ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় শূন্য সহনশীলতা দেখাচ্ছে সরকার: আইনমন্ত্রী


রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় শূন্য সহনশীলতা দেখাচ্ছে সরকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগ সরকার পাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হচ্ছে সংবিধান এবং বাংলাদেশ বর্তমানে সেই সাংবিধানিক কাঠামো অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষাই আইন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, আইনে নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বাছাই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, আগের শাসনামলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে বিএনপির ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে করা হয়েছিল। এসব সংখ্যা ও দাবির বিষয়ে অনুষ্ঠানে স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সংবিধানের তুলনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৭৮৭ সালে গৃহীত মার্কিন সংবিধান এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুই সংবিধানেই জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও সংবিধানের আলোকে একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করে থাকে। মতপ্রকাশ, সমাবেশ, সংগঠন ও চলাচলের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে মতপার্থক্য, বিতর্ক ও সমঝোতার ধারাবাহিকতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের শক্তি শুধু সর্বসম্মতিতে নয়; বরং ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতার মধ্যেও নিহিত।

রাষ্ট্রদূত ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেন। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মার্কিন সংবিধান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক বিকাশে প্রভাব রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব জোরদারের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব জোরদারের আলোচনা

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মহামান্য জঁ-মার্ক সেরে-শারেল প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানসহ ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে—বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন—সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া, তারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন অধিবেশনকেন্দ্রিক অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়ে মতবিনিময় করেন। উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে আরও বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি, মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের অধিকতর সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্সের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত সেরে-শারেল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফ্রান্সের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে ফ্রান্সের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একত্রে কাজ করার বিষয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা জানায়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়। উভয়পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, অব্যাহত যোগাযোগ ও বর্ধিত সহযোগিতা বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও গতিশীল করে তুলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধবপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


মাধবপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বজ্রপাতে লিটন সরকার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নোয়াহাটি পশ্চিম মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে লিটন সরকার মাঠে কৃষিকাজ করতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাত ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা: মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা: মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে এটিকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। সুন্দরবনকে পিপিপি মডেলে উন্নয়ন করা গেলে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে নদী, পাহাড়, সমুদ্র, বন, জঙ্গলসহ বিভিন্ন ধরনের পর্যটন সম্পদ বিদ্যমান। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যও বাংলাদেশের পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি উল্লেখ করেন, পর্যটনের সম্ভাবনা কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব গল্প ও পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাগুলোকে পরিকল্পিত, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে এবং এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি জানান, পর্যটন উন্নয়ন কেবল প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও। অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে এটিকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাইরের পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। সুন্দরবনকে নিয়ে পিপিপি মডেলে কিছু করা গেলে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

মন্ত্রী পর্যটন খাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যেতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বর্তমানে পর্যটন খাতের অবদান যে পর্যায়ে রয়েছে, তা আরও বাড়াতে কাজ করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ট্যুরিজম ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। এতে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০টি বুথে অংশ নিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কি নিয়োগ দিলেন নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


জেলেনস্কি নিয়োগ দিলেন নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর জেনারেল

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর জেনারেল হিসেবে অ্যান্টন কোভালস্কিকে নিয়োগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া একটি প্রেসিডেন্ট ডিক্রিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কোকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেন জেলেনস্কি। মঙ্গলবার ইউক্রেনের আইনপ্রণেতারা ভোটের মাধ্যমে তাকে সরানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ৪২ বছর বয়সী অ্যান্টন কোভালস্কি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে খমেলনিতস্কি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন তাকে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

 

গত সপ্তাহে ক্রাভচেঙ্কো প্রসিকিউটর জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করার পর তিনি পদ ছাড়েন। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (ন্যাবু) এবং বিশেষায়িত দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর কার্যালয় (সাপো) অভিযোগ করেছে যে, ক্রাভচেঙ্কোর অধীনস্থ একজন কর্মকর্তা একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন, যারা প্রতারণামূলক কল সেন্টারগুলোকে আড়াল করতে সহায়তা করত। এসব কল সেন্টারের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় নাগরিক ও বিদেশিদের প্রতারণা করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ক্রাভচেঙ্কো এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে কোনো মামলায় সন্দেহভাজনও করা হয়নি।

সোমবার বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। সেদিন ক্রাভচেঙ্কো ন্যাবুর প্রধান সেমেন ক্রিভোনোসের বিরুদ্ধে নথি জাল করার অভিযোগ করেন। ক্রাভচেঙ্কোর দাবি, ২০০৯ সালে ক্রিভোনোস একটি শিশুকে ভুয়া দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার কার্যালয়কে ঘিরে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর তদন্তের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, নিজেদের কার্যক্রম নিয়ে যে তদন্ত চলছে, তা বন্ধ করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্রাভচেঙ্কোর এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ন্যাবু ও সাপো। দুটি সংস্থাই তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যে অ্যান্টন কোভালস্কিকে ভারপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হলো। এর ফলে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তবে কোভালস্কি কতদিন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাকে স্থায়ী প্রসিকিউটর জেনারেল করা হবে কি না, প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%