ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৪৮ বছর ধরে পানি পান না করে কিভাবে বেঁচে আছেন ওয়ারেন বাফেট?


৪৮ বছর ধরে পানি পান না করে কিভাবে বেঁচে আছেন ওয়ারেন বাফেট?

মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট গত ৪৮ বছর ধরে সাধারণ পানি পান করছেন না। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন আরেক ধনকুবের, বিল অ্যাকম্যান।

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কিভাবে বেঁচে আছেন ওয়ারেন বাফেট? এই রহস্যও প্রকাশ করেছেন হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক বিল অ্যাকম্যান। তিনি জানিয়েছেন, বাফেট পানির পরিবর্তে তার পছন্দের পানীয় চেরি কোক পান করেন।

অ্যাকম্যান সাক্ষাৎকারে বাফেটের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, একবার নৈশভোজের সময় বাফেটকে সাধারণ পানি অথবা স্পার্কলিং ওয়াটার পান করার প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু বাফেট সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে জানান, তিনি প্রায় পাঁচ দশক ধরে পানি পান করছেন না। বরং তার প্রিয় কোমল পানীয় চেরি কোক।

আরও পড়ুন: ৬ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

বাফেট খাদ্যাভ্যাস ও পানীয়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী পছন্দের জন্য পরিচিত। জানা গেছে, প্রতিদিন তিনি প্রায় পাঁচ ক্যান কোকাকোলা পান করেন। ২০১৫ সালে ফরচুন ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বাফেট বলেছিলেন, প্রতিদিন তার গ্রহণ করা ২ হাজার ৭০০ ক্যালরির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে কোকাকোলাজাতীয় পানীয় থেকে।

বাফেটের কোমল পানীয় পানের এই অভ্যাস স্বাস্থ্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—যদি কেউ পানি পান না করে দীর্ঘদিন কোমল পানীয় পান করে, তাহলে তার শরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে?

মানবদেহের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমের জন্য পানি অপরিহার্য। চা, কফি ও দুধের মতো পানীয় থেকেও শরীরে তরল পদার্থের চাহিদা পূরণ হয়। তবে সাধারণ পানির পরিবর্তে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পানি পান করা কেন জরুরি?

আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে পর্যটকে প্রাণ ফিরেছে, দ্বীপবাসী স্বস্তিতে

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে পানি। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি শরীরের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছে দিতে, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, অস্থিসন্ধি সচল রাখতে এবং প্রস্রাব ও মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে।

এছাড়া হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তবে প্রতিদিন সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করার কোনো একক নিয়ম নেই। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর শরীরের পানির চাহিদা নির্ভর করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারা দিন শরীরে পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করা। শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সাধারণ পানি এখনো অন্যতম স্বাস্থ্যকর উপায়।

আরও পড়ুন: শাকসবজিতে লুকিয়ে থাকে বিপদ, সতর্কতা প্রয়োজন

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো ফলনের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো ফলনের প্রত্যাশা

শরীয়তপুর, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ শুরু হয়ে গেছে। কৃষকরা বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রেখে বিনা চাষে পেঁয়াজ-রসুন রোপণের কাজে নেমে পড়েছেন তারা। উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি সময়মতো ফসল রোপণের লক্ষ্য নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করে চলেছেন। যদিও বীজ ও সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকরা।

শরীয়তপুরের মাটি ও কৃষি পরিবেশ পেঁয়াজ-রসুন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে উর্বর দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি, যেখানে পানি সহজে নিষ্কাশিত হয় এবং মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় থাকে। এই কারণে এসব ফসলের ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

পেঁয়াজ ও রসুনের কন্দ মাটির নিচে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য জমির মাটি ঝরঝরে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের উপযোগী হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে কন্দ পঁচে যাওয়া ও ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই কারণে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জমিতে উপযুক্ত আর্দ্রতা বজায় রেখে কৃষকরা আবাদ শুরু করছেন।

বিনা চাষে আবাদ পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো জমি প্রচলিত পদ্ধতিতে বারবার চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করার প্রয়োজন হয় না। এতে জমি তৈরির খরচ, সময় ও শ্রম কম লাগে। বিশেষ করে বন্যা বা বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর মাটিতে কাদা ও আর্দ্রতা থাকতেই রসুনসহ উপযোগী ফসল রোপণ করা সম্ভব।

অনেক কৃষক জমিতে খড় বা শুকনো উদ্ভিদাংশ ব্যবহার করে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। ফলে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি ফসলের পরিচর্যাও কিছুটা সহজ হচ্ছে।

এ বছর শরীয়তপুরে জমি থেকে পানি নামতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। এর ফলে কৃষকদের আবাদ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে পানি নেমে জমি রোপণের উপযোগী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরোদমে শুরু হয়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ। কেউ জমিতে বীজ ও রসুনের কোয়া রোপণ করছেন, কেউ আবার জমির পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক কৃষক নিজেরাই জমিতে কাজ করছেন। এতে শ্রমিকের খরচ কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৭শ’ একর জমিতে পেঁয়াজ এবং ৫ হাজার ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর ও হালি পিঁয়াজ ৩৫০ হেক্টর। ৫ হাজার ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং ফসলের পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহিদুল আলম বাসস’কে বলেন, ‘পেঁয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষক যাতে লাভবান হয়, আমরা তাদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। ফসল ছত্রাকমুক্ত রাখা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি কোনো ডিলার যাতে সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায় থেকে সরকারিভাবে কৃষকদের সার ও বীজ দেয়া হয়েছে।

তবে উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই বীজ ও সারের বাড়তি দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। তাদের মতে, ফসল উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে খরচ বাড়ছে। জমিতে শ্রম, বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণের ব্যয় মেটানোর পর বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে কাঙ্খিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের উত্তর ডুবুলদিয়া গ্রামের কৃষক আজমত উল্লাহ বাসস’কে বলেন, ‘মাঠের পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ শুরু করেছি। আশা করছি, বীজ ও সারের দাম বেশি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বছর ভালো ফলন পাব। নিজেরাই জমিতে কাজ করছি-যাতে শ্রমিকের খরচ কিছুটা কমানো যায়। তবে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।’

কৃষকদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ফসলের গুণগত মান বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পেঁয়াজ ও রসুনের জমিতে ছত্রাকজনিত রোগ, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতাজনিত সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সুষম সার ব্যবহার, সঠিক সময়ে সেচ এবং জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পেঁয়াজ ও রসুন দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় মসলা ফসল। বাজারে এই দু’টি পণ্যের চাহিদা সারা বছরই থাকে। ফলে পরিকল্পিত আবাদ, উন্নত বীজের ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করা গেলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, কৃষি উপকরণের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে শরীয়তপুরের কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ-রসুন আবাদ নিয়ে এখন ব্যস্ততা ও প্রত্যাশা দু’টোই রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে এই মৌসুমে ভালো ফলনের পাশাপাশি কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় কৃষকদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই নির্মাণ, ভাঙতে হবে ২৫ কোটির নতুন সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই নির্মাণ, ভাঙতে হবে ২৫ কোটির নতুন সড়ক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের ভেতরে অবস্থিত। খুঁটি সরাতে হলে সদ্য নির্মিত সড়কের অংশ কাটতে হবে এবং পরে মেরামত করতে হবে। অথচ সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) নির্মাণের পূর্বেই খুঁটি সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা নতুন, কংক্রিটও নতুন; কিন্তু বাধাগুলো পুরনো। সদ্য নির্মিত সড়কের মাঝখানে একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। কিছু খুঁটি মাঝ বরাবর, কিছু চলাচলের অংশে এবং কিছু রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে। সড়কটি এখনও উদ্বোধন হয়নি, তাই বড় যানবাহনের নিয়মিত চলাচল শুরু হয়নি। তবে স্থানীয় ছোট যানবাহন, বিশেষ করে অটোরিকশা, চলাচল করছে এবং নতুন সড়কে তাদের পথ আগলে রেখেছে এসব খুঁটি।

সড়কের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এসব খুঁটির কারণে দিনের আলোতেই ছোট পরিবহনকে পাশ কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের উদ্বেগ, সড়ক পুরোপুরি চালু হলে বড় যানবাহন নামলে ঝুঁকি বাড়বে। রাতের অন্ধকার কিংবা ঘন কুয়াশায় এসব খুঁটি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

জানা যায়, রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশালসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগের জন্য কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেয়া প্রকল্পে ২৪ ফুট প্রশস্ত করে সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেড। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৯৫ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্পের এই অদ্ভূত সমীকরণ হলো, সড়ক নির্মাণ হয়েছে, কংক্রিটের ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে, কাজও প্রায় শেষ। কিন্তু এখন আবার নতুন সড়কের অংশ কাটতে হবে। কারণ, সড়কের ভেতরে থাকা ৪৬টি খুঁটি সরাতে হবে নতুন জায়গায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সদ্য নির্মিত অংশ কাটতে হবে এবং খুঁটি সরানোর পর আবার মেরামত করতে হবে। অর্থাৎ আগে রাস্তা নির্মাণ, পরে খুঁটি সরানো, তারপর আবার রাস্তা মেরামত।

এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। সড়ক নির্মাণের শুরুতেই খুঁটি সরানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করেছিল সওজ। পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ জমা দিতে বলে। কিন্তু সওজ সেই অর্থ সময় মতো পরিশোধ করেনি, ফলে সড়ক থেকে খুঁটি সরানো হয়নি। তবে সড়কের কাজ থেমে থাকেনি। নির্মাণ এগিয়েছে, ঢালাই হয়েছে, কাজ ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে, কিন্তু খুঁটি সেখানেই রয়ে গেছে।

পল্লী বিদ্যুৎ জানায়, ২০২৫ সালে সওজকে খুঁটি সরানোর ব্যয়ের হিসাব দেয়া হয়েছিল। টাকা জমা না পড়ায় তখন খুঁটি সরানো হয়নি। তবে সরকারি সড়কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, "২০২৫ সালে আমরা সওজকে খুঁটি সরানোর একটি হিসাব দিয়েছিলাম। তারা সেই অনুযায়ী টাকা জমা না দিয়েই সড়কের কাজ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর আমরা খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।" তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে চেষ্টা থাকবে যেন উভয় পক্ষের সমন্বয় ঠিক থাকে।

তবে হিসাব দেয়ার পরও কেন নির্মাণের আগেই খুঁটি সরানো গেল না, এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, বরাদ্দের অভাবে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। খুঁটি সরানোর টাকা তখন দেয়া যায়নি। এখন প্রধান কার্যালয়ে চাওয়া বরাদ্দের টাকা চলে এসেছে। দ্রুত সেই অর্থ পল্লী বিদ্যুৎকে দেয়া হবে। সদ্য নির্মিত সড়ক কাটার পর আবার মেরামতের খরচ কে দেবে? এমন প্রশ্নে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, "সেই ব্যয় হবে সামান্য। ব্যবস্থা করবে তার দফতর।"

পল্লী বিদ্যুৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরানোর আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এর আগেই কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়ক সামনে এনেছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের পুরনো এক প্রশ্ন, যে খুঁটি সরানোর প্রয়োজন নির্মাণের আগেই জানা ছিল, সেই খুঁটি রেখেই কেন প্রায় পুরো সড়ক শেষ করা হলো? আর যে সড়ক এখনও উদ্বোধন হয়নি, কেন সেই সড়কেই করতে হবে পুনঃকাজ? দুই সরকারি সংস্থার সমন্বয়ের ঘাটতিতে তৈরি এই বাড়তি কাজের ব্যয় যতই ‘সামান্য’ হোক, শেষ পর্যন্ত সেই অর্থও তো জনগণের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে: সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে: সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক

সিলেট নগরীর তেলীরাইয়ে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। তিনি বলেন, "দেশের অগ্রগতি এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বিভেদ ভুলে সবাইকে একযোগে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জনকল্যাণ যুব সংঘের উপদেষ্টা প্রদীপ মল্লিকের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ মোগলাবাজার থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নিখিল মালাকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, সিলেটের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, মোগলাবাজার থানা শাখার সভাপতি মনমোহন দেবনাথ এবং দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার সভাপতি দিপংকর দাস।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসকের একান্ত সচিব আমিন উদ্দিন আহমেদ এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমদ ইমরানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপমানের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ৮ লাখ ডলার উপহার পেলেন চার সন্তানের বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


অপমানের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ৮ লাখ ডলার উপহার পেলেন চার সন্তানের বাবা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানের শিকার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের একজন কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। চার সন্তানের বাবা ওয়াল্ট জেরডের জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ করে ২২ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তি প্রায় ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলার (প্রায় ৮ লাখ ডলার) অনুদান দিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি মুদি দোকানে পিৎজা সরবরাহ ও পণ্য সাজানোর কাজ করার সময় দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে ঠাট্টা করে একটি ভিডিও ধারণ করেন। সময় জানতে চাওয়ার পর তারা তার ফোনে টাকা লেনদেনের শব্দ বাজিয়ে ১০ ডলার চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলেন।

একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ওয়াল্ট নিজের কষ্টের কথা জানান। তিনি বলেন, "নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয় আমাকে। বাড়িতে চার সন্তান অপেক্ষা করছে। পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয় আমার।"

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ও সহানুভূতির সৃষ্টি হয়। এরপর অ্যারিজোনার লুক ওকেনশিল্ড গত ২৭ অক্টোবর তার সহায়তায় অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত ২২ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের অনুদানে জমা হয় ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৩ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ওয়াল্টের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। মানুষের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এই সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে বাড়তি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। তবে পরিবারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি তহবিল সংগ্রহ বন্ধের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে অন্যদের সাহায্য করতে আগ্রহীদের স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%