রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০১ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লং মার্চ ও দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন।
পরবর্তীতে, ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। রাজধানীর একটি মেট্রো স্টেশনের সামনে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময়, তাদের মুখে শোনা যায় ‘রফিক কাকু জানেন নাকি, গালিবাজদের নায়ক আপনি’; ‘লং মার্চ না লং ড্রাইভ, লং ড্রাইভ লং ড্রাইভ’ সহ বিভিন্ন স্লোগান।
ফেসবুক, ইউটিউব এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারে হামলা চালানোর বিষয়ে প্রকাশ্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন যে, কাতার ইসরায়েলের জন্য একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ। তিনি আরও দাবি করেন যে, গাজা যুদ্ধের সময় কাতার ইসরায়েলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়নি।
নেতানিয়াহু কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গে বলেন, “আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।”
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। জানা যায়, হামলাটি হামাস নেতাদের একটি বৈঠকের সময় চালানো হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
হামলার পর কাতার এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলাটিকে গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেন।
এদিকে সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশে মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ছিল কাতারের এই অর্থ।
তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন যে, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তাদের সব সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও কঠোর নজরদারির মধ্যে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এসব অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কে অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত; নির্বাচনে এসব বিষয় বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছেন।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে তা সকাল ৯টা ৩০ মিনিট এবং সর্বশেষ দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ২২ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০৯টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরটি আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যখন আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানবন্দরের আকাশসীমায় শনাক্ত হয়, তখন ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, গুয়াংজু, হংকং ও দোহা থেকে জাকার্তাগামী এবং এসব গন্তব্য থেকে জাকার্তাগামী বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স (এসআইএ) রয়েছে। সংস্থাটি রবিবার সিঙ্গাপুর ও জাকার্তার মধ্যে চলাচলকারী ১৯টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল থাকায় সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে তাদের আরও কিছু ফ্লাইটও প্রভাবিত হতে পারে। যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য ফ্লাইটের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার রাত থেকে আনাক ক্রাকাতোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। রবিবার ভোরে বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত করা হয়।
দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির জাভার দিকে ৬ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছাই শনাক্ত হয়েছে। সুমাত্রার দিক এবং জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের প্লুম ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত উঠেছে।
আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থিত। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন পানজাইতান জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি সতর্কতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ছাই পড়লে মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে, বাইরে চলাচল কমাতে হবে, পানির উৎস ঢেকে রাখতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে।" কারণ আগ্নেয়গিরির ছাই দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কমপাস জানিয়েছে, শনিবার ছাইয়ের কারণে কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করেছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে জ্বালাপোড়ার খবর পাওয়া গেছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়াও বাতিল করেছেন।
তবে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটির কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রায় শত শত মানুষ নিহত ও আহত হন।
‘আনাক ক্রাকাতোয়া’ শব্দের অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। প্রায় এক শতাব্দী আগে পুরোনো ক্রাকাতোয়া বা ক্রাকাটোয়ার অবস্থানে এটি সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ক্রাকাতোয়া ধ্বংস হয়ে যায়। ওই ঘটনায় সৃষ্ট ধারাবাহিক সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন নৌ ড্রোনে তারা হামলা চালিয়েছে। এ দাবি রোববার করা হয়, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত একটি বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানায়, ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বীর নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন নৌযানে বা নৌ ড্রোনে হামলা চালিয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র শনিবার জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। অপরদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলার দাবি করেছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর এই সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন উদ্যোগ নিয়েছে। ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী এই শাখা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের উপকূলে এমটি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ নামের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
এছাড়া, ওমান উপসাগরে এমটি কাইলো নামের একটি খালি তেলবাহী জাহাজও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। জাহাজটির কর্মীদের সেটি পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।
সেন্টকমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জাহাজগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর বড় বড় আগুনের গোলা ও ধোঁয়া দেখা যায়। সেন্টকমের দাবি, তিনটি জাহাজই ‘বহু বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের’ অংশ ছিল, যা আইআরজিসি এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য অর্থের জোগান দিত।
হামলার পর সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, “আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা করেন, তাহলে আমরা আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেব।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পিছু হটতে হয়েছে। তবে সেন্টকম বলছে, জাহাজ দুটি সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে গেছে।
লাইফবোটে তীরে নেওয়া হয় নাবিকদের
মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এ সময় অন্য জাহাজগুলোকে অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করার সতর্কবার্তা দেয় আইআরজিসি।
আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে এএফপির প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি সেন্টকম। হরমুজ প্রণালীতে বেসামরিক তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়ে ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, হামলার শিকার একটি ট্যাংকার খালি ছিল এবং অন্যটিতে তেল ছিল। লাইফবোটে করে জাহাজগুলোর নাবিকদের তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।
খার্গ দ্বীপ থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আরেক প্রতিবেদক জানান, সেখানে চালানো হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম-আল-আনবিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে তেহরানের পাল্টা হামলা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে এবং এর পরিধি আরও বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের কাছে ইরান যুদ্ধ ‘ছোটখাটো বিষয়’
ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটির জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমছে এবং সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলবেন না।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভ্যান্সের মন্তব্যের সমর্থন করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি নড়িয়ে দেবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের অবরোধের কারণে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
জুলাই মাসে কৌশলগত এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে প্রণালীটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়।
ভ্যান্সও বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে না।
তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন এখন এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে আসছে।
বৃহস্পতিবার ভ্যান্স বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।’
সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ
সর্বশেষ সংঘাত শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের বদলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল।
শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় একটি তুর্কি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে একটি বড় মিসরীয় ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রমকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রয়োগের অভিযানে অংশ নেবে না, তাদের জন্যও গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ