বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:০৮ পি.এম
শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার কার্যক্রম সচল রাখার উদ্দেশ্যে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ রোধ করতে একটি ‘রেগুলেশন’ বা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন, কিন্তু নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় চলে যাবেন- দুইটি বিষয় একসাথে চললে শিক্ষার মানের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে বাংলাদেশে ‘জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি, এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষকদের নির্বাচনমুখী হওয়ার বিষয়ে নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৪ হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদে এবং ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে大量 শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মারাত্মক ক্ষতি হয়। নির্বাচন কমিশনের একটি মুক্ত রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত যাতে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। যদি যেতে হয়, তবে তাদের চাকরি ছেড়ে যেতে হবে। রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে, তা দেশ গঠনে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও মনিটরিং সেল রয়েছে। ফলে কেন্দ্রে গিয়ে প্রত্যক্ষ পাহারা দিতে হচ্ছে না। শিক্ষকরা সজাগ আছেন, অভিভাবকরা সতর্ক এবং পুলিশ বিভাগ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। শিক্ষার্থীরাও সচেতন এবং তারা আর কোনো ‘আনফেয়ার’ (অসদুপায়) অনুসরণ করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।’
এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) হার বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া বা ছেলেদের কাজে চলে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল। আমরা এই ড্রপ আউটের বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আগামীতে ক্লাসরুমের শিক্ষা এবং শিক্ষকদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং সিলেবাস আরও সুন্দরভাবে সাজানো হবে।’
প্রাথমিকের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের মামলার বিষয়ে ড. মিলন বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের আপিল বিভাগের নজরে এসেছে এবং তারাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কোর্টের আদেশটি এখনও আমাদের কাছে আসেনি। এর সম্পর্কে আমরা আজ বিস্তারিত জানাব।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার মিলে মোট ৯৮.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রান্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ, ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, এডিবি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি (অফিসার ইনচার্জ) আকিরা মাতসুনাগা এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের মানবসম্পদবিষয়ক টিমের নেতা গোলাম কিবরিয়া সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ছাত্রসংগঠনটির পক্ষ থেকে ফুয়াদকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এ আহ্বান জানান।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। এই বক্তব্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাসঙ্গিকতা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষকদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সচল থাকার কোনো প্রয়োজন আছে কি না।
ছাত্রদল ফুয়াদের বক্তব্যকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আক্রোশ হিসেবে দাবি করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের যেসব বাঁকে বাংলাদেশের পক্ষে অবদান রেখেছে, সেই বাঁকে ফুয়াদ সাহেবের পছন্দের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—এই সমস্ত ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের ঠিক প্রান্তে ছিল বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির মন্তব্য করেন, 'ফুয়াদ সাহেবের প্রিয় জামায়াতে ইসলামী ছিল দেশ ও জনগণের বিপক্ষে, ইতিহাসের ভুল প্রান্তে। এই ভুলের গ্লানি ও ক্ষোভ ফুয়াদ সাহেবরা মননে লালন করেন।'
ঢাবি নিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্যকে নাছির ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ছাত্রদল দাবি করছে, ফুয়াদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করছেন। সুতরাং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অবমাননাকর ও অসত্য বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং অতিদ্রুত তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট সদর উপজেলার রণবিজয়পুর এলাকায় একটি মোটরসাইকেল এবং মাহেন্দ্রর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে শেখ তানজিম ইসলাম রাজ (১৬) নামে একজন স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টার সময় বাগেরহাট-ফকিরহাট আন্তঃজেলা সড়কের সদর উপজেলা পরিষদের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।
পুলিশ জানায়, রাজ তার মোটরসাইকেলে বাগেরহাট থেকে ফকিরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। রণবিজয়পুর এলাকায়, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহেন্দ্রর সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শেখ তানজিম ইসলাম রাজ বাগেরহাট জেলার সুন্দরঘোনা এলাকার সুলতান শেখের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। তবে সংঘর্ষের পর মাহেন্দ্রর চালক যানবাহনটি নিয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক মাহেন্দ্রর চালককে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। আটকজনটি স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল সরদার (৩৫) । বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার দূড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালপুর থানার এসআই (নি.) মো. মনিরুল ইসলাম, এসআই (নি.) মো. শাহিনুর রহমান এবং এএসআই (নি.) মো. আনছার আলী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালান। এ অভিযানকালে শাকিল সরদারকে তার নিজ বসতবাড়ি থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়, যার মোট ওজন প্রায় ২.৫০ গ্রাম।
পুলিশ জানিয়েছে, শাকিল সরদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং অবশেষে অভিযানের মাধ্যমে তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় লালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক আসামিকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে, পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব কেদারপুর গ্রাম থেকে গাঁজাসহ মো. আলাউদ্দিন খান (৩৭) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি মো. আফসার উদ্দিনের ছেলে এবং কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনতার বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছে অবৈধ গাঁজা উদ্ধার হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনার আদালত তার বিরুদ্ধে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ