রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৫ পি.এম
গত এক দশকে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পে ধারাবাহিক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো নির্দেশ করে যে, অস্ত্র, সামরিক প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ পরিবর্তনের পেছনে প্রতিরক্ষা বাজেটের বৃদ্ধি, ক্রয়নীতি সংস্কার, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পরিবর্তন
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন রেকর্ড ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি। ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৮৪ হাজার ৬৪৩ কোটি রুপি এবং ২০১৩-১৪ সালে ৪৩ হাজার ৭৪৬ কোটি রুপি। ভারত সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ লাখ কোটি রুপি এবং রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেট ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি রুপি, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেড়ে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি হয়েছে।
নতুন সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ মূলধনি ব্যয় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৯৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯৫ লাখ রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ১৯ হাজার কোটি রুপি হয়েছে।
রপ্তানিতে চমক
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬৮৬ কোটি রুপি রপ্তানি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি হয়েছে। এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা পণ্য ৮০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন
রপ্তানিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৭ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপির প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করেছে, যা মোট রপ্তানির ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। সরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান ছিল ২১ হাজার ৭১ কোটি রুপি বা ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সামগ্রিক উৎপাদনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতের অংশ ২৪ শতাংশ, যার মূল্য প্রায় ৪২ হাজার কোটি রুপি।
দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সময় গোলাবারুদ দ্রুত পুনরায় মজুত, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সামরিক সরঞ্জামে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতিতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসি) প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) নকশাকৃত এবং ভারতীয় শিল্পে উৎপাদিত ৬ লাখ কোটি রুপি মূল্যের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের জন্য ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার কোটি রুপির ৯৭টি ‘তেজস এমকে-১এ’ যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ৬২ হাজার ৭০০ কোটি রুপির ১৫৬টি ‘এলসিএইচ প্রচণ্ড’ হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দেশীয় উৎপাদনে জোরদার
২০১৬ সালের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি এবং ২০২০ সালের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ নীতির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আরও জোরদার করা হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা ক্রয় ম্যানুয়ালে প্রায় ১ লাখ কোটি রুপির রাজস্ব খাতের ক্রয়প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ নীতিতেও দেশীয় নকশা ও উৎপাদনে সহায়তা এবং দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা খাতে স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ বা আইডেক্স কর্মসূচির আওতায় মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ৬৭৬টি স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছে এবং ৫৫১টি নকশা ও উন্নয়ন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৪৯৮ কোটি ৭৮ লাখ রুপি।
প্রতিরক্ষা গবেষণায়ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিআরডিওর গবেষণা ও উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৭১৬ কোটি ১৪ লাখ রুপি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৯ হাজার ১০০ কোটি ২৫ লাখ রুপি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে গবেষণা ও উন্নয়ন বাজেটের ২৫ শতাংশ শিল্প, স্টার্টআপ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
দেশীয়করণের সুফল
দেশীয়করণের ফল সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ মজুতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের ব্যবহৃত ১৭৫ ধরনের গোলাবারুদের মধ্যে ১৫৯টি দেশীয়ভাবে উৎপাদনের আওতায় এনেছে। ফলে গোলাবারুদের ক্ষেত্রে প্রায় ৯১ শতাংশ স্বনির্ভরতা অর্জনের দাবি করা হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত প্রতিরক্ষা খাতে গবেষণা, নকশা, পরীক্ষা, উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন ও রপ্তানিকে একটি সমন্বিত শিল্প কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও সব ধরনের সরঞ্জাম ও উপাদান দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি দূর করাও এর লক্ষ্য নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এবং কানাডার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতি সহ নতুন খাতগুলো যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের বিষয়টিও কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা করা হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংয়ের সাক্ষাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় বহুপক্ষীয়তাবাদকে সমুন্নত রাখার জন্য বাংলাদেশ ও কানাডার যৌথভাবে কাজ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকের সময় কানাডায় বসবাসরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর অবদানের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলোচনা করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কানাডার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর জবাবে কানাডার হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে কানাডার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব ও জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে কৃষি খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন কানাডার হাইকমিশনার। এছাড়া জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিরাই থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন দিরাই সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কসহ নিয়মিত মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ ১ জন এবং সিআর ও জিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ জনসহ মোট ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—দিরাই সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আহমেদ, হাবিবুর রহমান, রুবেল মিয়া ও নয়ন মিয়া।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বেলা সাড়ে ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করা রেজাউল করিমের কর্মজীবন দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে অনুষ্ঠান নির্মাণ, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার জীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষের মনোবল জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার মতো শব্দসৈনিকদের কণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সাহস জাগিয়ে তুলেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ১০৮ জন শব্দসৈনিককে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওই গেজেটে রাজশাহী জেলার তালিকায় ‘মো. রেজাউল করিম (রবু)’ নামে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের টেলিভিশন সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান নির্মাণের ইতিহাসে রেজাউল করিমের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভিতে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অনুষ্ঠান প্রযোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে বিটিভির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি অবসর নেন। বিটিভির বহু দর্শকপ্রিয় ও কালজয়ী অনুষ্ঠানে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিটিভি থেকে অবসরের পর রেজাউল করিম রবু চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বেসরকারি টেলিভিশনে বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান, সংস্কৃতিভিত্তিক আয়োজন, উৎসবকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন নতুন ধারার অনুষ্ঠান নির্মাণে অবদান রাখেন।
রেজাউল করিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও সংস্কৃতিজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে চাকরি গ্রহণ করেন রাজধানীর হাতিরপুলের মোহাম্মদ গোলাম মাওলা। দীর্ঘকাল চাকরি করার পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলার প্রমাণিত হওয়ার পর, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
চাকরি থেকে অপসারণ হওয়া একমাত্র বিষয় নয়। তাকে ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন ও ভাতা, মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা, ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা) থেকে জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে উদ্দেশ্য করে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে আদালতের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছেন। ফলে, চাকরিকালে দায়ের করা (০৯/২০২১) বিভাগীয় মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রুলস অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তার চাকরি শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং, তিনি চাকরিকালে কোনো বেতন বা ভাতা পাওয়ার অধিকারী নন।
২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরির সময়কাল জুড়ে গোলাম মাওলা মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা বেতন ও ভাতা গ্রহণ করেছেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয় যে, গোলাম মাওলার চাকরি শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং যেহেতু তিনি কোনো বেতন বা ভাতা পাওয়ার অধিকারী নন, তাই উত্তোলন করা বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ