজি বা দোকান দখলে জড়িত নয়।

যুবদল নেতাদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার বিকালে মার্কেট বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সদস্য নিউমার্কেটের কিছু দোকান দখল এবং দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন।

নিউমার্কেট থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রহিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল, সদস্য আজিম পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক চায়না সুমন জানিয়েছেন, মার্কেট বন্ধ থাকায় তারা সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ছাত্রদলের চাঁদাবাজির চেষ্টা গিয়ে তাদের কাছে ‘দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি চলবে না’ বলে তারা বিষয়টি মীমাংসা করে সেখান থেকে সরে যান।

যুবদল নেতাদের অভিযোগ করতে গিয়ে তারা বলেন, পরে প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের গলিতে অবস্থিত যুবদল কার্যালয়ে গিয়ে বসার সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ৭০ থেকে ৮০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে হামলা এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেন।

এ সময় কার্যালয়ে থাকা টেলিভিশন, আসবাবপত্রের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলমের ছবিগুলো ভাঙচুর করে ছিঁড়ে দেয়।

যুবদল আহতদের মধ্যে নাম পাওয়া গেছে—কাঁটাবন ইউনিট যুবদলের সদস্য মো. জাকির হোসেন, এলিফ্যান্ট রোড ইউনিট যুবদলের সদস্য মো. সুজন, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সাবেক সদস্য মো. সোহেল, সুমন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য শাহ আলম, ইদ্রিস, রাকিব এবং নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুমন মিয়া।

যুবদল নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি করেছেন এবং থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ঘটনা নিয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউমার্কেট এলাকায় মারামারির খবর পাওয়া গেছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, পুলিশ খবরটি গুরুত্ব সহকারে তদারকি করছে এবং এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে শত কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে শত কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে একটি চক্র ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে এই ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শুক্রবার তিনি গোপনভাবে জিডি করেছেন। তবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিনি বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় একশত কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়ার জন্য আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে একটি অঙ্গীকারনামা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে যে, একশত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সংসদ সদস্য তার কোটার কাজ দিয়ে পরিশোধ করবেন। বিষয়টি জানার পর তিনি বা তার প্রতিনিধিরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন যে, তার স্বাক্ষর ব্যবহার করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র।

প্রতারক চক্রের মাধ্যমে যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা ঋণ অনুমোদন না হয়, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাল স্বাক্ষর ও কাগজপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় জিডি করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, তার অনুমতি ছাড়া তার স্বাক্ষর ও পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান মন্তব্য করেছেন যে, কোনো জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে এত বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার চেষ্টা একটি গুরুতর প্রতারণার ঘটনা। এতে শুধু ব্যক্তির পরিচয় ও সুনাম ব্যবহার করা হয়নি বরং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টাও হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। খন্দকার আবু আশফাক বর্তমানে ঢাকা-১ আসনের (দোহার-নবাবগঞ্জ) সংসদ সদস্য এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেছেন, এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে এবং অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর জানা যাবে এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং কি উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এফইআরবির সেমিনারে বক্তারা: অর্থনীতি বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ এম


এফইআরবির সেমিনারে বক্তারা: অর্থনীতি বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে

দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে এবং রক্ষা করার জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে। এ জন্য দরপত্রের বাইরে গিয়ে প্রচলিত আইন অনুসরণ করে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ বসানো প্রয়োজনীয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের সামসন এইচ চৌধুরী হলে ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা প্রধানভাবে এসব কথা বলেন।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) সেমিনারটির আয়োজন করেছে।

সেমিনারে বক্তারা, জ্বালানি খাতে বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে না পারলে বর্তমান সরকারকে একসময় ব্যর্থতার কলঙ্ক নিতে হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।

তারা জাতীয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা আগ্রাসী। বিনিয়োগবান্ধব নীতি নেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। আমি মনে করি এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

কোয়ালাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কয়লা দিয়ে বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এ বিষয়ে সতর্কভাবে এগোতে হবে।

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও স্বাধীনভাবে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।

ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জ্বালানি তেল বিক্রি করে।

ভোলার গ্যাস নিয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রধানমন্ত্রীর (মালয়েশিয়া) সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরপর আমরা অনলাইনে পেট্রোনাসের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

এলএনজি সংকটের প্রসঙ্গে বেরিয়ে আসতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় এলএনজি সরবরাহের সমস্যা তৈরি হওয়ায় সারা দেশে সংকট দেখা দিয়েছে। শিল্পকারখানা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি জানান, শিল্পের বর্তমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এই সত্য আমরা অস্বীকার করছেন না। এ সংকটের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই যারা প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছেন, তাঁদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে সক্ষম হলে বর্তমান সংকট হতো না।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন।

তিনি বলেন, অতীতে যেসব ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল, সেগুলো এখন বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকারের সামনে আর ভুল করার সুযোগ নেই।

প্যানেল আলোচনায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। তাই গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্রুত ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করতে হবে। তবে গ্যাস সংকট কাটাতে দরপত্রের বাইরের অন্যান্য নীতিমালা বা আইনে দ্রুত একটি ভাসমান টার্মিনাল বসানো জরুরি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের নতুন দলকে আগের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে ‘বিপ্লবী পরিবর্তন’ আনতে হবে। তা না হলে ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকারকেও নিতে হবে।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো একক উৎসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল-গ্যাস ও এলএনজিসহ সকল ধরনের উৎসকে কাজে লাগাতে হবে।এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ।

সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, বেসরকারি জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%