০৭:৫৫ এম
ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। এই সিদ্ধান্তকে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে কার্যত একীভূত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ফিলিস্তিনি রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা।
শুক্রবার, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সেনাবাহিনীকে পশ্চিম তীরে বেসামরিক আইন প্রয়োগের দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা তৈরির জন্য নির্দেশ দেন। এ জন্য পুলিশ একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎস জানিয়েছে, সম্প্রতি পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্ট: ‘কাপুরুষের মতো সবকিছু পণ্ড করেছে’ যুক্তরাষ্ট্র
কাটজ দাবি করেছেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হল ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করা; বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা অভিযান পরিচালনা করা নয়।
তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা অভিযোগ করেছেন, এই ক্ষমতা হস্তান্তর পশ্চিম তীরের ইসরায়েলের কার্যত সংযুক্তি, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বৃদ্ধি করতে পারে।
ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘৌতি বলেছেন, বসতিস্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করা ও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের প্রক্রিয়ায় অগ্রভাগে রয়েছে। তার মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে চলে গেলে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন বাড়বে।
ইসরায়েলি বিষয়ক গবেষক মোহানাদ মুস্তাফার মতে, সামরিক আইন প্রয়োগের পরিবর্তে বেসামরিক পুলিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আইন প্রয়োগ করা হলে অঞ্চলটির দখলদারিত্বের আইনি বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসবে। তার ভাষায়, এর মাধ্যমে সরকার পশ্চিম তীরকে দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে নয়, নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার দিকে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন: হুতিদের এডেনের নৌঘাঁটি ও সামরিক শিবিরে হামলা
ফিলিস্তিনি নেতৃত্বও এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পিএলওর নির্বাহী কমিটির মহাসচিব হুসেইন আল-শেখ এটিকে আন্তর্জাতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি আইন ও সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হামাসও এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এর ফলে পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতার জন্য আরও সুরক্ষা তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কমিয়ে পুলিশ ও বসতিস্থাপনকারীদের ভূমিকা বাড়ানোর ফলে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা ও ইসরায়েলিদের জন্য আলাদা আইনি কাঠামো আরও স্পষ্ট হতে পারে। এতে বৈষম্য, উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রিটেন প্যালেস্টাইন প্রজেক্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হুইটলি এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন শুধুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ না করে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়া ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মানারাত ইউনিভার্সিটিতে কাশ্মীর ও দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি নিয়ে একাডেমিক আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন