ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের তালিকায় চতুর্থ স্থান


ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের তালিকায় চতুর্থ স্থান

বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আজ ঢাকা শহর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে, যেখানে স্কোর ১৯৬ এবং এটি ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই স্কোর ১৯৬, যা বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে নির্দেশ করে। এই মেগাসিটি বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে।

এই একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ৫২৯। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর শহর রয়েছে, যার স্কোর ২৭৫। এই দুটি শহরের স্কোর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল মুক্ত যাতায়াত

দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় ও পঞ্চম অবস্থানে যথাক্রমে ভারতের কলকাতা এবং আফগানিস্তানের কাবুল রয়েছে, যাদের স্কোর যথাক্রমে ২৩৬ ও ১৬৮। এই শহরগুলোর স্কোরও খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর।

দূষিত বাতাসের শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরের বাতাসের মানের স্কোর ৯৯ থেকে ৫২৯-এর মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে।

বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে সেটি ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে সেটি সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে সেটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যান্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার সদর দপ্তরে ককটেল বিস্ফোরণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানুয়ারিতেই বাংলাদেশে আসতে চাইছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


জানুয়ারিতেই বাংলাদেশে আসতে চাইছে ভারত

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবং দুইবার সফর স্থগিত হওয়ার পর, অবশেষে বাংলাদেশ-ভারতের সাদা বলের সিরিজটি আলোর মুখ দেখার পথে। আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছয় ম্যাচের সাদা বলের সিরিজ খেলতে ভারতীয় দলের বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার এই আশাব্যঞ্জক খবরটি প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। ভারতীয় গণমাধ্যম নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, দুদেশের বোর্ডের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এখন অনেকটা পরিষ্কার যে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। পূর্বনির্ধারিত এই সফরে ভারত তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।

এদিকে, দুই দেশের বোর্ডের সম্মতি থাকলেও, ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরটি সেদেশের সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ৩ থেকে ৯ জানুয়ারি নিজেদের মাঠে ভারতের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার সূচি রয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ।

ভারত যদি বাংলাদেশ সফরে আসার পরিকল্পনা করে, তাহলে জিম্বাবুয়ে সিরিজের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে তাদের।

শেষবার বাংলাদেশ সফরে ভারত এসেছিল ২০২২ সালে। সেবার তারা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ছাড়াও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল। সাদা বলের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। এবারও বাংলাদেশ দল সেই সফলতার পুনরাবৃত্তি করতে চাইবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকশালিরা চক্রান্ত করেও বারবার পরাজিত হয়েছে: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


বাকশালিরা চক্রান্ত করেও বারবার পরাজিত হয়েছে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সতর্ক করে বলেছেন, "কোনো রাজনৈতিক দল যদি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে ফ্যাসিস্টদের মদদ দেয় তবে জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।"

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সকালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী আরও বলেন, "দেশকে অস্থিতিশীল করতে বাকশালিরা বারবার চক্রান্ত করেও পরাজিত হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে থাকা অপশক্তি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামাতে চাইছে, তবে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে দেশের মানুষ বারবার ঐক্যবদ্ধ হবে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন সবাই।

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এছাড়া ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুমিয়ে ৯.৬ লাখ টাকা জিতলেন জিনিয়া চ্যাটার্জি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


ঘুমিয়ে ৯.৬ লাখ টাকা জিতলেন জিনিয়া চ্যাটার্জি

পেশাদার জীবনে রাত জেগে কাজ করার প্রচলন থাকলেও, এবার এক নারী কেবল ঘুমিয়েই সাফল্য অর্জন করেছেন। ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা জিনিয়া চ্যাটার্জি এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে ৯.৬ লাখ রুপি এবং একটি স্পন্সর করা ছুটি কাটানোর সুযোগ লাভ করেছেন।

‘স্লিপ ইন্টার্নশিপ’ নামক এই প্রতিযোগিতায় গোটা ভারত থেকে দুই লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে জিনিয়াকে দেশটির ‘স্লিপ চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মুকুট পরানো হয়।

ঘুম ও আরামদায়ক জীবনযাত্রার ব্র্যান্ড ‘ওয়েকফিট’-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী ইন্টার্নশিপটি আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীদের মূল কাজ ছিল নিয়মিত ঘুমানো, নির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখা এবং সৃজনশীল কিছু সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করা।

প্রাথমিক বাছাই এবং ব্যক্তিগত ইন্টার্নশিপের কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে দুই লাখের বেশি আবেদনকারী থেকে মাত্র ১০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ৬০ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় প্রার্থীরা তাদের ঘুমের পারফরম্যান্স ট্র্যাক করতেন এবং প্রতিদিনের স্কোরের ভিত্তিতে লিডারবোর্ডে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো।

তবে প্রতিযোগিতাটি কেবল বেশি বা ঠিকমতো ঘুমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর পাশাপাশি প্রতিযোগীদের আরও বিভিন্ন সৃজনশীল ও মজার অ্যাসাইনমেন্টেও অংশ নিতে হয়েছিল।

সাপ্তাহিক এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে ‘স্লিপ সিনেমা’ পর্বে প্রতিযোগীদের বিখ্যাত সব সিনেমার দৃশ্য ঘুমের থিম দিয়ে পুনর্নির্মাণ করতে হতো। ‘স্লিপ বিঙ্গো’ পর্বে এক সপ্তাহ ধরে নিজের ঘুমের অভ্যাস মূল্যায়ন করতে হতো এবং ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’ নামক অদ্ভুত টাস্কে সাধারণ কথোপকথনের মধ্যে ধরা না পড়ে ১০ বার ‘কম্বল’ বা ‘বালিশ’ শব্দ দুটি ব্যবহার করতে হতো। প্রতি সপ্তাহে সেরা পারফর্ম করা প্রতিযোগীকে ‘প্রো স্লিপার অব দ্য উইক’ খেতাব দেওয়া হতো।

এভাবে দুই মাস পর জিনিয়া চ্যাটার্জির পাশাপাশি রত্নগিরি মানিকান্দিন এবং মেহিক খোত সেরা তিন জনের তালিকায় জায়গা করে নেন। তবে হায়দরাবাদের করিম খান সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জ জেতার সুবাদে ওয়াইল্ডকার্ড এন্ট্রি নিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেন এবং ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা দাঁড়ায় চারে।

যেভাবে জয় ছিনিয়ে নেন জিনিয়া

‘বিগ বেড’ নামের গ্র্যান্ড ফাইনালে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমটি ছিল ‘মেমোরি ফোম চ্যালেঞ্জ’, যেখানে রেফারেন্স ছবি দেখে বেডরুমের সেটআপ হুবহু তৈরি করতে হতো। এর মাধ্যমে প্রতিযোগীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি এবং দলগত কাজকে পরীক্ষা করা হতো।

দ্বিতীয়টি ছিল ‘স্লিপ অকশন’ বা ঘুমের নিলাম। এই পর্বে ফাইনালিস্টদের বালিশ, কম্বল, এসি কন্ট্রোল, আলো এবং সাউন্ড সেটিংসের মতো প্রয়োজনীয় ঘুমের ব্যবস্থাগুলোর জন্য বিড (নিলামে দাম হাঁকা) করতে হয়।

এরপর ফাইনালিস্টরা তাদের নিজ নিজ কাস্টমাইজ করা পরিবেশেই জীবনের শেষ রাতের মতো ঘুমান। এই রাতের ঘুমের স্কোরই নির্ধারণ করে দেয় চূড়ান্ত বিজয়ী কে হবেন। আর সবশেষে সবাইকে পেছনে ফেলে বিজয়ের হাসি হাসেন মুম্বাইয়ের জিনিয়া চ্যাটার্জি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই স্লিপ ইন্টার্নশিপের প্রথম চার মৌসুমে ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবং মোট ৬৫ জন ইন্টার্ন প্রত্যেকে ১ লাখ টাকা করে স্টাইপেন্ড জিতে নিয়েছেন। ওয়েকফিটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে এই প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ মৌসুমের প্রি-রেজিস্ট্রেশনও শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল-সায়েদ: মুসলিম পরিচয়ে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


এল-সায়েদ: মুসলিম পরিচয়ে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পর আবদুল এল-সায়েদ যেন এক মুহূর্তও নষ্ট করতে রাজি নন। তিনি এখন সর্বত্র। এমএস নাউয়ের বিখ্যাত ‘মর্নিং জো’, সিএনএন, এবিসি সহ আমেরিকার প্রধান গণমাধ্যমে একের পর এক সাক্ষাৎকার প্রদান করে চলেছেন। প্রতিটি সাক্ষাৎকার থেকেই শেখার মতো অনেক কিছু পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি অত্যন্ত মনোযোগী, স্পষ্টভাষী, বাগ্মী, ক্ষুরধার এবং অসাধারণ আত্মবিশ্বাসী। অপ্রাসঙ্গিক কথায় মনোযোগ না হারিয়ে প্রতিবারই নিজের মূল বক্তব্য তুলে ধরছেন।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আমেরিকার যেসব প্রভাবশালী গণমাধ্যম বছরের পর বছর মুসলমানদের ভিন্ন চোখে দেখেছে, এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন মুসলমানরা এই সমাজের বাইরের কেউ, তারা এখন এল-সায়েদকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছে।

আজ ‘হাবিবি’, ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দগুলো কোটি কোটি আমেরিকানের কাছে আর অচেনা ঠেকছে না। সাক্ষাৎকার নেওয়ার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, এল-সায়েদ যেন বহুদিন ধরেই তাদের আপনজন! মাত্র দুদিন আগেও সিএনএনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বৈরী। অথচ এখন তাদের আচরণ একেবারেই ভিন্ন।

এল-সায়েদের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো, গণমাধ্যমের এই গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য তিনি নিজের বক্তব্য বা অবস্থান একটুও পরিবর্তন করেননি। আগের মতোই নির্ভয়ে কথা বলছেন তার মুসলিম পরিচয়, ধর্মবিশ্বাস, জাতিগত পরিচয়, গায়ের রং, গাজা, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং বৈশ্বিক অবিচার নিয়ে।

তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করছেন, ইহুদি ধর্মবিশ্বাস আর জায়নবাদ এক বিষয় নয়! ইহুদি, মুসলিম, এমনকি ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষের সন্তানদের নিরাপত্তাও তার কাছে নিজের সন্তানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনের আগে তিনি যা বলেছেন, নির্বাচনের পরও ঠিক তা-ই বলে যাচ্ছেন। প্রতিটি সাক্ষাৎকারে একই সত্য, একই দৃঢ়তা, একই সাহস। ক্ষমতাবানদের সামনে সত্য উচ্চারণ করতে তিনি বিন্দুমাত্র সংকোচ বোধ করেন না।

এক বিলিয়নেরও বেশি মুসলমানের বিশ্বাস, অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা আমেরিকার মূলধারার গণমাধ্যমে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তেমন কোনো গুরুত্ব পায়নি। সেই বাস্তবতাকে আমেরিকার রাজনীতি ও গণমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে তুলে ধরার মতো একজন মানুষকে আমরা দেখতে পাচ্ছি! তিনি হলেন আবদুল এল-সায়েদ।

উত্তর আমেরিকার মুসলমানদের কাছে এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা দেখছি, একজন মুসলিম রাজনৈতিক নেতাকে আমেরিকার প্রধান গণমাধ্যমগুলো শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তার কথা শুনছে, তার মতামতকে আলোচনায় আনছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি পরিবর্তনের অনুভূতি।

ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স তাকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়েছেন। নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। কিন্তু এল-সায়েদ একটুও পিছিয়ে যাননি। বরং তিনি পালটা জবাব দিয়েছেন, অপমানের প্রতিবাদ করেছেন এবং দেখিয়ে দিয়েছেন, বুলিদের ভয়ে চুপ থাকার দিন শেষ।

ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ‘ইডিয়ট’ ও ‘সবচেয়ে নির্বোধ ব্যক্তি’ বলেছেন। জেডি ভ্যান্সকে বলেছেন ‘বিবেকহীন’।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যা খুব কমই কল্পনা করতে পেরেছি, তিনি তা-ই করে দেখাচ্ছেন। একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ আমেরিকার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের চোখে চোখ রেখে সমান দৃঢ়তায় কথা বলছেন।

আমার বিশ্বাস, আগামী দিনগুলোতে এল-সায়েদ আমেরিকার রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন। জেডি ভ্যান্সের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। জেডিকে তিনি ছেড়ে দেবেন না। প্রতিবারই তার কথার জবাব দেবেন নিজের বক্তব্য দিয়ে। জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পর আমরা হয়তো আরও দেখব, এল-সায়েদের পালটা আঘাত কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। নির্ভীক এল-সায়েদ যে অন্যায় ও আক্রমণের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকবেন, তা তার সাম্প্রতিক অবস্থান থেকেই স্পষ্ট।

উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি এক অসাধারণ অনুপ্রেরণা। একটি পুরো প্রজন্মের জন্য তিনি আশার প্রতীক।

যেসব শিশু-কিশোর কখনো কখনো নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দ্বিধায় ভোগে, এল-সায়েদ তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছেন। তিনি দেখাচ্ছেন, সফল হওয়ার জন্য নিজের ধর্মবিশ্বাস, পরিচয় কিংবা আদর্শ লুকানোর কোনো প্রয়োজন নেই। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়, নিজের বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা যায়, বড় স্বপ্ন দেখা যায়, এমনকি নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছানো যায়।

হয়তো এল-সায়েদের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে শুধু রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয়ী হওয়া নয়, বরং তার মাধ্যমে একটি পুরো প্রজন্মের জন্য নতুন দরজা খুলে দেওয়া এবং নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানো।

এই কারণেই এল-সায়েদের এই উত্থান আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আবদুলের কাছ থেকে শিক্ষা নেবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%