ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পেল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ১০


দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পেল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ১০

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বোয়িংয়ের সবচেয়ে বড় ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল, ম্যাক্স ১০, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন লাভ করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন উড়োজাহাজটিকে এই অনুমোদন দেয়। এর ফলে উড়োজাহাজটির বিক্রি ও সরবরাহের পথে একটি বড় বাধা দূর হলো। তবে, বিমান সংস্থাগুলোর কাছে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বোয়িংয়ের জন্য এই অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপত্তা, নির্মাণের মান এবং উৎপাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজটির অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন, শত্রুকে তার ভূখণ্ডেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওয়াশিংটনের এভারেট শহরে বোয়িংয়ের উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এই অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, "ব্যাপক নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং হাজার হাজার ঘণ্টার পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি অনুমোদন পেয়েছে।" তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্য একটি বড় অর্জন।

বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিভাগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ বলেন, "এই অনুমোদনের ফলে এমন একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের পথ খুলেছে, যা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন মান তৈরি করবে।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এ অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"

এক উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী

বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক্স ১০-এ সাধারণত ১৮৫ থেকে ২১০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। তুলনায় ম্যাক্স ৯-এ ১৭৫ থেকে ১৯৫ জন এবং ম্যাক্স ৮-এ ১৬০ থেকে ১৮০ জন যাত্রী বহন করা যায়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের জনগণের সঙ্গে বিরোধ নেই, নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তি

বড় উড়োজাহাজ হওয়ায়, বিমান সংস্থাগুলো একই ফ্লাইটে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। এতে প্রতিটি আসনের বিপরীতে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। জনপ্রিয় রুটগুলোতে আসনসংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে যাত্রীদের টিকিটের দাম কমবে কি না, তা বিমান সংস্থাগুলোর উড়োজাহাজ ব্যবহারের ধরন ও বাজারে প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।

বিলম্বে আটকে ছিল হাজারের বেশি উড়োজাহাজের সরবরাহ।

২০১৭ সালে প্যারিসে এক আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ প্রদর্শনীতে ম্যাক্স ১০-এর ঘোষণা দেয় বোয়িং। ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মডেলটি তৈরি করা হয়। তবে, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্তের কারণে এর অনুমোদন বারবার পিছিয়ে যায়।

বোয়িংয়ের কাছে এখনো বিশ্বের ৩০টির বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে ১ হাজার ৫৫৫টি ম্যাক্স ১০ উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটির ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের মোট বকেয়া ক্রয়াদেশের ৩০ শতাংশেরও বেশি এই উড়োজাহাজের। এর বড় গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস ও রায়ানএয়ার। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইনস ১০৫টি ম্যাক্স ১০ কেনার আদেশ দেয়। প্রয়োজনে আরও ৩৫টি কেনার সুযোগও রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নজরদারি।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে বোয়িংয়ের ছোট মডেল ম্যাক্স ৮-এর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়ায় মোট ৩৪৬ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার পর বোয়িংয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উড়োজাহাজ তৈরির মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

২০২৪ সালে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজ আকাশে থাকা অবস্থায় এর গায়ের একটি প্যানেল খুলে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

দুর্ঘটনাগুলোর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করে। তবে গত ১৮ মাসে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ উৎপাদনের সীমা বাড়ানোও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে আরামকো তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত ২, আহত ২

চলতি বছরের আগস্টে ম্যাক্স ৭ মডেলটিও বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবহারের অনুমোদন পায়। ফলে ম্যাক্স ৭ ও ম্যাক্স ১০—দুটি মডেলের অনুমোদন একই বছরে পাওয়াকে বোয়িংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

ম্যাক্স ১০-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের এ৩২১নিও মডেল। ২০১৭ সালে যাত্রী পরিবহন শুরু করা এই মডেল পরিবারের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজটি ম্যাক্স ১০-এর চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করতে পারে এবং জ্বালানি না নিয়েও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

তবে পুরোনো উড়োজাহাজের তুলনায় বেশি যাত্রী বহন এবং কম জ্বালানি খরচের লক্ষ্য নিয়ে ম্যাক্স ১০ তৈরি করেছে বোয়িং। জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর কাছে এই বৈশিষ্ট্য আকর্ষণীয় হতে পারে।

আরও পড়ুন: সাইবার হামলার শঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি

অনুমোদনের অর্থ, উড়োজাহাজটির নকশা নিরাপত্তার নির্ধারিত মান পূরণ করেছে। তবে বোয়িংকে নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি উড়োজাহাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি উড়োজাহাজকেও আলাদাভাবে ছাড়পত্র নিতে হবে।

এছাড়া জুলাইয়ে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বোয়িংকে উৎপাদনকেন্দ্রেই ম্যাক্স ৭৩৭ ও ৭৮৭ উড়োজাহাজের উড্ডয়নযোগ্যতার সনদ দেওয়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। এতে তৈরি হওয়া উড়োজাহাজ উড্ডয়নের উপযোগী কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কিছু দায়িত্ব ফিরে পেয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি বাবার পথ বেছে নিয়েছেন, সরকার উৎখাতই একমাত্র উপায়: নেতানিয়াহু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলি-প্রত্যাহারেও থামছে না সিএমপি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


বদলি-প্রত্যাহারেও থামছে না সিএমপি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। তবুও, গত এক বছরে অন্তত ছয়টি ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তাকে বদলি বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক আত্মসাৎ, ক্রিকেটারকে মারধর, চাঁদাবাজি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা, নাগরিককে তুলে নিয়ে টাকা আদায় এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ ওঠার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, সংযুক্ত বা বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সংখ্যা বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বদলি বা প্রত্যাহার করা হলে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ যাচাই এবং দোষ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে এটি শাস্তির চেয়ে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরে আনার সময় এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, চালানটি আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ না দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয় এবং বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিএমপির নিজস্ব তদন্তে দেখা গেছে, কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন রাতে তাকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে গত জুনে। এরপর খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়। ১৪ জুন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ আদেশ দেন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের সোর্স হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনে প্রত্যাহার

সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় মুহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়। সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক থেকে ১৮ জুন তাকে সদরঘাট থানায় পদায়ন করা হয়েছিল। এর আগে তিনি সিটি এসবি ও ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ৫ জুলাই সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিএমপির সাবেক কমিশনার ও বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারকচক্রের মূল হোতা জুবাইরুল হক জিয়ান প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের কণ্ঠ নারীকণ্ঠে রূপান্তর করে টার্গেটদের সঙ্গে কথা বলতেন। এই চক্রের সঙ্গে সিএমপির দুই ওসি বাবুল আজাদ ও জাহেদুল ইসলামের যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

হাসিব আজিজ ফাঁদে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, পরিচয় ভুয়া বুঝতে পেরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। প্রতারক তাকে দিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করাতে পারেনি।

ঘটনা প্রকাশের পর ২৩ আগস্ট এক অফিস আদেশে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি জাহেদুল ইসলামকে সিটি এসবিতে বদলি করা হয়। এর আগেই বাবুল আজাদকে ওসির পদ থেকে সরিয়ে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে (দক্ষিণ) বদলি করা হয়েছিল।

আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দীন রাজুর বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী লুৎফুর নেছার অভিযোগ, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদপুরের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যান। কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা লিখিত নোটিস ছিল না। তাকে ডিবি উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিয়ে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা দিতে রাজি হলে কম্পিউটারে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা তৈরি করে জোর করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী ঘটনার নেপথ্যে একটি ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। লুৎফুর নেছার স্বামী ফজলুল কাদের বাদশা সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করেন। ২০২৪ সালে সেখানে ফটিকছড়ির বাসিন্দা নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজন যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন। লোকসান হলে নাজমুল দেশে ফিরে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ফজলুল কাদের বাদশার স্ত্রীকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, স্বর্ণালংকার বিক্রি ও ধারদেনা করে ওই দম্পতি এক কোটি ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে পরিশোধ করেন। বাকি এক কোটি ৪০ লাখ টাকা কিস্তিতে দিতে চাপ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে পাঁচলাইশ থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যেতে বলে। পরে ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে তিনি পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত এসআইকে বদলি করা হয়।

মহিউদ্দীন রাজু টাকা নেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এক ব্যক্তির স্বর্ণসংক্রান্ত আর্থিক অভিযোগ পেয়ে তিনি দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন।

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ আদায়

সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর সিএমপির ল অ্যান্ড অর্ডার ইন্টেলিজেন্স সেলের (এলআইসি) সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজন ও তার দলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পলিপ্রপিলিন ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে হালিশহর থেকে সাদা পোশাকে তুলে এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জুয়ার মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য ডিভাইসে নেওয়া হয়। বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০ হাজার ৮৬৪ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি তিন দফায় স্থানান্তর করানো হয়। রাতে এটিএম বুথ থেকে পাঁচ দফায় চার লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করা এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগও আছে। প্রথমে এক কোটি টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন তারা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা এখনো মামলা করেননি।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

একাধিক ঘটনার পর থানা ও গোয়েন্দা শাখায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, পদায়ন ও বদলিতে স্বচ্ছতা না থাকলে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা এবং সিদ্ধান্তের জবাবদিহি থাকা দরকার। কেউ প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশে পদায়ন-বদলি প্রভাবিত করেছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুরো বাহিনী নেবে না। মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জনগণের পুলিশ হওয়া, নিপীড়ক হওয়া নয়। পুলিশের ভালো কাজের মাপকাঠি হলো নাগরিক সন্তুষ্টি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন বান্দরবানের পুলিশ সদস্য অনিক দাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন বান্দরবানের পুলিশ সদস্য অনিক দাশ

চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে খুলশী থানা পুলিশ চার সহযোগীসহ বান্দরবান জেলা পুলিশের কনস্টেবল অনিক দাশকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এই পুলিশ সদস্য ছুটিতে থাকাকালীন একটি চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় বান্দরবানের ওই পুলিশ কনস্টেবল এবং তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। ওই সদস্যের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল অনিক দাশসহ অন্যান্যদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই পুলিশ সদস্যের চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার কারণে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চট্টগ্রাম শহরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় ওই কনস্টেবল আটক হয়েছেন। মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে দীঘিনালার পূজামণ্ডপে জোন কমান্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে দীঘিনালার পূজামণ্ডপে জোন কমান্ডার

 শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তিনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন তিনি।

জোন কমান্ডার বলেন, দীঘিনালা জোন এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদারে এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে এ ধরনের পরিদর্শন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিড়িয়াখানায় যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ গেল ১৭ বছরের কিশোরীর, গ্রেপ্তার দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


চিড়িয়াখানায় যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ গেল ১৭ বছরের কিশোরীর, গ্রেপ্তার দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে চিড়িয়াখানায় হ্যালোইন উৎসবে যাওয়ার পথে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো পরিচয় বা যোগসূত্র ছিল না।

নিহত কিশোরীর নাম অ্যালিসা উইলসন। এই ঘটনায় উইলি হার্নডন (৪২) নামের একজনের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী হিসেবে পরিচিত তাইয়া হার্নডনের বিরুদ্ধে অপরাধীকে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস কাউন্টির সরকারি আইনজীবী মেলিসা প্রাইস স্মিথ এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেন্ট লুইস শহরের উত্তর-পশ্চিমে ওভারল্যান্ড এলাকায় একটি মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণ দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল অ্যালিসা। তার গন্তব্য ছিল সেন্ট লুইস চিড়িয়াখানা, যেখানে হ্যালোইন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছিল সে।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রঙের গাড়ি অতিক্রম করার পরই গুলির শব্দ শোনা যায়। নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ওই গাড়ি থেকে একজন নেমে কিছুক্ষণ বাইরে অবস্থান করেন। এরপর গুলি চালিয়ে আবার গাড়িতে উঠে যান তিনি। পরে গাড়িটির বিপৎসংকেত বাতি বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যান।

গুলিটি অ্যালিসার চালানো লাল রঙের গাড়ির পেছনের অংশ ভেদ করে। কিছুক্ষণ পর গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা অ্যালিসাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে সেন্ট লুইসের বার্নস-জিউইশ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তকারীরা জানান, অ্যালিসার সঙ্গে অভিযুক্ত দম্পতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। কেন তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত অ্যালিসার বাবা রবার্ট হিকম্যান সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ১৮ বছর পূর্ণ হতে অ্যালিসার তখনো ৬০ দিন বাকি ছিল। তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে।

হিকম্যান বলেন, "অ্যালিসা নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিল।" পরিবার প্রথমবারের মতো ছুটি কাটাতে ডিজনিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেখানে অ্যালিসার প্রিয় চরিত্র রাজকুমারী টিয়ানার সঙ্গে সম্পর্কিত আকর্ষণ উপভোগ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্মম এই ঘটনায় তাদের সব পরিকল্পনা শেষ হয়ে গেছে।

তিনি ঘটনাটিকে অর্থহীন সহিংসতা বলে আখ্যা দেন।

পুলিশ জানায়, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নম্বর শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। গাড়িটির নিবন্ধন অন্য অঙ্গরাজ্যের হওয়ায় তদন্তকারীরা সেটিকে অনুসরণ করতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কেসিভিল এলাকার একটি হোটেলে গাড়িটির সন্ধান মেলে। দীর্ঘ সময় নজরদারির পর গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় উইলি ও তাইয়া হার্নডনকে আটক করা হয়।

ইলিনয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে চালানো তল্লাশিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা একটি গুলির খোসাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে উইলি হার্নডন ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অন্য কিছু এলাকায় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব ঘটনার তদন্ত চলছে।

উইলি হার্নডনের জামিনের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার এবং তাইয়া হার্নডনের ক্ষেত্রে ৫ লাখ ডলার। পুরো অর্থ জমা না দিলে তাদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে তারা ইলিনয়ে আটক রয়েছেন। মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নিয়ে গিয়ে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে।

তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সেন্ট লুইস কার্যালয়ের সহকারী বিশেষ এজেন্ট ডেভ হের জানান, বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মামলাটির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

তবে অ্যালিসাকে হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%