ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারখানার বর্জ্যে দূষিত টঙ্গী খাল, খালপারের বাসিন্দাদের দুর্বিসহ জীবন


কারখানার বর্জ্যে দূষিত টঙ্গী খাল, খালপারের বাসিন্দাদের দুর্বিসহ জীবন

শিল্প অধ্যুষিত এলাকা গাজীপুর ও টঙ্গীর বিভিন্ন শিল্প কারখানার বর্জ্য টঙ্গী খাল দিয়ে তুরাগ ও বালু নদীতে পড়ছে। খালের পানি কারখানা ও বাসাবাড়ির অপরিশোধিত বর্জ্য বহন করে নদীতে যাচ্ছে। এর ফলে নদী-খালপারের মানুষ দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত গত তিন দিন ধরে তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ও টঙ্গী খালপাড় এলাকা ঘুরে সেখানকার মারাত্মক দূষণ দৃশ্যমান হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের গাছা থেকে সৃষ্ট টঙ্গী খাল টঙ্গীর বনমালা হয়ে তুরাগ ও বালু নদে মিশেছে। খালের দুই পারের শত শত বাসিন্দা বাধ্য হয়ে দুর্বিসহ পরিবেশে বসবাস করছেন। দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে সারা বছরই তারা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিকদের ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত

খালপারের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে তাদের ছোটখাটো পারিবারিক অনুষ্ঠানও অন্য কোনো এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে করতে হয়। খালপারের কোনো বাসায় অনেকে বেড়াতে এমনকি দরকারি কাজেও আসতে চায় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর দুই শতাধিকসহ গাজীপুরের প্রায় সাত হাজার ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য যে খাল বা নদীতেই পড়ুক না কেন, তা ঘুরে ফিরে টঙ্গী খাল এবং তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীতেই পড়ে। ফলে নদী-খালের পানি দূষণের প্রভাব এই এলাকায় বেশি।

শিল্পাঞ্চলগুলোর পানি পরীক্ষা করে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি দেখা গেছে। সেখানকার পানি খুবই অ্যাসিডিক। একসময় যেসব জলাশয় স্থানীয় মানুষের জীবিকার উৎস ছিল, তা এখন তাদের স্বাস্থ্য ও জীবনধারণের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন টঙ্গী খাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ময়লা-আবর্জনায় পচে পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

স্থানীয়দের মতে, ১৯৯০-এর দশক থেকে গাজীপুরজুড়ে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। বর্তমানে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

বনমালা খালপাড়ের চা বিক্রেতা ইমাম উদ্দিন (৭৫) বলেন, ‘আগে আমরা এই খালে মাছ ধরতাম। এখন মাছ নেই, বিষাক্ত গন্ধে মাছ তো মরছেই, আমরাও অসুস্থ হয়ে যাই। তাই খালে গোসলও করতে যাই না।’

শুকুন্দিবাগের সোহেল রানা (৫৬) বলেন, ‘এই খালে একসময় ধান চাষ করতাম। কিন্তু এই পানির কারণে এখন আর আবাদ করতে পারি না। বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে দিয়েছি।’

খালপারের বাসিন্দারা বলছেন, দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে তারা অনেকটা একাকী হয়ে যাচ্ছেন। আগের মতো আত্মীয়-স্বজনও এখন আসে না। ছোটখাটো অনুষ্ঠান অন্য জায়গায় হয়। সব ঠিকঠাক হওয়ার পর বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

খালপাড়ের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, 'আমাদের এলাকায় কেউ বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে এলেও পরে অন্য কোনো বিকল্প পেলে বিয়ে ভেঙে দেয়। অনেক সময় আমরা এই দূষণের গল্প চেপে যাওয়ার চেষ্টা করি এবং চুপচাপ বিয়ের আয়োজন করি। প্রয়োজনে অন্য জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান করি।

ভয়াবহ পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ জীবনের এই গল্প টঙ্গী খালপারের হাজীপাড়া, টেকপাড়া, গোজারিয়ার টেক, দিলারটেক, নিমতলী, মাজুখান, বনমালা এবং নিমতলী ও হায়দরাবাদ বিলের বাসিন্দাদের।

এদিকে, দুর্গন্ধের চেয়েও ভুক্তভোগীদের কাছে বড় সংকট বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এই দুর্গন্ধ রাসায়নিক দূষণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। কিছু রাসায়নিক পদার্থ পানি থেকে বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মেশে, যা এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ধাতু ও টিন ক্ষয়ে যাওয়ার পেছনেও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

এই গবেষক বলেন, 'ওয়াশিং প্ল্যান্টগুলোতে সেখানকার লোকজন ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করেন। এতে ক্লোরিন থাকে। এছাড়া অন্যান্য রাসায়নিকের মধ্যে সালফার থাকে। এই রাসায়নিকগুলো ধাতুতে মরচে ও ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে।'

আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেনের মতে, এই দূষণের বড় একটি অংশ পোশাক কারখানার ওয়াশিং প্ল্যান্ট, ওষুধ কারখানা ও রাসায়নিক শিল্পের অপরিশোধিত বা অপর্যাপ্ত পরিশোধিত বর্জ্য থেকে আসছে। ওয়াশিং প্ল্যান্টগুলোতে কস্টিক সোডা, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট এবং সালফারভিত্তিক উপাদান যেমন সোডিয়াম মেটাবাইসালফাইট ব্যবহার করা হয়।

এগুলোর মাত্রা ও পরিশোধনের ধরনের ওপর নির্ভর করে রাসায়নিকগুলো বর্জ্য পানির গুণাগুণ বদলে দেয় এবং জলজ জীবন ও মানবস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে।

শিল্পাঞ্চলের আশপাশের এলাকা এবং তুরাগ নদীর উপরিভাগের পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাতে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল এবং আয়রনের মাত্রা বাংলাদেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডের চেয়ে অনেক বেশি। কিছু পানির নমুনায় পিএইচ-এর মাত্রা পাওয়া গেছে ২ থেকে ৪, যা এর অতিরিক্ত অ্যাসিডিক বা অম্লীয় অবস্থার কথা জানায়।

পিএইচ স্কেল ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিশুদ্ধ পানির পিএইচ মাত্রা ৭; আর এর নিচে হলে তা অ্যাসিডিক হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম

২০২৫ সালে 'সায়েন্স ডিরেক্ট'-এ প্রকাশিত 'গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পানির ভারী ধাতুজনিত দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন' শীর্ষক গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম বলেন, গাজীপুরের কিছু স্থানে দ্রবীভূত আয়রনের পরিমাণ নিরাপদ সীমার পাঁচ গুণ, সীসা ৩০ গুণ, ক্রোমিয়াম পাঁচ গুণ এবং নিকেল ছয় গুণ পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলে অনুযায়ী, এই পানি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিরাপদ সীমার চেয়ে অতিরিক্ত ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতির কারণে এটি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

এসব বিষয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল কালের কণ্ঠকে বলেন, গাজীপুর জেলায় প্রায় সাত হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৬৮৮ কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি থাকা সত্ত্বেও তারা অপরিশোধিত তরল বর্জ্য বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এসব কারখানা তদারকির দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে পরিদর্শক রয়েছেন মাত্র তিনজন। পরিদর্শকসহ মোট কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঁচজন।

উপপরিচালক বলেন, 'এখানে যদি ৫০ জন পরিদর্শকও দেওয়া হয়, তাহলেও এতগুলো শিল্পকারখানা তদারকি করা সম্ভব নয়।' তিনি বলেন, 'শুধু শিল্প কারখানাকে এককভাবে দোষ দেওয়া যায় না, কারণ জেলার বহু বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশন লাইনও সরাসরি খাল ও নদীতে যুক্ত হয়েছে।'

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং উইং গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, লোকবল সংকট সত্ত্বেও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে তুরাগ নদী দূষণের দায়ে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই কোটি ৯ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোকান খোলা রাখার সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


দোকান খোলা রাখার সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি দেশের মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানগুলোর খোলার সময় রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এবং মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া একটি চিঠি পাঠান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে সারা দেশে মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংকটকালীন সময়ে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সাশ্রয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।

চিঠিতে ব্যবসায়ীরা জানান, ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, উৎসবের সময় দোকান খোলা রাখার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর ফলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত বেচাকেনার সুযোগ পাবেন এবং এতে তাদের চলমান আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ জেলায় বিএনসিসি, আনসার-ভিডিপি, স্কাউটস ও ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাইলট প্রকল্প শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


৯ জেলায় বিএনসিসি, আনসার-ভিডিপি, স্কাউটস ও ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাইলট প্রকল্প শুরু

সাভার (ঢাকা), ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : যুবশক্তির উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনসিসি, আনসার-ভিডিপি, স্কাউটস এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি পাইলট প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আজ দেশের ৯টি জেলায় একযোগে শুরু হয়েছে।

রাজধানী সাভারের বাইপাইলে বিএনসিসি ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, একই সঙ্গে ঢাকা জেলার সাভার ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, বগুড়া, গাজীপুর, পটুয়াখালী ও রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য আন্তরিকভাবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনসার-ভিডিপি ও বিএনসিসি’র সদস্যদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এছাড়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তত্ত্বাবধানে আনসার-ভিডিপি ও স্কাউটসের সদস্যদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বা সিভিল ডিফেন্স বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনসিসি, আনসার-ভিডিপি, স্কাউটস এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে। প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে ৫ দিনব্যাপী শিল্প উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


রাজবাড়ীতে ৫ দিনব্যাপী শিল্প উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

রাজবাড়ী, ৪ অক্টোবর, বাসস (২০২৬) : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী শিল্প উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধন আজ রোববার দুপুরে বিসিক শিল্পনগরীর কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক চয়ন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিফ উল হাসান।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।" তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে আরও উন্নত করতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে শিল্পের উন্নয়নে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, "দক্ষ জনশক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গুণগত উন্নয়ন সম্ভব।" এ ধরনের প্রশিক্ষণ উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি কাজী বেনজির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান এবং বিসিকের এস্টেট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।

জেলায় মোট ২৫ জন শিল্প উদ্যোক্তা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প শুরু করবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


সরকার ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প শুরু করবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার।

আজ রোববার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিটের’ সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (সিএইচআইপিএস) এবং বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা এবং ২০২৩ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেজোলিউশনের পর মেডিকেল অক্সিজেন কেবল তাৎক্ষণিক চাহিদা নয়, বরং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত অক্সিজেনের ব্যবস্থাপনাকে এমন এক মানে উন্নীত করতে চাই, যাতে বৈশ্বিক স্কোরকার্ডেও আমাদের সাফল্যের প্রমাণ থাকে।

বিগত সময়ের সংকট ও অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় বিগত বছরগুলোতে সমন্বয়ের বড় অভাব ছিল।

এ সময় এম এ মুহিত আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরেই দ্রুততম সময়ে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য একটি কার্যকর ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা জরুরি।

এর পাশাপাশি চিকিৎসা পাঠ্যক্রমে অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে বিএমডিসি ও নার্সিং কাউন্সিলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা বা সংজ্ঞা নেই।

তিনি বলেন, দেশে আধুনিক ও মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামো ও স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে, যেখানে কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থারও অন্তর্ভুক্তি থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%