ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ ৩১


তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ ৩১

ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশির তীরে অবস্থিত তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর আনতালিয়া। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই শহরে আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু আসর, জাতিসংঘের ‘৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন’ বা ‘কপ-৩১’। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হওয়ার এক দশক পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে এবারের সম্মেলনটি নিছক একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়; বরং এটি মানবজাতির টিকে থাকার লড়াইয়ে এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কপের দীর্ঘ ইতিহাসে এবার দেখা যাচ্ছে এক বিরল ও অভিনব কূটনৈতিক সমঝোতা। সম্মেলনটির যৌথ নেতৃত্ব বা ‘কো-প্রেসিডেন্সি’ পালন করছে দুই ভিন্ন গোলার্ধের দুটি দেশ—তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্ক সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন এজেন্ডা’ পরিচালনা করছে, আর মূল কূটনৈতিক দর-কষাকষির সভাপতিত্ব করছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্মম শিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনের আরেকটি বড় চমক হলো কাগুজে প্রতিশ্রুতির বদলে সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি থেকে প্রথমবারের মতো ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতায়নের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ভবন নির্মাণ খাতে জ্বালানি তীব্রতা অন্তত ২৫ শতাংশ কমানোর মতো বাস্তবমুখী প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত

সম্মেলন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে জাতিসংঘ ও বিশ্বখ্যাত গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিশ্ববাসীর কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ ফেলেছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) সর্বশেষ ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে প্রাক্-শিল্প যুগের চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখার সুযোগ কার্যত হাতছাড়া হয়ে গেছে। সাময়িকভাবে হলেও পৃথিবী এই বিপৎসীমা অতিক্রম করতে চলেছে।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাস আরো ভয়াবহ। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এমনকি দেশগুলো তাদের বর্তমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়ন করলেও তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে পৌঁছাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই মহাবিপর্যয় ঠেকাতে হলে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে অন্তত ৪৫ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতেই হবে।

প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি ও মানুষের বিপন্নতা

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্যমতে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে (৪২৬ দশমিক ৮ পিপিএম) পৌঁছেছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র প্রভাব যুক্ত হওয়ায় সামনে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সানায় হামলার জবাবে সৌদিতে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা

জলবায়ু পরিবর্তনের এই থাবা এখন সরাসরি মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, বিশ্বের প্রায় ৩ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মানুষ বর্তমানে জলবায়ুজনিত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬’ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, প্যারিস চুক্তির পরবর্তী এক দশকে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহজনিত গড় বার্ষিক মৃত্যু প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। শুধু প্রাণহানি নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতিও সামাল দেওয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেবল বীমাকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজন খাতে বছরে প্রায় ৩০৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থায়ন ঘাটতি রয়ে গেছে।

হিমালয়ের হিমবাহ ধস ও উজানের ঝুঁকি

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে, যা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভাটির দেশ হিসেবে এই আকস্মিক বন্যার প্রথম ও সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসে লাগে বাংলাদেশের ওপর। হিমবাহের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দিচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় তীব্র পানিসংকট তৈরি হয়ে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

হিমালয় অঞ্চলের ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট ডেটা বিনিময়, যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন: সৌদিতে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৩৩ নিহতের দাবি রিয়াদের

বঙ্গোপসাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় সংকট

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর মাত্র এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভূমি স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা প্রায় তিন কোটি মানুষকে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত করতে পারে। বঙ্গোপসাগরের লোনাপানি উপকূলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি করছে এবং উর্বর ফসলি জমি নষ্ট করছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, যা প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বাংলাদেশকে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে, সমুদ্রের উচ্চতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।

জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ

উত্তরে হিমালয়ের বরফ গলা পানি আর দক্ষিণে ফুলে ওঠা বঙ্গোপসাগর—এই দুইয়ের মাঝখানে বাংলাদেশ কীভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছে, সেই আশঙ্কা মূল্যায়ন করে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। এবারের জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সম্মেলনে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা ও উদ্বেগের বিষয়টি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন। বাংলাদেশের জনগণ কোনো অপরাধ না করেও অন্যের নিঃসরণের দায় বহন করছে—এই নৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি উন্নত বিশ্বকে নিঃসরণ কমানো এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের অর্থ দ্রুত ছাড় করার জন্য জোর তাগিদ দিতে পারেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের মতো বাংলাদেশের নিজস্ব অভিযোজন মডেলগুলো বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ৩৩ জন নিহত

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক (বর্তমানে সরকারের প্রধান তথ্য অফিসার)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওমান উপসাগরে জ্বলতে থাকা জাহাজ থেকে ২২ আরব নাগরিককে উদ্ধার করল আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০২ এম


ওমান উপসাগরে জ্বলতে থাকা জাহাজ থেকে ২২ আরব নাগরিককে উদ্ধার করল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ন্যাশনাল গার্ড ওমান উপসাগরে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি কার্গো জাহাজ থেকে ২২ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া সবাই আরব নাগরিক এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল গার্ড এই তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্গো জাহাজটির নাবিকেরা জাহাজে আগুন লাগার খবর জানালে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ন্যাশনাল গার্ডের বিশেষায়িত দল জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং পরে জাহাজে থাকা ২২ জনকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, জাহাজটিতে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ন্যাশনাল গার্ড কিছু জানায়নি।

এ ঘটনার পূর্বে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্রের মাইন দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির দাবি, ওই দুটি তেলবাহী জাহাজ তাদের নৌচলাচল ও অবস্থান শনাক্তকরণব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং অনুমোদনহীন একটি নৌপথ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল।

ইরানের এই বাহিনী আরো অভিযোগ করে যে, জাহাজ দুটি একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে এবং অন্যটি প্রণালির ভেতরে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে, ওমান উপসাগরে আগুনে আক্রান্ত কার্গো জাহাজটির সঙ্গে আইআরজিসির দাবি করা ওই দুটি তেলবাহী ট্যাংকারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটানোর লক্ষ্যে ছয় কোম্পানির আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ এম


পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটানোর লক্ষ্যে ছয় কোম্পানির আবেদন

দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বড় ধরনের খরা চলছে। দেশের পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদন ও অনুমোদনের ঘটনা দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘটেনি। অবশেষে ছয়টি কোম্পানি ৬১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আইপিও আবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানি ফিক্সড প্রাইস মেথডে এবং একটি কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করতে চায়।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদনকারী কোম্পানিগুলো হলো অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স, ডিজিকন টেকনোলজিস, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং এবং স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড। অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি।

যাচাই-বাছাই শেষে বিএসইসির অনুমোদন পাওয়া গেলে কোম্পানিগুলো আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এর ফলে দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আইপিও খরার অবসান ঘটবে।

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী "আমার দেশ"কে জানালে, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির অভাব দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাজারে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে অত্যন্ত জরুরি। অতীতে অনেক নামসর্বস্ব কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন কমিশন আইপিও অনুমোদন দেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিএসইসি সর্বশেষ টেকনো ড্রাগস নামে একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়। এরপর আর কোনো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন হয়নি। মার্চ মাসে আইপিও অনুমোদনের পর জুলাই মাসে পুঁজিবাজারে টেকনো ড্রাগসের লেনদেন শুরু হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি আইপিও বিধিমালাসহ বেশকিছু বিধিমালা নতুন করে প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্বল, লোকসানি ও নামসর্বস্ব অনেক কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়, যার অধিকাংশ এখন বড় ধরনের লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাকসুদ কমিশন বাজারে এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে খুবই সতর্ক ছিল। এ কারণে বেশকিছু কোম্পানির আবেদন থাকলেও কোনো আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়ার কারণে আইপিও আবেদনে কোনো সাড়া মেলেনি।

গত জুন মাসে রাশেদ মাকসুদসহ কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করার পর সরকার করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়। চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার পর মাসুদ খান আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কথা জানান। ইতোমধ্যে বিধিমালার খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানির আইপিও আবেদন বিএসইসিতে জমা পড়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা, অর্থাৎ আইপিও বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এসব আবেদন জমা পড়েছে বিএসইসিতে।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স ২৫ কোটি, ডিজিকন টেকনোলজিস ৩০ কোটি এবং প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। তিনটি প্রতিষ্ঠানই অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব করেছে।

অন্যদিকে পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সঙ্গে পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম যুক্ত করে ১৫ টাকা দরে মোট ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে। স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড শেয়ারপ্রতি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা দরে শেয়ার ছাড়তে চায়। কোম্পানিটি প্রায় ৯৮ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ দুটি কোম্পানির প্রস্তাবিত ইস্যু মূল্যের মধ্যে যথাক্রমে পাঁচ ও ২০ টাকা প্রিমিয়াম রয়েছে।

অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি।

কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, উত্তোলিত ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিডসংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে। এছাড়া ৯০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ পরিশোধে এবং বাকি ১০ কোটি টাকা আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া স্ক্যানডেক্স তাদের সংগৃহীত অর্থ দিয়ে টেক্সটাইল ও রিসাইকেল্ড ফাইবার স্পিনিং প্রকল্প স্থাপন এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে চায়। পার্কওয়ে প্যাকেজিং কারখানার যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে অর্থ ব্যয় করবে। ডিজিকন টেকনোলজিস বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স ও প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইপিওর অর্থের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অনুমোদিত আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ত যেভাবে বদলে দেয় নেক আমলের প্রতিদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ এম


নিয়ত যেভাবে বদলে দেয় নেক আমলের প্রতিদান

মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য কাজ সম্পন্ন করে। ঘুম থেকে ওঠা, জীবিকা উপার্জন, পরিবারের ভরণপোষণ, মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, অসুস্থদের সেবা অথবা কাউকে সামান্য সহযোগিতা করা—এসবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে, একই কাজের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অগণিত সওয়াব অর্জন করতে সক্ষম হন, আবার অন্য একজন সেই কাজ করেও আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিদান নাও পেতে পারেন। পার্থক্যটি কোথায়? পার্থক্য হলো নিয়ত, উদ্দেশ্য এবং কাজটি করার পেছনে থাকা আন্তরিকতা।

১. নিয়তই আমলের প্রাণ ও প্রতিদানের ভিত্তি : ইসলামে কোনো কাজের বাহ্যিক রূপের পাশাপাশি তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কাজের আকার, সৌন্দর্য কিংবা কত মানুষের উপকারে এসেছে, এসবের পাশাপাশি কেন কাজটি করা হয়েছে, সেটিও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)

২. একটি আমলেই মিলতে পারে বহুগুণ প্রতিদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা নেকি ও পাপের বিষয়টি লিখে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কেউ কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করলেও তা করতে না পারলে আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। আর কাজটি করার পর তার জন্য দশ থেকে সাত শ গুণ, এমনকি আরো বেশি নেকি লিখে দেন। পক্ষান্তরে, কেউ পাপের ইচ্ছা করলেও তা না করলে তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লেখা হয়। আর পাপটি করে ফেললে একটি পাপই লেখা হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯১)

৩. অসুস্থতা ও সফরেও আমলের প্রতিদান অব্যাহত থাকে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "যখন কোনো বান্দা অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য সেই পরিমাণ আমল লেখা হয়, যতটুকু সে সুস্থ ও নিজ আবাসে অবস্থানকালে করত।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৯৬)

৪. জীবনের প্রতিটি কাজ ইবাদতে পরিণত হতে পারে : মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। তবে ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো আনুষ্ঠানিক ইবাদতকে বোঝায় না। বরং একজন মুমিনের পুরো জীবনই ইবাদতে পরিণত হতে পারে, যদি তার কথা, কাজ ও আচরণের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয় এবং তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

৫. ঘুম ও বিশ্রামও হতে পারে সওয়াবের মাধ্যম : অনেকেই মনে করেন, সওয়াব অর্জন করতে হলে সারাক্ষণ নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ইবাদতে ব্যস্ত থাকতে হবে। অথচ ইসলামের শিক্ষা আরো ব্যাপক। একজন মুমিন তার দৈনন্দিন অভ্যাস ও বৈধ কাজগুলোকেও সওয়াবের মাধ্যম বানাতে পারেন। একইভাবে শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য বিশ্রাম নেওয়া, সুস্থ থাকার জন্য খাবার গ্রহণ করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হলে ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি তাসবিহ সদকা, প্রতিটি তাকবির সদকা, প্রতিটি তাহমিদ সদকা এবং প্রতিটি তাহলিল সদকা।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০০৬)

৬. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া : আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করা। বিশেষ করে নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া অনেক বড় মহৎ গুণ। পবিত্র কোরআনে আনসার সাহাবিদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, "তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়।" (সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)

৭. পরিবারের জন্য ব্যয় করাও সদকা : অনেকে মনে করেন, দান-সদকা বলতে শুধু মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা কিংবা অসহায় মানুষকে অর্থ প্রদান করাকেই বোঝায়। অথচ ইসলামে পরিবারের জন্য ব্যয় করাকেও সওয়াবের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "কোনো ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য ব্যয় করলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০২)

৮. মানুষের প্রশংসা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক লক্ষ্য : সৎকাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটি হলো লোকদেখানো মনোভাব বা রিয়া। মানুষ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা, বাহবা, সম্মান কিংবা খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ভালো কাজ করে, তখন সেই আমলের প্রকৃত উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা দানের কথা প্রচার করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে সেই ব্যক্তির মতো নিষ্ফল করে দিয়ো না, যে লোকদেখানোর জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করে।" (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)

৯. সাহাবিদের জীবনেও ছিল প্রতিদান লাভের প্রত্যাশা : একজন মুমিনের উচিত, প্রতিদিনের কাজের মধ্যে সওয়াব অর্জনের সুযোগ খুঁজে নেওয়া। কাউকে সাহায্য করা, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা, মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা কিংবা কাউকে ভালো কথা বলাও সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা হয়।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬২৬)

১০. আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কখনো নষ্ট করেন না : মানুষের জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে, যখন ভালো কাজ করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কিন্তু একজন মুমিনের বিশ্বাস থাকা উচিত, মানুষের কাছে প্রতিদান না পেলেও আল্লাহর কাছে তার কোনো ভালো কাজ হারিয়ে যাবে না। কারণ, আল্লাহ কখনো সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কোনো কর্মশীলের কর্ম নষ্ট করি না, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী।" (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করার এবং ইখলাসের সঙ্গে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাটিয়ানে পানি ধরে রাখতে নান্দিয়া খালে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ এম


মাটিয়ানে পানি ধরে রাখতে নান্দিয়া খালে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে এ বছর হাওরে আগাম ধান রোপণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের উদ্বেগ, যদি মৌসুমের আগেই বোরো ধান রোপণ করা হয়, তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলহানির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলেন।

কৃষকরা জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ১৫ নভেম্বরের পর হাওরে বীজ ধান বপন করা হতো। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ১৫ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলার সবকটি হাওরে বীজ ধান বপন সম্পন্ন হয়ে যাবে। রোপণ কাজও আগেই শুরু হবে। সময়ের আগে রোপণ করলে শীতের কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি, আগাম পাহাড়ি ঢলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের নিয়ে মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর খালের মুখে বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।

পরিদর্শনের পর বাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ বা বস্তা দিয়ে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে হাওরের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও মাটিয়ান হাওরের পাশের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা সামায়ুন কবির বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনিসহ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল মিয়া, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ তিনজনকে দায়িত্ব দিয়ে দেড় লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ নিয়ে শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেছেন। ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খালটিতে তারা দুই দিনে ৩০০টি বাঁশের খুঁটি গেড়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে তাদের আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট দুই লাখ টাকা খরচ হবে। এই অতিরিক্ত অর্থের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বাঁধটি সম্পন্ন হলে হাওরের পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান রোপণ করতে পারবেন।

মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া বাঁধটি গত বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খাল হয়ে যায়। এর ফলে হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। যদি হাওরে আগাম ধান রোপণ করা হয়, তাহলে কৃষকরা ফসলহানির বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে পারেন।

কমিটির ওই নেতা জানান, হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরলে ইউএনও নান্দিয়া খালের মুখটি বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধটি দ্রুত সম্পন্ন হলে এ বছর তারা নিরাপদে ও সঠিক সময়ে বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এতে ফসলহানির ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে। হাওরের হাজারো কৃষক পরিবার এখন এই বাঁধের দিকে তাকিয়ে আছে।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ মৌসুমে হাওরের পানি ধরে রাখতে উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে খালটি বেঁধে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থে হাওরের পানি ধরে রাখা জরুরি। সঠিক সময়ে ধান রোপণ করা গেলে উৎপাদন ভালো হবে। প্রশাসন কৃষকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও হাওর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%