ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৭ নভেম্বর, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল মুক্ত যাতায়াত


৭ নভেম্বর, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল মুক্ত যাতায়াত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই যান চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিন নির্ধারিত সময়ে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব ধরনের অনুমোদিত যানবাহন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চলাচল করতে পারবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য কোনো টোল দিতে হবে না। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে যথারীতি নিয়মিত হারে টোল আদায় কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন: মিরপুরে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে আগুন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে

বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে শ্রেণিভেদে টোল আদায় করা হয়। এর মধ্যে কার, ট্যাক্সি, এসইউভি, ১৬ আসনের কম মাইক্রোবাস ও ৩ টনের কম হালকা ট্রাকের জন্য ৮০ টাকা; ১৬ আসন বা তদূর্ধ্ব বাসের জন্য ১৬০ টাকা; ৬ চাকা পর্যন্ত মাঝারি ট্রাকের জন্য ৩২০ টাকা এবং ৬ চাকার বেশি ভারী ট্রাকের জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো দুই ও তিন চাকার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে এফডিসি পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বর্তমানে এ অংশেই নিয়মিত যান চলাচল করছে। নকশা অনুযায়ী কাওলা থেকে তেজগাঁও, মগবাজার ও কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি সম্প্রসারিত হওয়ার কথা থাকলেও পুরো অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে জানাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে জানাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। এ সময় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এতে আরও জানানো হয়েছে, শনিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে। রোববার (৮ নভেম্বর) সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৯ মিনিটে।

এদিকে, আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কবার্তা নেই। এই সময়ে নদীবন্দরগুলোকে কোনো সংকেত দেখানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও আজকের সংকট নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও আজকের সংকট নিয়ে আলোচনা

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনায় সার্বভৌমত্বের প্রকৃত অর্জন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান আজ প্রথমবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে অভিনন্দন জানাবেন।

তারেক রহমানের কাছে স্বাধীনতাযুদ্ধ ও চার বছর পরের জাতীয় বিপ্লবকে ভেতর থেকে প্রত্যক্ষ করার একটি দুর্লভ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার কাছে সঞ্চিত রয়েছে ৭ নভেম্বরের চেতনায় গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐতিহাসিক জন্মলগ্ন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহের ডাক দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশ গঠনের কর্মযজ্ঞ তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি সাক্ষী হয়েছেন বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও সংগ্রামী নারী নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার।

তারেক রহমান অকল্পনীয় পীড়নের শিকার হয়েছেন। ১৭ বছরের দলগত নিঃসঙ্গতাপূর্ণ প্রবাসী জীবন এবং ১৩টি মিথ্যা মামলায় ৫৫৪ দিন জেলজীবন জনগণের চোখের সামনে ঘটেছে। এসবই ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার জন্য।

২০২৬ সালের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র-রাজনীতির দিকে নজর দিলে অস্বস্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ১০ মাসের একটি নির্বাচিত সরকার টিকবে কি না, এমন প্রশ্ন স্বার্থান্বেষী মহল থেকে ছড়ানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নাশকতার চক্রান্ত ও তৎপরতা, পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা, বিরোধী দলের ‘অনিবার্য বিপ্লব’ হুঁশিয়ারি, সরকারের তরফে আওয়ামী-জামায়াতের কথিত নৈরাজ্যিক ঐক্যের দাবি, এবং নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সব মিলিয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমান কি রাষ্ট্র-রাজনীতিকে সুস্থির করতে পারবেন? কি তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে দেশকে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনীতি ও মন্দ অর্থনীতির বিষবাষ্প থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হবেন?

ইতিহাসের ভেতর দিয়ে সব জাতি কোনো না কোনো সমস্যার সমাধান খোঁজে। একটি চরম সত্যকে ‘সন্ধান ও লাভ’ করতে চায়। জাতি স্বাধীনতা চায় আত্মস্বার্থে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আত্মমর্যাদা, স্বনির্ভরতা এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ১৯৭১-৭৫ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের তাঁবেদারি এবং অভ্যন্তরীণ অগণতান্ত্রিকতাকে চরমে নিয়ে যায়। যার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে। ৭৫ সালের আগস্টে পটপরিবর্তন ঘটে। এরপর সার্বভৌমত্ব নাশের চক্রান্ত স্বাধীনতার ঘোষক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করার পর্যায়ে চলে যায়। ৩ নভেম্বর ভারত-সমর্থিত ক্যু ঘটে, তখন সিপাহি-জনতা সমস্বরে তা প্রতিরোধ করে। স্বাধীনতার পর গণমানুষের এই অভাবনীয় স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ ছিল।

সেটাই প্রথম এবং নিষ্ঠুর জেলহত্যা এবং ভারতপন্থি ক্যু-এর প্রতিবাদে সার্বভৌমত্বের সংহতিতে বিপ্লবের আবাহন। সেজন্যই বলা হয় ৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নেতৃত্বে। জাতীয় কবি নজরুলের দেখা সেই স্বপ্নের কাণ্ডারি ‘অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ; কাণ্ডারী, আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ’। বাংলাদেশের প্রথম জননির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জিয়ার সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব, দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা, জনসাধারণকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করার পদক্ষেপ এবং নিজের প্রশ্নাতীত সততা তাকে তার সমসাময়িককালের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করে। শেখ মুজিব আমলের ‘এক নেতা এক দেশ’ স্লোগানটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বদলে মুক্ত অর্থনীতি, ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা, একদলীয় শাসনের বিপক্ষে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের বদলে স্বাধীনতার ঘোষণায় বর্ণিত সামাজিক ন্যায়বিচার শব্দগুলোর প্রতিস্থাপন শহীদ জিয়ার অতুলনীয় কৃতিত্ব। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব সত্তায় জাগিয়ে তুলে পথচলার চেতনা নির্মাণে শহীদ জিয়া বলেছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা।

এটি এখনো এই রাষ্ট্রের জীয়ন-মন্ত্র এবং ১৯ দফা হচ্ছে রাষ্ট্রিক ও সামাজিক কর্তব্যতন্ত্র। আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণের পত্তনের পাশাপাশি পুরানিস্টিক বা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতি নিখাদ নিবেদনের প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি। বর্জনবাদী, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসিকতাসম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তার ছিল না। তিনি তার ব্যক্তিগত অভিধান থেকে ‘দুর্নীতি ও ভোগ’ শব্দটি তুলে দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ পম্পিডু রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিবিদদের পার্থক্য নির্ণয়ে যে মন্তব্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা শহীদ জিয়ার জন্য সর্বতোভাবে প্রযোজ্য। তিনি বলেছিলেন, A statesman is a politician who places himself at the service of the nation. A politician is a statesman who places nation at his service.

শহীদ জিয়া ক্ষমতায় থেকে রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, জনগণের অনুরোধে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছেন রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলন গড়ে তোলেন, তরুণ সমাজ জানবাজি রেখে তার নেতৃত্বে লড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়। তার একটাই সাধনা ছিল গণতন্ত্রকে আক্ষরিক অর্থে প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। জীবনে অসংখ্যবার বন্দি হয়েছেন, জেল খেটেছেন, অবরুদ্ধ থেকেছেন, নিজ বাড়ি থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ হয়েছেন, সন্তানসহ অনেক স্বজনের মৃত্যু দেখেছেন। বেগম জিয়াকে শেখ হাসিনা বা এরশাদের দৃশ্যপটের বিপরীতে মূল্যায়ন করলে ভুল হবে। দুটি সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ ও মঈনুদ্দীনের শাসনকে বিদায় করা, ৪৩ বছরের রাজনীতিতে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া, সর্বোচ্চসংখ্যক আসনে ভোট করে জয়ী হওয়া, দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করা, সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাÑএসব মানদণ্ডে খালেদা জিয়ার তুলনায় বিশ্বের নারী নেত্রী এবং অনেক পুরুষ নেতৃত্বকে পাল্লায় তোলা যাবে না।

সর্বোপরি তিনি বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব তারেক রহমানকে তৈরি ও অধিষ্ঠান করে গেছেন। এই পরিবারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অশেষ। ১৯৭২ সালে কুমিল্লায় ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকালে শহীদ জিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয়। ৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের আগে ও পরে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্বে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন দেখিনি। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে। শহীদ জিয়া যেমন আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত বান্দা ছিলেন, তেমনি খালেদা জিয়াও স্বামীর মতো চিরায়ত স্বাধীনতাকামী, জিহাদি সত্তার মানুষ ছিলেন। আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থায় দুজনেই প্রগাঢ় বিশ্বাসী। নিজে সর্বক্ষণ অত্যাচারিত হওয়া সত্ত্বেও দলের মজলুম নেতাকর্মীদের এমনভাবে সান্ত্বনা দিতেন, নিজের কষ্টই ভুলে যেতেন।

তারেক রহমান তার মা-বাবার রাজনৈতিক আদর্শ, ব্যক্তিগত গুণাবলির অনেক কিছু ধারণ করেন। তার সাদাসিধা পোশাক, অল্প খাবার গ্রহণ, নম্রতা, এবং একটি বিষয়কে দ্রুত আত্মস্থ করার ক্ষমতা অনেকের চোখেই পড়ে। ইসলাম ধর্মের মূল শিক্ষা মানবিকতাকে তিনি মন-মগজে সবসময় ধারণ করেন। নিখাদ দেশপ্রেম তার আপাদমস্তক। তার কাছে দিগনির্দেশক তিনটি দলিল আছে। এক. জিয়ার ১৯ দফা, দুই. বেগম জিয়ার ২০৩০ রূপকল্প এবং তিন, তার নিজস্ব ৩১ দফা। জিয়া ঘোষিত ‘জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় স্বনির্ভরতা’, বেগম জিয়ার ‘(Rainbow Society) রেইনবো সোসাইটি বা রংধনু সমাজ গঠন’ এবং ৩১ দফায় ‘জাতীয় সুশাসন’র ধারণাগুলোর সমন্বয় জাতির জন্য এই মুহূর্তেই কর্তব্যতন্ত্র।

৭ নভেম্বরে সিপাহি জনতার যে অভ্যুত্থান ঘটে, তাতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার একটি ব্যাখ্যা অনেকেই জানতে চান। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়া যেমন সামরিক অধিকর্তার সত্তা থেকে নিজের উত্তরণ ঘটিয়েছিলেন রাষ্ট্রনেতায়, তেমনি ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাজপথ সামরিক ছাউনি থেকে তা বিস্তৃত হয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কোষে কোষে জমাট বেঁধে গেছে। সেই চেতনায় আদ্যশক্তির জাগরণ সবার কামনা। রাষ্ট্রের কল্যাণে এবং জনগণের প্রত্যাশায় সাড়াদান সশস্ত্র বাহিনীর এক ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। জুলাই অভ্যুত্থানের শেষপর্যায়ে শেখ হাসিনার পাশ থেকে সেনাবাহিনীর সরে যাওয়া, এর আগে এরশাদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান ঘটতে দেওয়ার কথা আমাদের সবার মনে আছে।

ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেনÑসেনাপ্রধানের এই ঘোষণা এবং তার দপ্তরে রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক জাতিকে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। এর আগে এক শ্রেণির বিপথগামী সিপাহি দিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলাকে জিয়াউর রহমান দমন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যখন পালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের অহমবোধকে বাঁচাতে বিদেশিদের বিরুদ্ধে ১৭৫৭ সালে পলাশীর বিদ্রোহ, ১৮৫৭ সালে বাঙালি মুসলমান সৈন্য অধ্যুষিত ‘বেঙ্গল ল্যান্সার্স’ ইউনিট কর্তৃক সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বাঙালির পল্টনের ভূমিকা, ৬৫-তে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্টের বীরত্বপূর্ণ লড়াই এবং ৭১-এ স্বাধীনতাযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের নেতৃত্ব বিশ্ব ইতিহাসের অংশ। এরও আগে ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেজর গণির প্রচেষ্টায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যাত্রা এবং সেদিনই তদানীন্তন ব্রিগেডিয়ার আইয়ুব খানের সামনে বাঙালি সৈন্যদের বাংলা ভাষায় কথা বলার দাবি মনে করিয়ে দেয় যে, এসবের মধ্য দিয়ে অভিযাত্রার ধারাপাতই আমাদের জাতীয় ইতিহাস। শুধু ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানই একমাত্র ইতিহাস নয়। জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের ভূমিকাও ভুলে যাওয়ার নয়। অতএব আমাদের জাতীয় ইতিহাসের চাল-চলনে সামরিক বাহিনীর একাত্মতা, জাতীয় প্রয়োজনে ভূমিকা রাখা এক ধরনের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। সে জন্য এর স্বীকৃতি ঘটেছে ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে। সাত নভেম্বরের ইতিহাসকে ক্যান্টনমেন্টের কিছু অফিসারের তৎপরতার অধ্যায় মনে করা ভুল। কারণ এই সম্পর্কে যত বই আছে, বিপ্লবের রাজনৈতিক সম্বন্ধীয় লেখালেখি কম। আওয়ামী লীগও ৭ নভেম্বরকে ক্যু-পাল্টা ক্যুর পর্ব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ঘটেছে। এখন অনেকে ২৬ মার্চকে ম্লান রেখে চব্বিশের জুলাইকে তুলে ধরতে চান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ২৬ মার্চ ও ২৪ জুলাইয়ের মাঝে আমাদের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে ৭৫-এর ৭ নভেম্বর এবং নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বরের গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য পর্ব।

আজকের ৭ নভেম্বরে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নানা সংকট ও ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অথচ বর্তমান সংসদের কেউই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনার বাইরে নয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ পলাতক। ভারতের সহায়তায় তারা নাশকতায় লিপ্ত হয়েছে। এর প্রতিরোধের দায়িত্ব কি শুধু সরকারের? বর্তমান সংসদের সবচেয়ে বড় বেনিফিশারি জামায়াতে ইসলামী। তাদের কোনো দায়িত্ব নেই, আছে নানা সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের লিভিং স্পেসে প্রতিদিন জীয়ল থাকা। জামায়াতের কৃতিত্ব যারা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারছে। কিন্তু তাদের দায়িত্বশীলতাও কাম্য। সংবিধানের বাইরে যাওয়া মানুষ সমর্থন করে না। এই মুহূর্তে তারেক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি দল হিসেবে বিএনপিও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। অতীতে শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহু সংকটকে সমাধান দিয়ে গেছেন। সরকারকে অস্থির হওয়ার বদলে জিয়ার ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার রূপকল্প ২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার নিবিড় পাঠ সমাধান এনে দেবে।

সবচেয়ে বড় কথা, পবিত্র কোরআন শরিফে মহান আল্লাহ রাষ্ট্রীয় বিষয় পরামর্শের মাধ্যমে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ব্যাখ্যায় ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম কুরতুবি পার্থিব জ্ঞান ও ধর্মজ্ঞানে পারদর্শীদের সঙ্গে আলোচনা করে শাসন পরিচালনার তাগিদ দিয়েছেন। আমাদের নবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনকালের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল আলোচনা ও মতবিনিময়।

লেখক: উইকলি ইকোনমিক টাইমস সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট

ভারতের পেসার মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এই ঘোষণা দেন। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী শামি ২০১৩ সালের নভেম্বরে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন, সেই সিরিজের সময় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন।

শামির অভিষেকেই তার ভয়ঙ্কর বোলিংয়ের ক্ষমতা প্রকাশ পায়। স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করার দক্ষতা ছিল তার অন্যতম শক্তি। সেই ম্যাচে তিনি ৯ উইকেটের মধ্যে ৭টি বোল্ড বা এলবিডব্লিউ থেকে পান। সোজা সিম রাখার সহজাত দক্ষতা তার ছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়ে শামি তার সেরা বোলিং প্রদর্শন করেন। রিভার্স সুইংয়ের কারণে এই পারফর্ম্যান্সটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।

ভারতের হয়ে শামি ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন এবং ২২৯টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি ভারতের ইতিহাসের সেরা পাঁচ পেসারের তালিকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।

শামি তার টেস্ট অভিষেকের বার্ষিকীতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এই ১৩ বছরের যাত্রায়, এই ক্যাপ, এই বল আমাকে মোহাম্মদ শামি বানিয়েছে। উত্থান-পতন সবই ছিল। আমি পড়েছি, ব্যথা পেয়েছি, চোটও পেয়েছি। কিন্তু এই ব্যাজের জন্য আমি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। তাই এই ১৩ বছরের যাত্রা খুব ভালো কেটেছে। আমার কোচ, ট্রেনার, ফিজিও এবং যারাই সামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ভক্তদের। ক্রিকেটভক্তরা এই নামটি যেভাবে গড়েছেন, এই নামটাকে যে উৎসাহ দিয়েছেন, তা সব সময় মনে থাকবে। আপনাদের সবাইকে সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ। ক্রিকেটের প্রতি যাদের এত ভালোবাসা ছিল, আর এই নামকে এতদূর পৌঁছে দিয়েছেন, সেই সব ভক্তকে। আমি এটা (টেস্ট ক্যাপ) পেয়েছিলাম ৬ নভেম্বর, আর আজও ৬ নভেম্বর। তাই এই ১৩ বছরের যাত্রা আজই শেষ করা যাক। আজই আমি অভিষিক্ত হয়েছিলাম, আর আজই অবসর নিচ্ছি।’

শামি আরও বলেন, ‘আমি এটা ছেড়ে যাচ্ছি, তবে সাদা বলের ক্রিকেট খেলে যাব। আইপিএল হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট। ফিটনেসের জন্য দরকার হলে দিনের খেলাও (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট) খেলব। কিন্তু আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নয়। এই ছিল এত দিনের যাত্রা। আজই শুরু করেছিলাম, আজই শেষ করছি।’

এই ঘোষণার ফলে ২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালটাই শামির শেষ টেস্ট ম্যাচ হয়ে রইল। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২০৯ রানে হেরে ভারতের শিরোপার আশা শেষ হয়।

অবসর নেওয়ার সময় শামির বোলিং গড় ২৭.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট ৫০.২। ভারতের মাটিতে তার গড় ২২.১ এবং প্রতি ৪২.৬ বলে একটি উইকেট। দেশের মাঠে তার চেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেট রয়েছে আর মাত্র তিনজন বোলারের।

শামির জন্ম উত্তর প্রদেশের পশ্চিম অংশের আমরোহায়। ক্রিকেট খেলার সুযোগ খুঁজতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন। সেই সুযোগ তিনি বাংলায় গিয়ে পান। ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে তার অভিষেক হয়। তিনি এখনো বাংলার হয়ে খেলছেন এবং এ সপ্তাহের শুরুতে বাংলার সর্বশেষ ম্যাচেও তিনি দলে ছিলেন। আইপিএলে তিনি সর্বশেষ খেলেছেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠাবে পর্তুগাল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠাবে পর্তুগাল?

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সম্ভবত পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির পর, প্রশ্ন উঠছে, পর্তুগাল কি তার ৭ নম্বর জার্সিটি অবসরে পাঠাতে সক্ষম হবে?

রোনালদোর পরবর্তী ম্যাচ ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর, যেখানে তিনি ওয়েলসের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। মোট ২৩৪টি ম্যাচে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। ২০০৩ সালে অভিষেকের সময় তিনি ১৬ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি ৭ নম্বর জার্সিটি পান। এই জার্সি পরে তিনি ইউরো ২০১৬ এবং দুটি নেশনস লিগ জিতেছেন। ১৪৬ গোল নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে গোলের রেকর্ডধারী এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে রয়েছে।

রোনালদোর বিদায়ের ফলে জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। ফুটবলে এ বিষয়ে ফিফার একটি কম পরিচিত নিয়ম বিদ্যমান। সেই নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানো সম্ভব নয়।

তবে ক্লাব ফুটবলে বিষয়টি ভিন্ন। কিছু ক্লাব তাদের কিছু জার্সি নম্বরকে অবসরে পাঠিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে দিয়োগো জোতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর লিভারপুল তার ২০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠিয়েছে। ইয়োহান ক্রুইফের ১৪ (আয়াক্স), পাওলো মালদিনির ৩ (মিলান), ফ্রাঙ্কো বারেসির ৬ (মিলান) এবং জুড বেলিংহামের ২২ (বার্মিংহাম সিটি) জার্সিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দল কোনো খেলোয়াড়ের জার্সি অবসরে পাঠাতে পারে না। ফিফা এবং ফিফার কনফেডারেশনগুলোর টুর্নামেন্টে প্রতিটি জাতীয় দলকে স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়ের জন্য পরপর নম্বর নির্ধারণ করতে হয়।

পর্তুগাল উয়েফার অধীনে খেলে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি দলে ২৬ জন খেলোয়াড় ছিল। তাই নম্বর নিতে হয়েছে ১ থেকে ২৬ পর্যন্ত।

আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা (এএফএ) একবার চেষ্টা করেছিল। বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার সম্মানে ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানোর জন্য তারা আবেদন করেছিল। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ফিফা সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে জার্সিটি পরে আরিয়েল ওর্তেগা। ইতালির ক্লাব নাপোলি অবশ্য ম্যারাডোনার ১০ নম্বর অবসরে পাঠিয়েছে।

পর্তুগাল এ ধরনের কোনো চেষ্টা করেনি। রোনালদোর আগে ৭ নম্বর জার্সি পরতেন আরেক ব্যালন ডি’অর জয়ী লুইস ফিগো। তিনি ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন। ফিগোর সঙ্গে খেলার সময় রোনালদো ১৭ নম্বর পরতেন। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে নানি ও রিকার্দো কারেজমাও ৭ নম্বর জার্সি ব্যবহার করেছেন।

সেপ্টেম্বরে রোনালদো পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর, রাফায়েল লেয়াও ফাঁকা ৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন। ওই আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগের বাকি দুটি ম্যাচ ছিল ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিরুদ্ধে। এই কারণে, পর্তুগাল রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সিটিকে অবসরে পাঠানোর সম্ভাবনাকে আপাতত ক্ষীণ মনে করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%