ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাদাকাত-ফারহানের ঝড়ে শ্রীলঙ্কাকে ৮২ রানে হারিয়ে সিরিজ জয় পাকিস্তানের


সাদাকাত-ফারহানের ঝড়ে শ্রীলঙ্কাকে ৮২ রানে হারিয়ে সিরিজ জয় পাকিস্তানের

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান। তাদের ব্যাটিংয়ে রানের বন্যা বইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৮২ রানে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক দলটি।

আজ রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথমে ব্যাটিং করে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ২১৫ রান সংগ্রহ করে। সাদাকাত ৫১ বলে ৯৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার এবং সাতটি ছক্কা, যা সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে গিয়ে শেষ হয়।

অধিনায়ক ফারহানও ছিলেন অসাধারণ। ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি ৭৩ রান করেন। দুই ব্যাটারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান বড় সংগ্রহ পেতে সক্ষম হয়। শ্রীলঙ্কা ফিল্ডিংয়ে একাধিক ক্যাচ ফেলে চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

শ্রীলঙ্কা জবাবে শুরু থেকেই চাপের মধ্যে পড়ে। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫ রান তুলতে সক্ষম হলেও, তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মোহাম্মদ ইমরান ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। সালমান মির্জা ২ উইকেট নেন।

শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ইনিংস ৭ উইকেটে ১৩৩ রানে থেমে যায়। মহীশ থিকশানা ৩২ রান করেন, এবং চামিন্দু বিক্রমাসিংহের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। তবে তাদের এই লড়াই হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

১৩ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে জার্মান পর্যটকের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার, দুইজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ এম


নাটোরে জার্মান পর্যটকের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার, দুইজন আটক

পুলিশ নাটোর রেলস্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া পট্টি এলাকার একটি কাপড়ের দোকান থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় অন্তর কুমার সাহা নামের এক যুবক ও তার বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর ল্যাপটপটি হারানোর পর থেকে পুলিশের কয়েকটি দল সেটি উদ্ধারের জন্য কাজ করছিল। একপর্যায়ে অন্তর কুমার সাহার কাছে ল্যাপটপটির সন্ধান পাওয়া যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অন্তরের বাবা অমল কুমার সাহা তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোর থেকে নওগাঁ যাওয়ার পথে মাধনগর স্টেশন এলাকায় একটি আসনের নিচে ল্যাপটপটি পান। পরে তিনি সেটি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান এবং ছেলেকে বিষয়টি জানান। রবিবার তারা নাটোরে এলে পুলিশের একটি দল তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, অন্তর ও তার বাবা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি। ক্রিলের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনিও খুশি হয়েছেন। তার অন্য যেসব মালামাল হারিয়েছে, সেগুলোও উদ্ধারে আমরা কাজ করছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী শুভ চন্দ্র বর্মন ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ এম


চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী শুভ চন্দ্র বর্মন ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরখাস্ত

চাঁদপুরে ভূমি অফিসের এক কর্মচারীকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সম্প্রতি হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি চাঁদপুর জেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীর নাম শুভ চন্দ্র বর্মন, যিনি ওই ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন’ শিরোনামে সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস সহায়ক শুভ চন্দ্র বর্মন সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন। জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়কের পক্ষে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুর্নীতির শামিল।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ ১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার উদ্দেশ্যে অভিযোগ বিবরণী প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর জন্য হাজীগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি: ভারতের ‘জাদুকরী সংখ্যা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ এম


১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি: ভারতের ‘জাদুকরী সংখ্যা’

ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মাথাপিছু বার্ষিক জিডিপি ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হতে পারে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমির সম্পাদকীয় পরিচালক এরিক শাটজকার এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন।

তিনি তুলে ধরেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে ভারত আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও নাগরিক সেবার ঘাটতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

শাটজকার সম্প্রতি ১৮ মাসের মধ্যে সপ্তমবারের মতো ভারত সফর করেন। পূর্ববর্তী সফরগুলোতে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। একাধিক সফরের মাধ্যমে ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, এত জটিল একটি দেশকে কয়েকটি ব্যবসায়িক সফরের মাধ্যমে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে, ভারতের রেল, সম্প্রচার, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দেশটির উন্নয়ন বোঝার একটি সূত্র পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারের অস্থিরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শেষে, শাটজকার মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় নিউ ইকোনমি ফোরামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কোন বিষয়টি তুলে ধরতে চান। শাটজকারের ধারণা ছিল, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু বৈষ্ণবের উত্তর ছিল ভিন্ন। তিনি ভারতের অর্থনীতির গতিপথ ও সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

আলোচনার শেষে বিদায়ের সময় শাটজকারের হাত ধরে বৈষ্ণব বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা যেন ১০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারি।’ ১০ হাজার ডলার এখানে মাথাপিছু বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বোঝায়। এটি প্রত্যেক ভারতীয়ের ব্যক্তিগত আয় নয়, বরং দেশের মোট বার্ষিক উৎপাদনের আর্থিক মূল্যকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। শাটজকার জানান, বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৩ হাজার ডলার। এই অবস্থান থেকে ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। ওই বছর ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। শাটজকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০৪৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি ১৮ হাজার ডলারের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য পরবর্তী দুই দশক ধরে বছরে প্রায় ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হলেও, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ অতীতে এ ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে।

উন্নয়ন ও বৈষম্যের পাশাপাশি অবস্থান

ভারতের অর্থনীতির এই লক্ষ্য বোঝার জন্য দেশটির দৃশ্যমান বৈপরীত্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শাটজকার। মুম্বাইয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, একই শহরে বিপুল সম্পদ ও চরম দারিদ্র্য পাশাপাশি অবস্থান করছে। শহরটিতে এক ধনকুবের পরিবারের ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ২৭ তলা ও প্রায় চার লাখ বর্গফুটের একটি ভবন রয়েছে। অথচ কাছাকাছি এলাকার শিশুরা রাস্তার মাঝের মাটির জায়গায় খেলাধুলা করে। তাঁর লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে।

শুধু সম্পদের বৈষম্য নয়, ভারতের অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার মধ্যেও রয়েছে বড় ব্যবধান। দিল্লিতে রয়েছে আধুনিক মেট্রোরেল ব্যবস্থা, কিন্তু শহরটির বায়ুদূষণও গুরুতর। দেশটি ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মতো দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অথচ অনেক শহরে এখনো বর্জ্য সংগ্রহ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে আছে।

একইভাবে, ভারত দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্বমানের দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে। কিন্তু দেশের অনেক স্থানীয় সড়কে এখনো বড় বড় গর্ত রয়েছে। শাটজকারের মতে, এসব বৈপরীত্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারের সীমিত সম্পদ, সময় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। একটি সরকার একই সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। ফলে কিছু খাতে দ্রুত উন্নয়ন ঘটলেও অন্য খাতগুলো পিছিয়ে থাকতে পারে। ভারতের উন্নয়ননীতিকে বোঝার ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বড় শিল্পগোষ্ঠীর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন শাটজকার। তাঁর মতে, বন্দর, তেল শোধনাগার, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণে দেশটির বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এসব অবকাঠামো বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয়।

শাটজকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে কেন মোদি সরকার অল্প কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে এবং কখনো কখনো সেই প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ ও ভূমিকা জড়িয়ে রয়েছে।

তবে এখানে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী যদি অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তাহলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সম্পদের বৈষম্য কতটা কমে এবং নাগরিক সেবার মান কতটা উন্নত হয়, সেগুলোও উন্নয়নের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, দেশের মোট উৎপাদন বাড়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া সম্পর্কিত হলেও দুটি বিষয় এক নয়। মাথাপিছু জিডিপি অর্থনীতির গড় উৎপাদনের একটি সূচক; এটি আয়বণ্টন বা সামাজিক বৈষম্যের পূর্ণ চিত্র দেয় না।

চীন থেকে বিনিয়োগ আনা ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা

শাটজকার বলেছেন, ২০১৪ সালে মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের মোট জিডিপি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখন দেশটির সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে, চীন থেকে আরো উৎপাদন কার্যক্রম ভারতে আনতে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে চায়।

সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতিও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়; বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা।

তবে ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় রাখাই যথেষ্ট হবে না। অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নাগরিক সেবা এবং সম্পদের বণ্টনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এসব খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন।

১০ হাজার ডলারই কি উন্নয়নের চূড়ান্ত মাপকাঠি?

শাটজকারের কাছে অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এটি ভারতের উন্নয়ননীতির অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। দেশটির সরকার জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সামনে রেখে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান না-ও হতে পারে।

শাটজকার লিখেছেন, মন্ত্রীর কণ্ঠের দৃঢ়তা ও চোখের অভিব্যক্তি থেকে তিনি বুঝেছিলেন, লক্ষ্য অর্জনে ভারত যা যা প্রয়োজন, তা করতে প্রস্তুত। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ভারতের নানা বৈপরীত্য তাঁর কাছে কিছুটা বোধগম্য হয়ে ওঠে।

তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ এই নয় যে বৈষম্য বা নাগরিক সেবার ঘাটতি গুরুত্বহীন। বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে দেশটি কীভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সমন্বয় ঘটাতে পারে, তার ওপরও।

১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার অর্থ শুধু উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি নয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, সুযোগের সমতা, পরিবেশের সুরক্ষা এবং মৌলিক নাগরিক সেবার উন্নয়নও এর অংশ।

ভারতের সামনে তাই চ্যালেঞ্জটি দ্বিমুখী। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রেখে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা, অন্যদিকে সেই অগ্রগতির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্শদীপের আগুনে বোলিংয়ে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


আর্শদীপের আগুনে বোলিংয়ে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারাল

ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করেছে আর্শদীপ সিংয়ের অসাধারণ বোলিংয়ের মাধ্যমে, যা অভিষেক শর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর এসেছে। ইন্দোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিকরা ক্যারিবীয়দের ১৪ রানে পরাজিত করে, ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তারা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

টস হেরে ব্যাটিং শুরু করার পর ভারত অভিষেকের ৩০ বলে ৬৯ রান এবং ইশান কিষাণের ১৮ বলে ৩৭ রান নিয়ে দারুণ সূচনা করে। নবম ওভারে ১ উইকেটে ১১৫ রান করার পর, দলটি দ্রুত পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ভারত ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।

এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা লড়াই করলেও কেউই পঞ্চাশ রানের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেননি। শিমরন হেটমায়ার ৪৩ রান এবং কামিল পুরান ৪২ রান করেন। শেষদিকে শেরফেন রাদারফোর্ডের ৩২ রানও দলের জন্য কার্যকরী হয়নি। ক্যারিবীয়দের ইনিংস ২০৯ রানে শেষ হয়।

ভারতের জয়ে আর্শদীপের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ৪ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে রাদারফোর্ড ও কিমো পলকে ফিরিয়ে দেন। ম্যাচসেরা এই পেসার ব্যাট হাতে ১১ রানও করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%