মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১২ পি.এম
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা টিপু হাওলাদার এবং জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সুমা আক্তার আদালতে বলেন, ঘটনার পূর্বে তার স্বামী ‘ক্রসফায়ারের’ আশঙ্কায় ছিলেন। এ কারণে তিনি তাকে সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যেতে বলেছিলেন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি দেন সুমা আক্তার।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, তার স্বামী টিপু হাওলাদার তাকে জানিয়েছিলেন যে, এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ একটি সভায় তাকে দেখা করতে বলেছেন। এ নিয়ে তিনি মানসিক চাপ অনুভব করছিলেন। একপর্যায়ে টিপু তাকে বলেন, ‘বরিশালে দুই-তিনটা ক্রসফায়ার হয়ে গেছে, আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার আর সন্তানদের কী হবে?’
সুমা বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি স্বামীকে ঢাকায় গিয়ে চাকরির চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি টিপু ঢাকায় যান। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ডিবি পুলিশ এসে টিপুকে তুলে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আগৈলঝাড়া থানায় গেলেও পুলিশ প্রথমে টিপুর গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তারা কোনো সহায়তা করতে পারেননি। তাদের পরামর্শে তিনি শাশুড়ি ও ভাসুরকে নিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বরিশালের বাসভবনে যান। তবে দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢুকতে দেননি।
সুমা আক্তার জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি দেখতে পান, টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এরপর স্বজনদের নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পোস্টমর্টেম শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করতে বলা হয়।
তিনি দাবি করেন, থানার লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত দাফনের জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছিল।
সাক্ষ্যে সুমা আক্তার জানান, ঘটনার কিছুদিন পর তিনি লোকমুখে জানতে পারেন, স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহর নির্দেশে উজিরপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। মাহাবুল ও জসিম বর্তমানে গ্রেফতার আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস এলাকার বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। এটি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে, আলোচনা সূচি অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভাগসমূহের কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, "প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়নে কমিটির তৎপরতার গুরুত্ব অনেক বেশি।" তিনি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভাপতি তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্থায়ী কমিটি জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, মঈনুল ইসলাম খান এমপি, ফখরুল ইসলাম এমপি, শওকতুল ইসলাম এমপি, ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, সাইফুল আলম এমপি এবং রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এমপি অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া, বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিববৃন্দ, বিপিপিএ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিটেন পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তিনি আরও জানান, বসতি সম্প্রসারণের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড বলেন, "অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা অন্যায়ের সমালোচনা করে বসে থাকার সময় শেষ হয়েছে। এখন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আজ আমরা আরও দুর্ভোগ এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।"
যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে আসছে। এই ব্যবস্থার আওতায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, তবে ইসরায়েলি সরকার এই ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
মিলিব্যান্ড উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ মনে করে। তিনি বলেন, "পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল’ সংঘটিত হচ্ছে।"
কী থাকছে নিষেধাজ্ঞায়
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। পাশাপাশি, বসতি সম্প্রসারণের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের ভেতরে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কীভাবে পার্থক্য করবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আপত্তি
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে, ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত লন্ডন ও তেল আবিবের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যে প্রভাব কতটা?
যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৮ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর অন্যতম কারণ হলো, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের পরিমাণ দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং কোন কোন পণ্য এর আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে লন্ডনের অবস্থান কঠোর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে যুক্তরাজ্য তার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাইছে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়কে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের মান্ডির এই বিজেপি সংসদ সদস্য, তৃষার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যদিও তিনি কোনো নারীর নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।
হিমাচলের কুল্লুতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (দিশা) বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের সামনে এসে কঙ্গনা মন্তব্য করেন যে, সমাজে নারীদের সব সময় কটূক্তি ও চরিত্রহননের প্রধান লক্ষ্য বানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনা বলেন, "আপনারা তামিলনাড়ুতে যা ঘটেছে তা দেখেছেন, যেখানে একজন অত্যন্ত সম্মানিত শিল্পী ও অভিনেত্রীকে এমন একটি বিষয়ে জড়ানো হয়েছে যেখানে বিষয়টি ছিল উভয়পক্ষের সম্পর্কের।" তিনি আরও যোগ করেন, "কিন্তু যখনই গালিগালাজ বা চরিত্রহননের প্রশ্ন আসে, তখন সব সময় কেবল নারীকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।" কঙ্গনা এই মানসিকতা কেবল ভারতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়েই বিদ্যমান বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "যেসব কর্মজীবী নারী সমাজে সফল, যারা অভিনেত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ক্ষমতাবান ও দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত—তাদের সম্মানহানি করে নিচে নামিয়ে আনার জন্যই এমন কুৎসিত আক্রমণ চালানো হয়।"
এর আগে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় নারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিজয়ের সেই কড়া বার্তা এবং উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিতর্কিত বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহ পরে কঙ্গনার এই শক্তিশালী বক্তব্য রাজপথ থেকে বিনোদনজগতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছিল কাবেরী পানি বণ্টন বিরোধ ও কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু প্রকল্পের প্রতিবাদে থানজাভুরে ডিএমকের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিশানা করে তামিল ভাষায় একটি দ্বি-অর্থবোধক মন্তব্য করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়—যেখানেই পানি আসুক, আসুক বা না আসুক, পানি সেখানে আসা উচিত। পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কাবেরীর পানি সম্বন্ধেই কথা বলছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তার মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।
ক্ষমতাসীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দল উদয়নিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একজন নারীকে বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা এবং চরম অবমাননাকর উক্তি করার অভিযোগ তোলে। এর প্রতিবাদে তোলপাড় শুরু হলে গত ৪ আগস্ট চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সূত্র: মিড-ডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যালন ডি’অর বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচজনের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী, তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
পুরস্কারের জন্য অন্যতম দাবিদার হিসেবে আছেন আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতা, যিনি দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা এনে দিয়েছেন। এছাড়া, পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো লুইস এনরিকে রয়েছেন মনোনীতদের মধ্যে।
মঙ্গলবার ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ব্যালন ডি অরের সব বিভাগে মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে। কোচদের তালিকায় দে লা ফুয়েন্তে, আর্তেতা ও এনরিকের পাশাপাশি আছেন অ্যাস্টন ভিলাকে ইউরোপা লিগ জেতানো উনাই এমেরি এবং বায়ার্ন মিউনিখকে বুন্ডেসলিগা ও জার্মান কাপ জেতানো ভিনসেন্ট কোম্পানি।
তবে এবারের প্রতিযোগিতায় মূল আকর্ষণ হতে পারে দে লা ফুয়েন্তে, আর্তেতা ও এনরিকের মধ্যে। বিশেষ করে জাতীয় দলের সাফল্যের কারণে দে লা ফুয়েন্তেকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
দে লা ফুয়েন্তের অধীনে গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেন অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরো টুর্নামেন্টে দাপুটে ফুটবল খেলে তারা আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করে শিরোপা অর্জন করে। ফাইনালে স্পেনের আধিপত্য ছিল একতরফা। আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২২ বছর পর আর্সেনালকে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা এনে দিয়ে নিজের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছেন আর্তেতা। তার অধীনে আগের তিন মৌসুমে আর্সেনাল শিরোপার খুব কাছে গিয়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হতে হয়েছিল। গত মৌসুমে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে পরিষ্কার ব্যবধানে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় গানাররা।
এছাড়া, প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ কাপেও ফাইনালে উঠেছিল আর্সেনাল। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুই প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে পারেনি তারা।
এদিকে, পিএসজির ইউরোপসেরা হওয়ার অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন এনরিকে। দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছিল প্যারিসের ক্লাবটির বড় অপূর্ণতা। এনরিকে অধীনে সেই ট্রফি জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে পিএসজি।
শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নয়, গত মৌসুমে ফরাসি লিগ আঁর শিরোপাও ধরে রেখেছে এনরিকের দল। ফলে ক্লাব ফুটবলে একাধিক সাফল্যই তাকে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ