মেহেদী হাসান, শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৫ পি.এম
বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় এক স্কুলের নারী অফিস সহকারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রথীয়া রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত ইয়সিন আলী হাওলাদার এর পূত্র নান্না মিয়া হাওলাদার (৫০) ও রাজাপুর এলাকার ভোপাল চন্দ্র শিকদার এর পূত্র সহকারী শিক্ষক গৌতম শিকদার (৪৫)।
ভূক্তভোগী ওই অফিস সহকারী মাকসুদা খানম লিজা ও অভিযুক্তরা সবাই রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
হয়রানির স্বীকার লিজার স্বামী ওই একই এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হান্নান এর পূত্র জারজিস (৪০) এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নান্না ও সহকারী শিক্ষক গৌতম, তার স্ত্রী লিজাকে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের অপ্রয়োজনীয় ও যা তার দায়িত্বে পড়েনা এমন কাজ করাত। পাসাপাসি তাদের ব্যাক্তিগত কাজও করাত। জারজিস আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী ওই স্কুলে চাকরি করার সুবাদে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া ও গৌতম আমার স্ত্রীকে বার বার হেনস্তা, গালি-গালাজ, মানসিক নির্যাতন করেছেন। এতদিন লোক লজ্জায় আমি বিষয়টি কাউকে বলিনি। খুব শিগ্রই আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিব।
এ নিয়ে জারজিস ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক বাক-বিতন্ডা ও হুমকি ধামকির ঘটনাও ঘটেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ঘটিত এসব ঘটনা নিয়ে স্কুল কতর্িৃপক্ষ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌমত বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্য ও বানোয়াট।
অন্যদিকে হয়রানির স্বীকার ওই ভূক্তভোগী স্কুলের অফিস সহকারী মাকসুদা খানম লিজার বক্তব্যের জন্য বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি আতঙ্কে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া হাওলাদার বলেন, আমার স্কুলের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাকসুদা খানম লিজা ঠিকমত স্কুলে আসেন না। যে কারনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি তার বিরুদ্ধে বহুবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই জারজিস ক্ষোভে আমাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর রায়পুরায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলাম নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর, অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্ত বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম মুছাপুর ইউনিয়নের তালুককান্দি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি এবং তার পরিবার আত্মগোপনে চলে গেছেন।
১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তালুককান্দি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শিক্ষক শান্তা আক্তারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেত সে। তার মা প্রতিদিন প্রাইভেট শেষে তাকে বাড়ি নিয়ে আসতেন। তবে মঙ্গলবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মেয়েকে আনতে যেতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট শেষে শিশুটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক শান্তার বাবা নুরুল ইসলাম তাকে নিয়ে বের হন। পথে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান নুরুল ইসলাম। পরে শিশুটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি জানার পর শিশুটি তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, প্রাইভেট শিক্ষকের বাবা তার মেয়েকে যৌন নির্যাতন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম এবং তার পরিবার আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
রায়পুরা থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে। অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় অডিটোরিয়ামের ডিজিটাল স্ক্রিনে হঠাৎ করে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি দ্রুত নজরে আসার পর ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে স্ক্রিনে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত ভিডিওটি আগে যাচাই করা হয়েছিল কি না।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং শিক্ষকরা তা তদারকি করেন। এবারের অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠান ও ব্যানার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থী ইউটিউব থেকে জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন।
অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ জানান, ‘পুরো ভিডিওর শেষ ১০ সেকেন্ডের মতো এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী আমাদের বলেছে, সে বিষয়টি খেয়াল করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ট্রেজারার মহোদয়ের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছি। ছাত্র এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছে। সে বলেছে, সর্বোচ্চ ভিউ দেখে ভিডিওটা সিলেক্ট করেছিলাম, ভিডিওতে এমন কিছু থাকবে ভাবিনি।’
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ‘আজকের প্রোগ্রামে শুরুতেই আমাদের একটা র্যালি ছিল। এরপর প্রোগ্রাম শুরু হয়। আমাদের প্রোগ্রামগুলো জাতীয় সংগীত দিয়েই শুরু হয়। আগে আমাদের ডিজিটাল বোর্ড ছিল না, অডিওতে জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। আজকে যে শিক্ষার্থীরা এর দায়িত্বে ছিল, তারা ইউটিউব থেকে একটা জাতীয় সংগীত ছেড়েছে। ওরা এটা ভাবেনি যে ভিডিওতে এ ধরনের কিছু থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেউই চাইনি এ ধরনের ছবি থাকুক। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঘটনা। এটা আসলেই আমাদের ভুল হয়েছে, আমাদের খেয়াল রাখা উচিত ছিল। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও মন খারাপ হয়েছে, আমাদেরও খারাপ লেগেছে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন তার বক্তব্যে ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের কনভেয়রের আরো সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত ছিল। এটি নিছক অসতর্কতা, নাকি এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জাতীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ককে শোকজ করেছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে নিবন্ধিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২২। বর্তমানে সক্রিয় ২৫৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে, এই সক্রিয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩০টি শীর্ষ কম্পানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুসরণ করে সিংহভাগ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে। এই সব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০টি উৎপাদন কারখানা রয়েছে।
অন্যদিকে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) মানহীন ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে তদারকি জোরদারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন এসব তথ্য ও পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
এবারের বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অসংক্রামক ব্যাধির নিরাপদ চিকিৎসা’। এ উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ফার্মাকোভিজিল্যান্স বিভাগের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনাসভা, মুক্ত আলোচনা ও কিউআর কোডভিত্তিক কুইজের আয়োজন করা হয়।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দেশে নিবন্ধিত ৩২২টি অ্যালোপ্যাথিক কম্পানির মধ্যে ২৫৮টি সক্রিয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি শীর্ষ কম্পানি ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুসরণ করে সিংহভাগ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে।
তিনি আরও বলেন, মানহীন ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিজিডিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওষুধের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল বা এপিআই থেকে শুরু করে প্রস্তুত ওষুধ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাসায়নিক অপদ্রব্য ও বিষাক্ততার বিষয়ও পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় বাজারের ওষুধের কার্যকারিতা ও বায়োইকুইভ্যালেন্স পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা আরো জোরদারের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকে কঠোরতা
দেশে দুই লাখের বেশি ফার্মেসি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার নিবন্ধিত বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি বন্ধে অভিযান জোরদারের কথা জানিয়েছে ডিজিডিএ।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ঠেকাতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করার কথাও জানানো হয়।
ডিজিডিএ মহাপরিচালক বলেন, ওষুধ সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘদিন এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধ সেবন করতে হয়। ফলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া নজরদারি করা জরুরি।
বাজারজাত হওয়ার পর কোনো ওষুধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত, বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফার্মাকোভিজিল্যান্স কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ডিজিডিএর পরিচালক (ফার্মাকোভিজিল্যান্স) ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, বিরূপ ওষুধ প্রতিক্রিয়ার তথ্য দ্রুত রিপোর্ট করা গেলে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে রোগীর নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, শিক্ষাবিদ, ওষুধশিল্প ও রোগীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
ডিজিডিএর মহাপরিচালক বলেন, নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবহন ও সংরক্ষণেও আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ পরিবহন ও বিতরণ নিশ্চিত করতে জিডিপি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্ট যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে কিডনি ও লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ এবং রোগীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওষুধ ও প্রসাধনী আইন ২০২৩ অনুযায়ী ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ফার্মাকোভিজিল্যান্স ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তথ্য রিপোর্ট করার আইনি বাধ্যবাধকতা আরো জোরদার করার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে ওষুধের প্যাকেটে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা সিদ্দিকা মাহতাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নিপসম, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ওষুধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পাঁচ বিশিষ্টজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মধুপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাল হোসেন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সমাজে অবদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার। সভাপতিত্ব করেন আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাল হোসেন।
এ সময় বক্তব্য দেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম. রতন হায়দার, আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান আলী, আলোকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. চান মাহমুদ ও তোফাজ্জল হোসেন তোতা।
বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ জোগাবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ