১২:৪০ এম
শরতের নীল আকাশ, সাদা কাশফুল এবং সোনালি রোদের আবহে দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা প্রকৃতির মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে পূজার প্রস্তুতিতে শিল্পী ও আয়োজকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। কোথাও দেবী দুর্গার প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা, কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। ঢাকার ধামরাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে এই ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সব প্রস্তুতি শেষে দুর্গোৎসব আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হবে।
এবার ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসার কারণে প্রতিমা নির্মাণের শেষ ধাপের কাজ সারতে কারিগরেরা ব্যস্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে উৎসব নির্বিঘ্ন করতে মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ
ধামরাইয়ে প্রতিমা নির্মাণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাটির অবয়ব তৈরির পর দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমায় রং ও কারুকাজ করছেন শিল্পীরা। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তাঁদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের দোকানগুলোতেও চলছে প্রস্তুতি।
ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর বাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শ্রমিক স্বপন পাল। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, "চার দিন আগে আমাদের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে রং করার কাজ শুরু করেছি।"
তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেলেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক বাড়েনি বলে জানিয়েছেন কারিগরেরা। ধামরাই পৌরসভা এলাকার একটি মণ্ডপে কাজ করা শ্রমিক শ্যামল পাল বলেন, "রঙের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাজের মূল্য সেই হারে পাওয়া যায় না।"
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
ধামরাইয়ের একটি মণ্ডপের পূজা আয়োজক জানান, "শিল্পীদের কাজ এখনো চলছে। আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরপর কাজ শেষ হয়ে যাবে।"
মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে ধামরাইয়ে মন্দিরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা মন্দির কমিটির সদস্যসচিব রণজিৎ পাল বলেন, "প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে।"
আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী
পূজার সময় শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আশপাশের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, "বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় সব পূজামণ্ডপে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত রাখতে হবে, যাতে আশপাশের কারও অসুবিধা না হয়। সাধারণত নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। এবারও সেটি চালু থাকবে। এ বিষয়ে সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে।"
২৩৪ মণ্ডপে পূজার আয়োজন
এবার ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে ২৩৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ধামরাই পৌরসভা এলাকায় রয়েছে ৪৬টি মণ্ডপ। প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করার পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আয়োজকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গোৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তাই উৎসবের আনন্দের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ যথাসময়ে শেষ হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মন্দির কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্যোগে ধামরাইয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন