মো : সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার
০৪:৪৪ পি.এম
নিজের লেখা গল্প, নিজের প্রযোজনা—আর সেই গল্পেই প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় অভিনয়! অভিষেকেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়ে যেন চমক দেখালেন অভিনেতা সৈকত খান। বলছি, মুক্তি পাওয়া নতুন বাংলা সিনেমা ‘পোড়া প্রেম’-এর কথা।
দীর্ঘদিন পর আবারও বড় পর্দায় পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এই সিনেমায়। মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা দেখার অনুভূতি ভাগ করে নিতে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে হাজির হন সিনেমার নায়ক ও কলাকুশলীরা।
সৈকত খানের নিজের লেখা গল্প ও প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সৈকত খান, ববিতা ইসলাম, কাজী হায়াৎ, দুলারী, রিনা খান, জ্যাকি আলমগীর, স্বর্ণ বিশ্বাস, সরল হাসমতসহ আরও অনেক গুণী শিল্পী।
সিনেমা মুক্তির দিনে যাত্রাবাড়ীর গীত সিনেমা হল, নিউ গুলশান সিনেমা হল ও আজাদ সিনেমা হলে দর্শকদের সঙ্গে সময় কাটান সৈকত খানসহ অন্যান্য কলাকুশলীরা। এ সময় দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা, জানার চেষ্টা করেন সিনেমাটি দেখে দর্শকদের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া।
সিনেমা দেখে নিজেদের ভালো লাগার কথা জানান দর্শকরা। বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুর শ্রেণির দর্শকদের অনেকেই ছবিটির প্রশংসা করেন। তাদের ভাষায়, ‘পোড়া প্রেম’-এ খুঁজে পেয়েছেন পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার পরিচিত আবহ, গল্প ও আবেগ।
তবে সিনেমাটিকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেতা সৈকত খান। নিজের লেখা গল্পে, নিজের প্রযোজনায় প্রথমবার বড় পর্দায় অভিনয় করেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। নতুন অভিনেতা হিসেবে তার এই আত্মপ্রকাশ এবং গল্প বলার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন দর্শকরা।
দর্শকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও সৈকত খানের কাছ থেকে এমন গল্পনির্ভর, তথ্যসমৃদ্ধ ও দর্শকদের ভাবনার খোরাক জোগায়—এমন সিনেমা উপহার পাবেন তারা।
অন্যদিকে, দর্শকদের ভালোবাসা ও সরাসরি প্রশংসা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সৈকত খানসহ সিনেমার অন্যান্য কলাকুশলীরা। বাংলা সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে সবাইকে প্রেক্ষাগৃহে আসার আহ্বান জানান তারা।
সব মিলিয়ে, নিজের গল্প ও প্রযোজনায় প্রথমবার বড় পর্দায় সৈকত খানের আত্মপ্রকাশ, সঙ্গে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া—‘পোড়া প্রেম’ ঘিরে তৈরি করেছে নতুন প্রত্যাশা।
বাংলা সিনেমার সুদিন ফেরাতে প্রয়োজন এমন নতুন গল্প, নতুন উদ্যোগ আর দর্শকদের ভালোবাসা। আর সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাক আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র—এমনটাই প্রত্যাশা সিনেমাপ্রেমীদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতি মো. ইসমাইল (২৮) নামের এক আসামির মৃত্যু ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ঘটেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইসমাইল রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার চর কানাপাড়া গ্রামের নাস্তার আলীর পুত্র। তার হাজতি নম্বর ছিল ১৫৭/২৬। তবে তিনি কোন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে ইসমাইলকে নিয়ে আসা কারারক্ষী রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থানকালে ইসমাইল হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃতদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আরও এক সেনা সদস্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পাকিস্তানের কাছে ফাঁস করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে রাজবীর সিং নামে ওই সেনা সদস্যকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ডেকান ক্রনিকলে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজবীর সিং ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন ও অন্যান্য সামরিক স্পর্শকাতর তথ্য পাকিস্তানের আইএসআইয়ের কাছে পাচার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের ফাজিলকা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে তিনি পালিয়ে ছিলেন। তবে, বেশিদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেননি; পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় ভুটান সীমান্তের কাছে তাকে পুলিশ আটক করে।
গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে শিলিগুড়ির একটি আদালতে হাজির করা হয় এবং ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করা হয়। সরকারি কাউন্সেল সৌমিত্রা সিং সরকার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পালিয়ে ছিলেন।
শিলিগুড়ির আদালত তার দুই দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এই সময়ের মধ্যে তাকে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে অভিযুক্তকে ফাজিলকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করতে হবে।
এদিকে, পাকিস্তানের এই গুপ্তচরকে যেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি ভারত ও ভূটানের সীমান্তের কাছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে, তিনি ভারত ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন ও গ্যাংস্টারধর্মী সিনেমার নির্মাতা এবং প্রযোজক সঞ্জয় গুপ্ত আর বেঁচে নেই। মুম্বাইয়ে তার নিজ বাসভবনে এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৭ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে সঞ্জয় গুপ্ত বাড়ির বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তবে পরিবারের সদস্যরা রাতের ঘটনার গুরুত্ব তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি। পরের দিন সকালে তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে ভারসোভা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপমৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মিলাপ জাভেরি সঞ্জয় গুপ্তের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তার আকস্মিক প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বলিউডের আরেক নির্মাতা অশোক পণ্ডিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তায় তিনি সঞ্জয়কে একজন প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব ও নিবেদিত চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করেছেন।
সঞ্জয় গুপ্ত ১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক করেন। তবে ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাঁটে’ সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এই সিনেমায় অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি ও লাকি আলীর মতো তারকারা ছিলেন, যা বলিউডে তার অবস্থানকে দৃঢ় করে।
এরপর তিনি ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’, ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’, ‘জাজবা’, ‘কাবিল’ ও ‘মুম্বাই সাগা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেন। বিশেষ করে অপরাধজগত, গ্যাংস্টার ও অ্যাকশননির্ভর গল্প বলার স্বতন্ত্র ধরন তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
তবে তার ক্যারিয়ার সবসময় মসৃণ ছিল না। অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় কাজের সুযোগ পাননি। একসময় হতাশ হয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবেন। এমনকি জীবিকার প্রয়োজনে খান্ডালার একটি হোটেলে চাকরি শুরু করেছিলেন। পরে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ দিয়ে আবার পরিচালনায় ফিরে আসেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বলিউডে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ