১২:৪৪ পি.এম
জাতীয় পরিচয়পত্র, যা এনআইডি নামে পরিচিত, এটি নাগরিকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। এটি ভোটার নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হয়। নতুন ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া, নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন, অথবা হারানো কার্ড পুনরুদ্ধারের নিয়ম নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল ব্যবহার করে এসব সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব। তবে আবেদন প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকেরা নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা শ্রমিক নয়: ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান
নতুন ভোটার হতে হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এরপর আবেদনকারীর জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে প্রয়োজন হলে ফরম প্রিন্ট করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হতে হবে। নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস এবং স্বাক্ষর নেওয়া হতে পারে।
নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—
- জন্ম নিবন্ধন সনদ;
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশিদের হয়রানি বন্ধে অভিযান, ৭ জনের কারাদণ্ড
- এসএসসি বা সমমানের সনদ;
- সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ;
- বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;
- ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের কাগজ।
আরও পড়ুন: শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধাভিত্তিক মূল্যায়নে কাজ করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর এনআইডি ও বিবাহ সনদও প্রয়োজন হতে পারে। তবে আবেদনকারীর ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
এনআইডিতে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনের প্রক্রিয়া
জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে ভুলের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র এবং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষ করে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ, জন্ম নিবন্ধন এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথির তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: আধুনিক ভূমি জরিপ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ
আবেদনের আগে এনআইডিতে থাকা ভুল তথ্য শনাক্ত করে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইভাবে নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক সনদ প্রস্তুত রাখতে হবে।
তথ্যভান্ডারে সতর্ক করা হয়েছে যে, নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরবর্তী সংশোধনের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তাই প্রথমবার আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন করার আগে এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রদর্শিত ফি দেখে নেওয়া উচিত। এছাড়া কাগজপত্রের কপি তৈরি, সত্যায়ন এবং যাতায়াতের জন্য আনুষঙ্গিক খরচ হতে পারে।
জন্মতারিখ সংশোধনে সতর্কতার বিষয়
আরও পড়ুন: ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের
এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। কারণ জন্মতারিখের সঙ্গে শিক্ষাগত সনদ, জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথির সম্পর্ক রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর উচিত জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের তথ্য মিলিয়ে দেখা, ভুল তথ্য এবং প্রস্তাবিত সঠিক তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
হারানো এনআইডি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে অনলাইনে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যায়। তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হারানো এনআইডি পুনরায় সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরি বা জিডির বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে। তবে এই তথ্যের বর্তমান কার্যকারিতা সরকারি সূত্রে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান
হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহের জন্য প্রথমে পুরোনো এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এরপর এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে পুনঃইস্যুর আবেদন করতে হবে। পোর্টালে প্রদর্শিত ফি পরিশোধ করে আবেদন নম্বর ও রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে। পরে পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
জরুরি প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট থেকে ডিজিটাল কপি ডাউনলোডের সুযোগ থাকলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল কপি গ্রহণ করে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এনআইডির ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন ছবি ও স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হতে পারে।
অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করা গেলেও ছবি ও স্বাক্ষর গ্রহণের মতো কাজের জন্য ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন হলে নির্বাচন অফিসে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে যা করবেন
স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র জমা দিতে হয়।
তথ্যভান্ডারে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য ফরম-১৩ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনপত্রে আগের ঠিকানা, নতুন ঠিকানা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। তবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কী কী নথি প্রয়োজন হবে, তা নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
অনলাইনে এনআইডির ডিজিটাল কপি সংগ্রহ
জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করতে হবে। এরপর নিবন্ধন, মুখমণ্ডল যাচাইসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করলে ডিজিটাল কপি ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নিজের এনআইডি নম্বর, পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারও কাছে অপ্রয়োজনে প্রকাশ করা উচিত নয়।
আবেদন নিষ্পত্তিতে কত দিন লাগে?
এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির সময় সংশোধনের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তথ্য যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে।
তথ্যভান্ডারে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস এবং জটিল আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সময়সীমা বর্তমান সরকারি নিশ্চয়তা নয়। আবেদন নম্বর দিয়ে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।
কোথায় পাবেন এনআইডি সেবা?
জাতীয় পরিচয়পত্রের নতুন নিবন্ধন, সংশোধন, পুনঃইস্যু ও অন্যান্য সেবা নিতে নির্বাচন কমিশনের সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করা যাবে।
- এনআইডি সেবা পোর্টাল: https://services.nidw.gov.bd/
- হেল্পলাইন: ১০৫
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন