বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৯ পি.এম
রাজধানীতে অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের নিজস্ব তথ্য-উপাত্তের মধ্যে মিলের অভাব রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই মাসের পর্যবেক্ষণে তিনি রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আগের তুলনায় উন্নত অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পুলিশের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ নয়। পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে অপরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করেছে তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কেউ যদি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে মানসিক চাপের শিকার হন, তা গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্যক্তিগত সমস্যা অনেক সময় মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মানসিক চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া, রাজধানীর বিভিন্ন থানার অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও চলমান কাজ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, থানাগুলোর অফিসার্স মেস ও ফোর্স ব্যারাক আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পুলিশ সদস্যদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পরিদর্শনের সময় তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম, সেবার মান এবং সদস্যদের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং জনসেবামুখী পুলিশিং আরও কার্যকর করার জন্য গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে বিতর্কিত পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কারের ব্যাপারে বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের নীরবতা নিয়ে নেটদুনিয়ায় চলছে তোলপাড়। নীতিগত কারণের জন্য ক্যাটরিনার নীরবতার প্রতিবাদ জানানোর জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিনেত্রীর একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ, যার অনুসারী সংখ্যা ছিল ৭০ হাজারেরও বেশি।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) পরিচালনা করা এই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্যান পেজটির অ্যাডমিন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।
ফ্যান পেজের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ছোটবেলা থেকেই আপনার অনুরাগী ছিলাম। কিন্তু যারা আপনাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন, সেই ভারতীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে আপনি কোনো কথা বললেন না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আপনার নেই। বিপদের সময়ে আমরা যখন আপনার পাশে ছিলাম, আপনি তখন আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাই বাধ্য হয়ে এই পেজ বন্ধ করছি এবং আপনাকে আনফলো করছি।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। অনেকেই ফ্যান পেজটির অ্যাডমিনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অপরদিকে, ক্যাটরিনার অনুরাগী কিছু পক্ষ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে নীরব থাকা বা নিজের মতামত প্রকাশ না করার স্বাধীনতাও একজন শিল্পীর রয়েছে। তাই কাউকে এভাবে বাধ্য করা অনুচিত।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছেন অনেক তারকা, যেমন শাবানা আজমি, প্রীতি জিনতা, রিতেশ দেশমুখ, সোনু সুদ ও প্রকাশ রাজ। সেই অবস্থানে ক্যাটরিনার নীরবতা কিছু ভক্তদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি কমিটি লিটন দাস ও শেখ মেহেদী হাসানকে আর্থিক জরিমানার সুপারিশ করেছে। তারা পৃথকভাবে দুই ক্রিকেটারের বক্তব্য শোনার পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
লিটন দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে যে, তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছিলেন এবং এই অবস্থায় বিসিবিকে না জানিয়ে বিদেশ সফর করেছেন। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে চোট পাওয়ার কারণে তিনি টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে পারেননি।
পরে তিনি জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে আসেন। এরপর বোর্ডকে অবহিত না করেই বিদেশ যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, মেহেদী হাসান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একাদশে জায়গা না পাওয়ার কারণে সংবাদমাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই ঘটনার জন্যও ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিবেচনা করেছে।
দুই ক্রিকেটারই নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন। ডিসিপ্লিনারি বিভাগ আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাদের আর্থিক জরিমানা করার জন্য বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছে। লিটনের তুলনায় মেহেদীর জন্য বেশি অর্থদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বোর্ডের অনুমোদনের পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে বিজিবি এবং র্যাব যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সোয়া তিন কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্যের একটি চালান জব্দ করেছে। এই অভিযানটি গতকাল বুধবার রাতে নগরীর সুরমা আবাসিক এলাকার একটি গুদামে পরিচালিত হয়, যেখানে পণ্যের চালান জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর টিলাগড় এলাকা থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানকে নজরদারি করতে থাকে র্যাব ও বিজিবির যৌথ দল। পরে কাভার্ড ভ্যানটি কোতোয়ালী থানাধীন সুরমা আবাসিক এলাকার গুদামে ভারতীয় পণ্যগুলো আনলোড করার সময় র্যাব এবং বিজিবির টহল দল চালককে আটক করে। এরপর তার দেখানো মতে, গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধ, শাড়ী ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০ টাকা বলে জানিয়েছেন ওই র্যাব কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার একজন আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এর আগে, সকালে মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
এটি ঘটে ৩০ মে ১৯৮১ তারিখে, রাত আড়াইটা নাগাদ যখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনাকর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।
এদিকে, জিয়া হত্যা মামলার আসামি হিসেবেই নয় বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও মোজাফফর হোসেন বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার গ্রেফতার দেখানোর জন্য প্রসিকিউশন আবেদন করেছে। পরে, তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয় বৃহস্পতিবারে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে মোজাফফর হোসেনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১/১১ এর বেশ কয়েকটি অপরাধে মোজাফফরের সম্পৃক্ততা ছিল। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মোজাফফরকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর এ সময় জানান যে, মোজাফফর টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তবে, তিনি জনডো নামেও পরিচিত ছিলেন এবং এই একই পরিচয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ