০১:৫৯ পি.এম
দীর্ঘদিনের নানা সংকট ও লোকসানের চাপ কাটিয়ে দেশের সম্ভাবনাময় চা শিল্প ফের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘদিন পর দেশের তিনটি নিলাম কেন্দ্রে চায়ের 'ফ্লোর প্রাইস' (সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য) কার্যকর হওয়ায় শিল্পে চাঙাভাব ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে চা বাগান মালিকেরা নিলাম প্রক্রিয়ায় কঠোর সরকারি তদারকি বা মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
চলতি মৌসুমে সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সবুজ পাতার নতুন কুঁড়ি গজাচ্ছে বেশ দ্রুত। ফলে চা পাতা সংগ্রহের পরিধি বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চা উৎপাদনের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়- ২০২৪ সালে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার কেজি, ২০২৫ সালে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২৯ হাজার কেজি এবং ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৮০ লাখ কেজিতে। চলতি মৌসুমে দেশে মোট ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিলাম কেন্দ্রে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। লাক্কাতুরা চা বাগানের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের অসংগতির কারণে তারা বেশ কিছু দিন ধরেই ক্ষতির মুখে ছিলেন। এ অবস্থায় ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ তাদের জন্য বড় স্বস্তি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চা বিক্রয় সমন্বয় কমিটির সদস্য এস এম এন ইসলাম মুনির জানান, চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়- এই তিনটি নিলাম কেন্দ্রে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভিত্তি মূল্য ও গড় দামে চা বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য চট্টগ্রামে ২৮৩.১০ টাকা, শ্রীমঙ্গলে ২৬৭ দশমিক ৭৮ টাকা এবং পঞ্চগড়ে ২৬৩ দশমিক ৩১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
নিলামের এই নতুন ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি চান অংশীজনরা। হাফিজ টি এস্টেটের পরিচালক এম এ জামান সোহেল বলেন, 'ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এই সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে তিনটি নিলাম কেন্দ্রকেই সরকারের কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন