বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৭ এম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ফ্যামিলি কার্ড এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপের তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দলীয় পরিচয়কে বিবেচনায় নেওয়া উচিত নয়। সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। জরিপের কার্যক্রম শুরু করতে হবে ছাপরা ঘর, গৃহহীন ও অসহায় মানুষের বাড়ি থেকে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অর্থের বিনিময় ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়েছেন। এবারের কার্যক্রমে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হবে না। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে কেউ টাকা দাবি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের সরকার নির্ধারিত সম্মানী প্রদান করছে। এর বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া বা দাবি করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
সরকারি সেবা খুঁজুন
ডেপুটি স্পিকার আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম বা দুর্নীতি থেকে কেউ পার পাবেন না। স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি কিংবা সরকারি কার্যক্রমে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় সীমান্ত এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বিশেষ করে গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের পানীয় জল, শিক্ষা ও বাসস্থানের সমস্যা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। জরিপে নিয়োজিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এ সময় বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় দুঃখ প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দিনের আলো ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
বক্তব্যের শেষদিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরকে তিনি একটি ফুলের বাগান হিসেবে দেখেন এবং নিজেকে সেই বাগানের একজন ‘মালী’ মনে করেন। আগামী পাঁচ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উদ্যোগে শেরপুর সরকারি কলেজের হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রউফ, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আকরাম হোসাইন এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাকিল আহমেদ।
প্রধান অতিথি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের সঠিক তথ্য সংগ্রহ দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়িত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিশু একাডেমী মিলনায়তনে ‘পর্যটনের শেরপুর’ শিরোনামে এই প্রতিযোগিতায় শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাকিল আহমেদ, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আসলাম খান, জিপি খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীব, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তাঁতের খটখট শব্দ শোনা যাচ্ছে। সুতোয় সুতোয় নকশা ফুটে উঠছে। দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জামদানি শাড়ির সৌন্দর্য প্রকাশ পাচ্ছে। নেত্রকোনার কলমাকান্দার প্রত্যন্ত রংছাতি ইউনিয়নের বাতানিয়াপাড়ায় বর্তমানে এই তাঁতের ছন্দে নতুন সম্ভাবনার গল্প বোনা হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাতানিয়াপাড়ার জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানায় গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য প্রত্যক্ষ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। তিনি কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে জামদানি তৈরির বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন করেন। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাঁদের কাজ, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং নানা বাস্তবতার বিষয়ে জানতে চান।
একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করা শুধুমাত্র সুতো ও তাঁতের কাজ নয়; এর পেছনে রয়েছে কারিগরের দীর্ঘ সময়ের শ্রম, ধৈর্য এবং দক্ষতা। একটি নকশা ফুটিয়ে তুলতে তাঁতিদের একাগ্রতা এবং সূক্ষ্ম কাজের প্রয়োজন হয়। বাতানিয়াপাড়ার কারিগরদের হাতে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প যেন নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।
প্রত্যন্ত এই এলাকায় জামদানি তৈরির উদ্যোগটি কেবল একটি কারখানা নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বিশেষ করে, দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীদেরও এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন নকশা তৈরি এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এই ছোট উদ্যোগটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বাস্তবতার নানা চ্যালেঞ্জ। কাঁচামালের মূল্য, দক্ষ কারিগর ধরে রাখা, উৎপাদন খরচ এবং বাজারজাতকরণ-সবকিছু মিলিয়ে টিকে থাকা সহজ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দেশের বিভিন্ন বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যেতে পারে।
ডেপুটি স্পিকারের কারখানা পরিদর্শন স্থানীয়দের কাছে কেবল একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন নয়; এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার একটি সম্ভাবনাময় হস্তশিল্পের দিকও সামনে এসেছে। বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের ছন্দে যদি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারের সংযোগ যুক্ত হয়, তাহলে এখানকার জামদানি একদিন কলমাকান্দার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর নাজিম, রংছাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুকন পাঠানসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের প্রতিটি টানে তাই শুধু একটি শাড়ি তৈরি হচ্ছে না; বোনা হচ্ছে শ্রম, দক্ষতা এবং সম্ভাবনার এক নতুন গল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি এলাকায় পৌর আইন লঙ্ঘন করে বাড়ি নির্মাণের সময় একটি দেয়াল ধসে পাশ্ববর্তী বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগি পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানবাড়ি এলাকার মো. খোকন এবং তার স্ত্রী মোছা. রুমা পারভিন পৌর আইন অমান্য করে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন। পাশের বাড়ির লোকজন তাদের নিষেধ করলেও তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের তিনতলার একটি দেয়াল পাশের টিনশেড বাড়ির উপর পড়ে যায়, যার ফলে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক রওশন আরা পারভিন জানান, অল্পের জন্য তাদের পরিবার প্রাণে বেঁচে গেছে। তবে নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক মো. খোকন বলেন, "আমি নিয়ম মেনেই বাড়ির কাজ করছি। তবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এই দূর্ঘটনায় পাশের বাড়ির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আমি তা পূরণ করে দিবো।"
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ কাজের সময় ইট, বেলচা বা অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী নিচে পড়ে যেন কারো ক্ষতি না হয়, এজন্য কোন নেট বা কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। ফলে তারা আশঙ্কা করছেন যে, যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. আশিক খান জানান, "অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ