ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শহিদ কাপুরের সাবেক প্রেমিকা কারিনা ও স্ত্রী মীরা পডকাস্টে মুখোমুখি


শহিদ কাপুরের সাবেক প্রেমিকা কারিনা ও স্ত্রী মীরা পডকাস্টে মুখোমুখি

বলিউডের তারকা শহিদ কাপুরের প্রাক্তন প্রেমিকা এবং অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান সম্প্রতি মুখোমুখি হলেন শহিদের স্ত্রী মীরা কাপুরের। একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে তারা প্রথমবারের মতো তাদের সম্পর্কের গোপনীয়তা প্রকাশ করেন দর্শকদের সামনে।

এবারের কারিনার পডকাস্টটি নেটিজেনদের মধ্যে বিশেষভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিনার পডকাস্টের ওই পর্বে ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে পডকাস্টের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়াচ্ছে। অনুষ্ঠানের একটি অংশে দেখা যায়, কারিনা ও মীরা হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেছেন। এ সময় কারিনা মন্তব্য করেন, "আমার মনে হয়, এই পর্বের জন্য সবাই একটু বেশিই উত্তেজিত।"

আরও পড়ুন: ফ্রি ফায়ার গ্লোরি অ্যাওয়ার্ডে এক মঞ্চে গেমিং তারকারা

আলোচনার এক পর্যায়ে মীরা কারিনাকে ‘আদর্শ স্ত্রী’ হিসেবে প্রশংসা করেন। এর জবাবে কারিনা বলেন, "আমি তো বলিউডের আদর্শ স্ত্রী হওয়ারই স্বপ্ন দেখি!"

আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারিনা শহিদ ও মীরার ‘তৃতীয় সন্তান’ প্রসঙ্গে আলোচনা করছেন। মীরার জবাব ছিল, "না না, আমাদের আর সন্তান চাই না। আমাদের পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।"

২০০৪ সাল থেকে শহিদ কাপুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন কারিনা কাপুর। তবে ব্যক্তিগত নানা কারণে তাদের সম্পর্ক তিন বছরের মাথায় ভেঙে যায়। ২০০৭ সালে বিচ্ছেদের পর কারিনা ও শহিদের জীবন ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ২০১২ সালে কারিনা বিয়ে করেন অভিনেতা সাইফ আলী খানকে। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে শহিদ কাপুর বিয়ে করেন মীরা কাপুরকে।

আরও পড়ুন: ‘খলনায়ক’ সিনেমায় নিশো ও চঞ্চল, নতুন উদ্যোগ এসভিএফ আলফা-আইয়ের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদপত্র ‘নোভায়া গেজেতা’ বন্ধ হতে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদপত্র ‘নোভায়া গেজেতা’ বন্ধ হতে যাচ্ছে

রাশিয়ার একটি অন্যতম পরিচিত স্বাধীন সংবাদপত্র ‘নোভায়া গেজেতা’ বন্ধ হতে চলেছে। পত্রিকাটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং আগামী ৯ নভেম্বর তারা তাদের কার্যালয় ত্যাগ করবে এবং সার্ভার বন্ধ করে দেবে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রুশ কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থার চাপের কারণে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা সরকারের সমালোচনা, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পরিচিত।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কার্যালয়ের জিনিসপত্র গুছিয়ে সরানোর কাজ চলছিল। চারপাশে পিচবোর্ডের বাক্স এবং প্লাস্টিকের ব্যাগ ছড়িয়ে ছিল। মস্কোর এই কার্যালয়টি প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অনুসন্ধানী সাংবাদিক আনা পলিতকভস্কায়ার স্মৃতির জিনিসপত্রও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যিনি ২০০৬ সালে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গুলিতে নিহত হন।

পত্রিকাটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, “কাউকে হত্যা করার অনেক উপায় আছে। তারা আমাদের শ্বাসরোধ করে মারার পথ বেছে নিয়েছে।” পত্রিকাটির অভিযোগ, প্রথমে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়, এরপর ছাপা পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হয় এবং গণমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সাংবাদিকদের ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করার ঘটনাও ঘটেছে।

নোভায়া গেজেতা জানিয়েছে, পাঠকদের অনুদান গ্রহণের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে সংবাদমাধ্যমটির আয় করার পথ সংকুচিত হয়েছে। কার্যালয় ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় দল।

২০২১ সালে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় অবদানের জন্য মুরাতভ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তবে ২০২৩ সালে রুশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নোভায়া গেজেতাকেও একই পরিচয় দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, রাশিয়ায় সরকারের সমালোচক সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে।

নোভায়া গেজেতা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও আমলাদের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। পত্রিকাটির দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের ছয়জন সহকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আনা পলিতকভস্কায়া অন্যতম। চেচনিয়ার যুদ্ধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে ২০০৬ সালের অক্টোবরে হত্যা করা হয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু হওয়ার পর দেশটিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ ও সরকারের সমালোচনাকারীদের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়। ওই বছরের মার্চে নোভায়া গেজেতা রাশিয়ায় ছাপা সংস্করণের প্রকাশনা স্থগিত করে। পরে পত্রিকাটির অনেক সাংবাদিক দেশ ছেড়ে যান এবং লাটভিয়ায় ‘নোভায়া গেজেতা ইউরোপ’ নামে একটি আলাদা সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলেন, যা রাশিয়ার বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে পত্রিকাটির কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ওলেগ রলদুগিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে পত্রিকাটির বর্তমান প্রধান সম্পাদক সের্গেই সোকোলভের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পত্রিকাটির মতে, এসব পদক্ষেপ তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করেছে।

নোভায়া গেজেতা তাদের বিদায়ী বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। সংবাদমাধ্যমটি অভিযোগ করেছে, দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মুরাতভ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের মূল্যবোধ ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তাঁর মতে, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার ও মানবাধিকার রাষ্ট্রের অধিকারের চেয়ে বড়। নোভায়া গেজেতার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া রাশিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও সামনে এনেছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাকিমির হ্যাটট্রিকে পিএসজির ৫-১ গোলের দাপুটে জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


হাকিমির হ্যাটট্রিকে পিএসজির ৫-১ গোলের দাপুটে জয়

চোটের কারণে বেশ কিছু নিয়মিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে বেঞ্চে রেখে মাঠে নেমেছিলেন লুইস এনরিকে। তবুও জয় পেতে কোনো বেগ পোহাতে হয়নি পিএসজির। উড়ন্ত ফর্মে থাকা ফুল-ব্যাক আশরাফ হাকিমির হ্যাটট্রিকে লে আভরেকে উড়িয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা শীর্ষস্থান মজবুত করেছে।

শুক্রবার লিগ আঁ-তে তলানির দলের বিরুদ্ধে ৫-১ গোলের জয় পেয়েছে পিএসজি। মৌসুমের প্রথম নয়টি লিগ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ এখন ২০ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিলের চেয়ে তারা দুই পয়েন্ট এবং তৃতীয় স্থানে থাকা রেনের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। আরসি লঁসের বিপক্ষে ডার্বিতে বদলি হিসেবে নেমে ৮৬তম মিনিটে গোল করে লিলকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরু, যার ফলে তারা রেনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।

অন্যদিকে নিসের মাঠে ৫-২ গোলের বড় হার দেখেছে রেন। টানা পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ জয় পাওয়া নিসের হয়ে এলিয়ে ওয়াহি হ্যাটট্রিক করেন। গত মৌসুমে অবনমন এড়ানো দলটি এই জয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে।

স্তাদ ওশেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাকিমি তিন গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেন। তার তৈরি করা সুযোগ থেকে গোল করেন মিকা গোডৎস ও সেনি মায়ুলু। যদিও ম্যাচের শুরুতে জশ মাজা গোল করে লে আভরেকে এগিয়ে নেন।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল পিএসজির টানা নবম জয়। অন্যদিকে লে আভরে টানা পঞ্চম পরাজয়ের মুখ দেখল। মৌসুমে এখনও তারা জয়ের মুখ দেখেনি। মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে লিগের তলানিতে।

তবে শুরুর দিকে মাজা গোল করে স্বাগতিকদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এরপর হাকিমির পাস থেকে সমতা ফেরান গোডৎস। ২৮তম মিনিটে নিকট পোস্টে দারুণ এক শটে পিএসজিকে এগিয়ে দেন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার।

৫৫তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে নিচের কর্নারে বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হাকিমি। এরপর দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ৬২তম মিনিটে মায়ুলুর গোলেও সহায়তা করেন তিনি, যাতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।

৬৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হওয়া শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাকিমি।

ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেন, “আমি খুশি, কারণ কিছু খেলোয়াড় এর আগে খুব কম সময় মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিল। আমরা যদি শিরোপা জিততে চাই, তাহলে সবার অবদান প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “চোটের কারণে নতুনদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। আজ রাতটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কুয়েনতিন এনজানতু ও ডেভিড বলির জন্য, যে লিগ আঁ-তে অভিষেক করেছে।”

নিসের হয়ে ওয়াহির হ্যাটট্রিকে ছিল প্রথমার্ধের দুটি পেনাল্টি গোল এবং ৭৩তম মিনিটের একটি প্রথম স্পর্শে নেওয়া দুর্দান্ত ফিনিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে’।

তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিকামী দেশবাসীকে এই বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে বলেও তিনি তাদের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়াতের আমির একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশনের আগে সরকারকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায়, জনগণের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো মেনে নিন, সুস্থ ধারায় ফিরে আসুন। ৯ তারিখ সংসদ অধিবেশনের আগেই নিজেদের মূল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে ঘোষণা দিন যে আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করব। তাহলে পরবর্তী আর কোনো কর্মসূচি আপাতত বিরোধী দলের নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি তা না দেন, তাহলে জনগণের এই দাবি, ৭০ ভাগ মানুষের ভোট—এই দুটিকে ইনশা আল্লাহ আমরা অপমানিত হতে দেব না; আদায় করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’

জাতিকে বৃহত্তর ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা আশা করি কারো ছলনায় কান দেবে না। কারণ, তোমরা রাজপথে লড়াই করে জাতিকে সাময়িক এই মুক্তি এনে দিয়েছ। এই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আরেকবার লড়াই করতে হবে ইনশা আল্লাহ।’

ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি। জনগণের দাবি ও ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়েই আন্দোলন করছেন। এর আগে দুটি লংমার্চ মহান আল্লাহর রহমত এবং জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারও তৃতীয় লংমার্চ সফল করতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন তিনি।

জামায়াতের আমির সাত দফা দাবির মূল বিষয় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন উল্লেখ করে বলেন, এই গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয় দফার জন্ম হয়েছে। একটি দফা বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফার প্রয়োজন হতো না বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তার ভাষায়, ‘কোনো চাঁদাবাজ, কোনো দখলদার, কোনো দুর্নীতিবাজ, কোনো মাদক সম্রাট মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না।’

বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দলটি জাতিকে হতাশ করেছে এবং ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। তারা কথা দিয়ে কথা রাখেনি। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে এবং জাতির আকাঙ্ক্ষা ও গণরায়কে উপহাস করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে ফিরে আসুন, গণরায় বাস্তবায়ন করুন; তা না হলে আপনাদের উচ্চ মূল্য দিতে হবে। সেদিকেই সম্ভবত বিএনপি আগাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, মানুষের কপালে যখন দুর্ভোগ লেখা থাকে, তখন সেই দুর্ভোগের ঠিকানায় না পৌঁছানো পর্যন্ত শান্তি হয় না।

জামায়াতের আমিরের অভিযোগ, বিএনপি অতীতের স্বৈরাচারী শাসন ও নিজেদের ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন জঞ্জাল তৈরি করে জাতির জন্য সমস্যা বাড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফর শেষে দুই দিন আগে দেশে ফিরেছেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কী কারণে তিনি সফরে গিয়েছিলেন এবং কী করে ফিরেছেন, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, তা জনগণ জানতে চায়।

তিনি বলেন, ‘কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’

অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তারা এখন তার পরিণতি ভোগ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাওয়া যাবে না।

সাত দফা দাবিতে লংমার্চ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সকাল ৭টায় সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের জন্য এই লংমার্চ। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। তা না হলে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ অনেকে। তবে এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ঢাকার বাইরে পর্যায়ক্রমে ৬টি স্থানে পথসভা ও অনির্ধারিত সভা করার কথা রয়েছে লংমার্চের বহরের। রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

ঢাকা থেকে ছয় শতাধিক গাড়ি এবং পথে আরো প্রায় দেড় হাজার গাড়ি লংমার্চের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। দীর্ঘ সোয়া চারশ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ১৯ জেলার নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

লংমার্চের পথসভা ও সমাপনী সমাবেশ

লংমার্চের কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।

খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায় এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় পথসভা হবে। এরপর যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে বিকেল ৫টায় পথসভা হবে।

সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘চলি মানবতার সাথে’ শিরোনামে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মেলন সান্তাহারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


‘চলি মানবতার সাথে’ শিরোনামে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মেলন সান্তাহারে

‘চলি মানবতার সাথে’

সকাল থেকে সান্তাহারের শখের পল্লীজুড়ে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছিল। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে একে একে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে।

ভালোবাসা থাকলে সব হয়

আগের দিন বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। পরদিন বউভাতের অনুষ্ঠান। এবার বউকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পালা। কিন্তু রাফির মন তো আর স্থির হচ্ছে না।

শিলার জীবনের গৌরবময় অধ্যায়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সতীর্থদের সঙ্গে পুনর্মিলন, নতুন অভিজ্ঞতার গল্প এবং মানবতার জন্য কিছু করার স্বপ্ন সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতি।

মানবতার বন্ধনে স্মরণীয় এক মিলনমেলা

মানুষের জন্য কিছু করার আনন্দই বসুন্ধরা শুভসংঘের সঙ্গে আমার যাত্রার সবচেয়ে বড় উৎসাহ। সেই যাত্রায় রাজশাহী ও রংপুরের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

মুগ্ধতা ছড়ানো অনন্য মিলনমেলা

বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভাগীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ আদমদীঘি উপজেলা শাখার সদস্যরা আনন্দিত ও মুগ্ধ হয়েছেন।

সেরা সাংবাদিক

   

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%