০৪:৫৮ পি.এম
পাকিস্তানের অধিকৃত আজাদ কাশ্মীর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বলপ্রয়োগ করছে; ইতোমধ্যে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন।
শনিবার (২০ জুন) এএফপি, স্কাই নিউজ ও রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল পাকিস্তান দখল করে—আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। দেশের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে দুটিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের বিধানসভায় মোট ৪৫টি আসন রয়েছে। এই ৪২টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে আগত উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি নিয়ে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করছে আজাদ কাশ্মীরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন হরতাল ডাকেন জেএএকে। মূলত, এই হরতাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় জেএএকে’র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত প্রায় দুই সপ্তাহে অন্তত ২৪ জন নিহত ও বহু লোক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক এএফপিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র এখন রাওয়ালকোট শহরে। এটি আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলো এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে।
বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও কারফিউয়ের কারণে আজাদ কাশ্মির কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অত্যন্ত বিঘ্নিত হচ্ছে।
মুহম্মদ মাসকিন নামে মুজাফফরাবাদের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানিয়েছেন, "আমি ওষুধের জন্য গত কয়েকদিন ধরে ঘুরছি, এখনও পাইনি। অনেক বড় ওষুধের দোকানগুলো পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। খোলা দোকানগুলোর সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে।"
সাবার হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান, "অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছি। গত আটদিন ধরে বাজারগুলো বন্ধ রয়েছে। শাক-সবজি ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।"
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন