ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিড়িয়াখানায় যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ গেল ১৭ বছরের কিশোরীর, গ্রেপ্তার দম্পতি


চিড়িয়াখানায় যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ গেল ১৭ বছরের কিশোরীর, গ্রেপ্তার দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে চিড়িয়াখানায় হ্যালোইন উৎসবে যাওয়ার পথে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো পরিচয় বা যোগসূত্র ছিল না।

নিহত কিশোরীর নাম অ্যালিসা উইলসন। এই ঘটনায় উইলি হার্নডন (৪২) নামের একজনের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী হিসেবে পরিচিত তাইয়া হার্নডনের বিরুদ্ধে অপরাধীকে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস কাউন্টির সরকারি আইনজীবী মেলিসা প্রাইস স্মিথ এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জন্মদিনে জেরুজালেমে বিক্ষোভ, গাড়িবহরে বোতল নিক্ষেপ

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেন্ট লুইস শহরের উত্তর-পশ্চিমে ওভারল্যান্ড এলাকায় একটি মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণ দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল অ্যালিসা। তার গন্তব্য ছিল সেন্ট লুইস চিড়িয়াখানা, যেখানে হ্যালোইন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছিল সে।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রঙের গাড়ি অতিক্রম করার পরই গুলির শব্দ শোনা যায়। নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ওই গাড়ি থেকে একজন নেমে কিছুক্ষণ বাইরে অবস্থান করেন। এরপর গুলি চালিয়ে আবার গাড়িতে উঠে যান তিনি। পরে গাড়িটির বিপৎসংকেত বাতি বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যান।

গুলিটি অ্যালিসার চালানো লাল রঙের গাড়ির পেছনের অংশ ভেদ করে। কিছুক্ষণ পর গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা অ্যালিসাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে সেন্ট লুইসের বার্নস-জিউইশ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তকারীরা জানান, অ্যালিসার সঙ্গে অভিযুক্ত দম্পতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। কেন তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: কাতালোনিয়ায় ইসলামফোবিয়ার উত্থানে রাজনীতির সমীকরণ বদলে যাচ্ছে

নিহত অ্যালিসার বাবা রবার্ট হিকম্যান সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ১৮ বছর পূর্ণ হতে অ্যালিসার তখনো ৬০ দিন বাকি ছিল। তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে।

হিকম্যান বলেন, "অ্যালিসা নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিল।" পরিবার প্রথমবারের মতো ছুটি কাটাতে ডিজনিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেখানে অ্যালিসার প্রিয় চরিত্র রাজকুমারী টিয়ানার সঙ্গে সম্পর্কিত আকর্ষণ উপভোগ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্মম এই ঘটনায় তাদের সব পরিকল্পনা শেষ হয়ে গেছে।

তিনি ঘটনাটিকে অর্থহীন সহিংসতা বলে আখ্যা দেন।

পুলিশ জানায়, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নম্বর শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। গাড়িটির নিবন্ধন অন্য অঙ্গরাজ্যের হওয়ায় তদন্তকারীরা সেটিকে অনুসরণ করতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা

একপর্যায়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কেসিভিল এলাকার একটি হোটেলে গাড়িটির সন্ধান মেলে। দীর্ঘ সময় নজরদারির পর গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় উইলি ও তাইয়া হার্নডনকে আটক করা হয়।

ইলিনয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে চালানো তল্লাশিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা একটি গুলির খোসাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে উইলি হার্নডন ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অন্য কিছু এলাকায় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব ঘটনার তদন্ত চলছে।

উইলি হার্নডনের জামিনের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার এবং তাইয়া হার্নডনের ক্ষেত্রে ৫ লাখ ডলার। পুরো অর্থ জমা না দিলে তাদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে তারা ইলিনয়ে আটক রয়েছেন। মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নিয়ে গিয়ে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে ফোনে কলারের নাম-পরিচয় দেখা যাবে

তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সেন্ট লুইস কার্যালয়ের সহকারী বিশেষ এজেন্ট ডেভ হের জানান, বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মামলাটির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

তবে অ্যালিসাকে হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, রাজধানী উত্তাল বিক্ষোভে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজায় যাওয়ার পথে মিরপুরে ভ্যান থামিয়ে নারীদের স্বর্ণালংকার লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


পূজায় যাওয়ার পথে মিরপুরে ভ্যান থামিয়ে নারীদের স্বর্ণালংকার লুট

কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি নির্জন সড়কে গাছের ডাল ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশ পরিহিত দেশীয় অস্ত্রধারী ৫-৬ জনের একটি দল পূজামণ্ডপে যাওয়ার পথে একটি ভ্যানের চার নারী যাত্রীর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া, পরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদের কাছ থেকেও স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিতলা বিষিনতা মাঠসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাছের ডাল ফেলে নির্জন সড়কের ওপর যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৫-৬ জনের একটি দল সেখানে অবস্থান নেয়। ওই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় এক যুবক কৌশলে নিজেকে রক্ষা করে কাছের একটি মোড়ে থাকা লোকজনকে ডাকাতির খবর জানান। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

এই ঘটনার মধ্যে পূজামণ্ডপে যাওয়ার পথে একটি ভ্যানে থাকা চার নারী দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওই পথ দিয়ে যাওয়া আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদের কাছ থেকেও স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উজ্জ্বল হোসেন জানান, সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশও সেখানে পৌঁছায়। তবে ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় এলাকার বাইরের হওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্জন সড়কটির সুযোগ নিয়ে এর আগেও মাঝেমধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতেও একই কৌশলে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরের গ্রামবাংলা থেকে হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাশবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


সৈয়দপুরের গ্রামবাংলা থেকে হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাশবন

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার ঐতিহ্যবাহী কাশবন। অতীতে গ্রাম বাংলার ঝোপঝাড়, রাস্তাঘাট এবং নদীর দুই ধারসহ নানা স্থানে কাশফুলের মনমুগ্ধকর উপস্থিতি দেখা যেত। হাওয়ায় দোল খাওয়া কাশফুলের দৃশ্য মানুষের মনে এক ভিন্ন আনন্দের আমেজ সৃষ্টি করত। কিন্তু কালের আবর্তে বর্তমানে ওই চিরচেনা দৃশ্যগুলো আর তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে গ্রামবাংলায় বিচ্ছিন্নভাবে যে কয়েকটি কাশবন বা কাশফুল দেখা যায়, সেগুলোও ক্রমশ বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতামত অনুযায়ী, কাশবন চাষে অতিরিক্ত কোনো পরিচর্যা বা সার প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। এটি স্বাভাবিকভাবে জন্মায় অথবা বীজ ছিটিয়ে দিলেই কাশবনের সৃষ্টি হয়। এর ব্যবহারও বহুমুখী। কাশবনের গাছ কিছুটা বড় হলেই তা গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়াও, গ্রামের বধূরা কাশ দিয়ে ঝাঁটা, ডালি ও দোন তৈরি করে থাকেন।

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষ ঝোপঝাড়, বন-জঙ্গল ও পতিত জমি কেটে কৃষিজমি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছেন। এর ফলে প্রকৃতির রূপদানকারী কাশবনসহ গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হন, তবে কাশবনসহ এসব চিরচেনা ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব।

প্রকৃতিতে শরৎ মানেই নদীকূলে কাশফুলের শুভ্র উপস্থিতি, যা বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিন্তু সময়ের চাহিদায় যান্ত্রিক জীবনের প্রভাবে মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পূর্বে যেখানে কাশফুলের অরণ্য দেখা যেত, সেখানে আজ মৌসুমি ফসলের খেত গড়ে উঠেছে। এভাবেই আধুনিকায়নের প্রভাবে শরতের প্রকৃত সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে বসেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃতি উপভোগের সুযোগও দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাঁড়িধোয়া নদী: মাছহীন ও বিষাক্ত, স্থানীয়দের উদ্বেগ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


হাঁড়িধোয়া নদী: মাছহীন ও বিষাক্ত, স্থানীয়দের উদ্বেগ বৃদ্ধি

একসময় যে নদীর পানিতে মাছের প্রাচুর্য ছিল, এখন সেই নদীটি মাছহীন ও স্রোতহীন হয়ে পড়েছে। হাঁড়িধোয়া নদী বর্তমানে বিষের নদী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। রুই, কাতল, মৃগেল, বোয়াল, চিতল, পুঁটি, মলা, ঢেলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সমাহার ছিল এখানে। কিন্তু এখন হাঁড়িধোয়ার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এটি অনেকটা খালের মতো হয়ে গেছে। কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য এবং বাজারের ময়লা-আবর্জনায় হাঁড়িধোয়া নদীর পানি দীর্ঘদিন ধরে কালো বিষে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি, নদীর পানি আরও কালচে হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও পানির রং দেখে মনে হয়, যেন আলকাতরা মিশে আছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাঁড়িধোয়া নদীর বর্তমান অবস্থা এমনই। নরসিংদীর মাধবদী, শেখেরচর ও পাইকারচর এলাকার পাওয়ারলুম ও বস্ত্র কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানি নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, অনেক কারখানা বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইটিপি (বর্জ্যপানি শোধনাগার) ব্যবহার না করে দূষিত পানি নদীতে ছেড়ে দিচ্ছে। সেই দূষিত পানি হাঁড়িধোয়ায় এসে মিশে যাচ্ছে। পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন জনপদ থেকে গৃহস্থালি বর্জ্য ও বাজারের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নদীটি তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। মাছের সংখ্যা কমে গেছে এবং কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য পানি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ায় কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগে নদীর পানি ব্যবহার করে জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন দূষণের কারণে কৃষকেরা সেই পানি ব্যবহার করতে চান না। পানির অভাবে অনেক জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে।

বিশনন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় হাঁড়িধোয়া নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন দূষণের কারণে নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। কখনো কখনো মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মিল-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে পানির এই বেহাল দশা হয়েছে।

নদীরক্ষা কমিটির নেতা প্রকৌশলী মাহফুজ সালমান বলেন, নদীটির সেই পুরনো রূপ আর নেই। তিনি ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা এই নদীতে মাছ শিকার করেছি, গোসল করেছি। এখন দূষণের কারণে নদীটি তার সব ঐতিহ্য হারিয়েছে।

নদীর পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথাও জানান কুতুব উদ্দিন। তিনি বলেন, দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটাচলা করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

রামচন্দ্রদীর বাসিন্দা রোহেল সিকদার বলেন, ‘হাঁড়িধোয়া নদী একসময় মিঠাপানির মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। এই নদীর মাছ খুব সুস্বাদু ছিল। রুই, কাতল, মৃগেল, পুঁটি, চিতল, বোয়াল, মলা, ঢেলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। আমরা দল বেঁধে মাছ ধরতে আসতাম। নদীর পাড়ে বসে মানুষ আড্ডা দিত। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাঁড়িধোয়া নদী বিশনন্দী ইউনিয়নের মেঘনা ঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে খাগকান্দা ইউনিয়নের মেঘনা ঘাটে গিয়ে মিশেছে। নদীটির প্রকৃত নাম মেঘনার হাঁড়িধোয়া নদী। একসময় এই নদী ঘিরে আশপাশের জনপদে মানুষের জীবনযাত্রা, মাছ ধরা ও কৃষিকাজের নানা কর্মকাণ্ড চলত। বর্তমানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীটির অনেক অংশ খালের মতো দেখায়।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান বলেন, ‘হাঁড়িধোয়া নদীর বিষয়ে আমরা এর আগে নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। নদীটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রশাসনিকভাবে চেষ্টা চলছে।’

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষের সারি দীর্ঘ হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষের সারি দীর্ঘ হচ্ছে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদী, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা এবং নড়াইলে মধুমতী ও নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব মানুষের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। কৃষিজমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

নড়াইল থেকে খায়রুল আরেফিন রানা জানান, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা ও শিকারপুর গ্রামজুড়ে মধুমতী নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখানে অন্তত তিন কিলোমিটারব্যাপী ভাঙনে মানুষের নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা ঘটছে। নবগঙ্গার ভাঙনের কারণে কয়েকশ বছরের পুরোনো বড়দিয়া বাজারও হুমকির মুখে পড়েছে।

নদীভাঙনের শিকার কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, বর্ষা এলেই মধুমতী নদী খরস্রোতা হয়ে ওঠে এবং ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। গত এক দশকে ক্রমাগত ভাঙনে শত শত একর কৃষিজমি, অসংখ্য বসতবাড়ি এবং স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হতদরিদ্র এ জনপদের অধিকাংশ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিগত প্রায় দুই মাস ধরে অব্যাহত ভাঙনে মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধের চেষ্টা করে, কিন্তু ভাঙনের তীব্রতা বাড়লে তা কার্যকর হয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, "সময়ের পরিক্রমায় নদীর ভাঙাগড়ার খেলায় মধুমতীর মূল ধারা বালুচরে রূপান্তরিত হয়ে আমডাঙ্গা শিকারপুর গ্রাম স্থানান্তরিত হয়ে বসতি গড়ে উঠেছে।" তিনি আরও জানান, নদী তার আদি গতি পথে ফেরায় এবং গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির আধিক্যে ভাঙন তীব্র হয়েছে। নদীভাঙনের জন্য বালু উত্তোলনও অনেকাংশে দায়ী। আমডাঙ্গা এলাকায় ভাঙনরোধে ১ হাজার ৭০০ মিটার স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প প্রণয়নে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং বড়দিয়া বাজার রক্ষায় ১৫০ মিটার অস্থায়ী, ১৭০ মিটার স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প গ্রহণে প্রস্তাবনা প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) থেকে শামসুল হক জানান, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙনে উপজেলার মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। বিগত পাঁচ বছরে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। পাঁচটি গ্রামের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। কয়েকশ একর কৃষিজমি ভেঙে গেছে। গত কয়েক মাসে মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর ও মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিপঁড়াখালী গ্রামে শতাধিক বসতঘর ও দুটি জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে আরো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী।

মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার আমার দেশকে বলেন, ‘পায়রা নদীর গ্রাসে আমার বাড়িঘর তিনবার ভাইঙা গেছে।’

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন আমার দেশকে জানান, পায়রা নদী ভাঙন রোধে ২০২৭ সালে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বাস্তবায়নের বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে সিসি ব্লকের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) থেকে তামজিদ হোসেন তামিম জানান, একসময় যে জমিতে সবুজ পানপাতায় ভরে থাকত বরজ, সেই জমি এখন পদ্মার পেটে। কারো কয়েক বিঘা জমি, কারো সাজানো পানবরজ সবই কেড়ে নিয়েছে নদী। নিঃস্ব হয়ে অনেকেরই দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়, কেউবা জীবিকার তাগিদে ছেড়ে যাচ্ছেন ভিটামাটি। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে এভাবেই শত শত কৃষক সর্বস্ব হারাচ্ছেন। গত দুই মাসে নদীতে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান এ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পানচাষিরা। ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজারও হুমকির মুখে পড়েছে। জমির পাশাপাশি পানবরজ হারিয়ে কয়েকশ কৃষক এখন দিশাহারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, আমি ইতোমধ্যে এলাকায় সরেজমিনে দেখেছি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%