ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা


চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা

চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। মস্কো জানিয়েছে, যদি সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হতে পারে।

 

এএনআই 

আরও পড়ুন: দীর্ঘ যাত্রায় চালকের ক্লান্তি, বাড়ছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি

রাশিয়া, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি রাশিয়া। তবে, এ ধরনের বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি এখনও শুরু হয়নি বলে জানানো হয়েছে। রবিবার রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেছেন, পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই চীনে অনুষ্ঠিত এপেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছেন।

 

এই সম্মেলনের সময় পুতিনের জন্য একটি আলাদা বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করবে মস্কো। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উশাকভ বলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে সুযোগ তৈরি হলে পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক নেতাই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছেন।

আরও পড়ুন: চীনে নদীর তলদেশে ট্রেন চলাচল, আলোর লেজারের প্রদর্শনী পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

 

স্বাভাবিকভাবেই, আমরা আমাদের নেতার জন্য আলাদা বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করব। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও থাকবে। আর সুযোগ পেলে আমাদের নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।”

তবে, পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠকে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা বৈঠকের সময়ের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন উশাকভ। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, রাশিয়া, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণা রয়েছে।

এছাড়া, বৈঠক আয়োজনের জন্য এখনও কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি। তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, “এই ধারণা রয়েছে। এটি ইতিমধ্যে জনসমক্ষে এসেছে। তবে এটি প্রস্তুতি পর্যায়ে চলে গেছে—এমনটা বলা বাড়াবাড়ি হবে।”

আরও পড়ুন: দু’পক্ষই আগ্রহী হলে ইরান-মার্কিন বিরোধে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত রাশিয়া

তিনি আরও বলেন, এমন বৈঠক হলে আলোচনার বিষয় ঠিক করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে বৈঠক থেকে কী ধরনের ফলাফল আশা করা হচ্ছে, সেটিও আগে নির্ধারণ করতে হবে। রিয়াবকভের মতে, শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের বৈঠক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিতে পারে। তিনি রাশিয়া, ভারত এবং চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের কাঠামোর উদাহরণ দেন। তবে, রাশিয়া, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এখনও হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিয়াবকভ বলেন, “অবশ্যই আমি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিতে পারি না। তবে বাস্তব দিক থেকে আজ এ বিষয়ে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু যোগ করতে পারছি না।” অন্যদিকে, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রবিবার তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পারস্পরিক আস্থার পরিবেশের প্রতিফলন।

রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেসকভ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের একটি পথ তৈরি হয়েছে এবং সেখানে আস্থা বাড়ছে। তিনি বলেন, “বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে সত্যিই আস্থার একটি পরিবেশ রয়েছে। অন্তত যোগাযোগের এই পথের ক্ষেত্রে তা রয়েছে এবং এই আস্থা বাড়ছে।” পেসকভ আরও বলেন, সাধারণত কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যখন মনে করেন যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছানো দরকার, তখনই এ ধরনের দীর্ঘ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।

এদিকে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও নতুন একটি প্রস্তাব এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় রুশ শহরগুলোতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে প্রস্তুত কিয়েভ। এমন পরিস্থিতিতে চীনে অনুষ্ঠিত এপেক সম্মেলনকে ঘিরে পুতিন ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক এবং রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: কম্বোডিয়া বাংলাদেশিসহ ৭২১ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠালো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে অভিযানে ১৪ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


সৌদি আরবে অভিযানে ১৪ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক

সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক সপ্তাহের মধ্যে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে, ১২ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত যৌথ অভিযানে দেশজুড়ে এসব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৯ হাজারেরও বেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুরক্ষায়। বলা হয়েছে, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, বাসস্থান বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা একটি গুরুতর অপরাধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এ ছাড়া, এই সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে। সৌদি প্রশাসন নিয়মিতভাবে নাগরিক ও বাসিন্দাদেরকে অবৈধ অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৪ হাজারের বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১২ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত যৌথ অভিযানে দেশজুড়ে এসব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৯ হাজারের বেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুরক্ষায় অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, বাসস্থান কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত অপকর্মে জড়িতদের ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে। দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি নিয়মিত আহ্বান জানিয়ে আসছে সৌদি প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন দূতদের বৈঠক, আলোচনায় ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন দূতদের বৈঠক, আলোচনায় ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের উদ্দেশ্যে ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা শেষে জেলেনস্কি জানান, সংঘাতের সমাধানে ভূখণ্ডগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি অবশ্যই জাতীয় নেতাদের দ্বারা গ্রহণ করা হবে।

 

বৈঠকে শুধু ভূখণ্ডগত প্রশ্ন নয়, বরং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বলে জানান জেলেনস্কি—এমনটি

জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই

। জেলেনস্কি বলেন, সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী রাখা হবে ভবিষ্যতের প্রধান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলে, তাহলে জ্বালানি খাত এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মার্কিন এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হবে। জেলেনস্কি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, একটি মর্যাদা পূর্ণ, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ওপর জোর দেওয়া উচিত।

 

মস্কো এবং কিইভে ওয়াশিংটনের এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা।

মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানান, ওয়াশিংটন সামরিক সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উপায়ে শান্তির পক্ষে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে আলোচনা শেষে প্রাপ্ত ইতিবাচক ধারণাগুলো তারা কিইভের বৈঠকে নিয়ে এসেছেন। সংঘাত সমাধানের পরবর্তী ধাপের আলোচনায় ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় অংশীদাররাও অংশগ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও সাংবাদিক-যুবদল কর্মীসহ আসামি ২৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও সাংবাদিক-যুবদল কর্মীসহ আসামি ২৩ জন

 

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অন্তত ২৩ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে, যাদের মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার সাংবাদিক, যুবদল কর্মী, স্কুলশিক্ষক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী এবং পবিত্র ওমরাহ পালনে মক্কায় অবস্থানরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

অভিযুক্তদের দাবি, তারা মিছিলের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। এর পর সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পুলিশ পরে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে। মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছে তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে শওকত হাসান সৈকত, যিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির ডিজিটাল প্রতিনিধি। এছাড়া কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে রাসেল আহমদ, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে কাদের পাশা, বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের জাবের আহমদ জাবেদ এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের রাজন চন্দের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া বাদাঘাট ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের আজহারুল ইসলাম সোহাগ, হাসান মিয়া, ইকবাল, ফারুক, বিপ্লব হাসান ইমন, জুয়েল আখুঞ্জি, শাহিন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, সাজিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, মিয়া হোসেন, সেলিম ভূঁইয়া, শাকিল আহমদ লিজান এবং লিক্সন মিয়া সহ অন্তত ২৩ জন ঘটনার সময় মিছিলস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।

মামলার আসামি সাজ্জাদ, যিনি তাহিরপুর উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি, বলেন, "আমি মাদক ব্যবসায়ীদের ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার। মাদকের বিরুদ্ধে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার কারণে কিছু অসৎ লোক আমাকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। তবে যতদিন বাঁচব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। এতে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না।"

বাদাঘাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ মন্তব্য করেন, "আমি ব্যবসার পাশাপাশি যুবদলের সক্রিয় কর্মী। মামলায় আমার নাম কীভাবে এলো, আমি বুঝতে পারছি না। কারও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এমনটি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।"

সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, "ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য থানার একটি ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমাকে আসামি করার কোনো কারণ আমি বুঝে উঠতে পারছি না।" তিনি আরও জানান, "উপজেলায় সক্রিয়ভাবে সাংবাদিকতা করার কারণে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আমাকে নিয়মিত সংবাদ করতে হয়। এ কারণে হয়তো উপজেলা বিএনপির কিছু নেতার কাছে আমি বিরক্তির কারণ হয়ে থাকতে পারি। একটি মিথ্যা মামলার কারণে গত সাত দিন ধরে আমাকে ফেরারি জীবনযাপন করতে হচ্ছে।"

সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, "সৈকত আপাদমস্তক একজন সাংবাদিক। ঘটনার দিন তিনি তাহিরপুরেই ছিলেন। আর তাহিরপুরে থেকে একজন কীভাবে মধ্যনগরের মিছিলের মামলার আসামি হয়, সেটি বোধগম্য নয়। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং সৈকতসহ নির্দোষ ব্যক্তিদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়, সে দাবি জানাচ্ছি।"

এদিকে তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঝুঁকি জেনেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তবে মামলায় এমন কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের কেউ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, কেউ সাংবাদিক, আবার কেউ পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছিলেন কিংবা মিছিলের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, "যারা মিছিল করেছে, তাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তাদের রেখে নিরপরাধদের মামলার আসামি করা হয়েছে, এটা দুঃখজনক। মূলত ব্যক্তি আক্রোশ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য এমনটা করা হয়েছে।"

তবে মামলার বাদী শাহাজাহান মিয়া আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানান, "তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে আসামিদের তালিকা থানায় দিয়েছেন। এতে আমি বাদী হয়েছি।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা যথাযথভাবে যাচাই না করে কিংবা ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে মামলা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত জড়িতদের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, "মামলার বাদী পুলিশ নয়, অন্য একজন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবিকতায় উজ্জ্বল গোমস্তাপুর: অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


মানবিকতায় উজ্জ্বল গোমস্তাপুর: অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান

টাকার অভাবে ছেলের পড়ালেখা আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অনিশ্চয়তা আর হতাশা নিয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য যে মা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, তাঁর পাশে আশার আলো হয়ে দাঁড়ালেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএনও কার্যালয়ে ওই অসহায় মায়ের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা।

জানা গেছে, পারিবারিক চরম আর্থিক সংকটে পড়ে ওই নারী তাঁর ছেলের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। বিষয়টি গোমস্তাপুরের ইউএনও জিল্লুর রহমানের নজরে আসামাত্রই তিনি আর দেরি করেননি; পরম মমতায় বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত।

সহায়তা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। দিনে-রাতে কেবল একটাই চিন্তা তাড়া করে বেড়াত। ইউএনও স্যারের এই সহযোগিতা আমার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আমি সারা জীবন তাঁর এই অবদান মনে রাখব।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মো. জিল্লুর রহমান গোমস্তাপুরের অসহায় ও মেহনতি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়, এমন একের পর এক মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ইউএনওর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিপদে এভাবে এগিয়ে আসা সত্যিই অনুকরণীয়। এমন অফিসারদের হাত ধরেই সমাজ বদলে যায়।

নিজের এই মানবিক পদক্ষেপ নিয়ে ইউএনও জিল্লুর রহমান অত্যন্ত বিনীতভাবে বলেন, "অসহায় ও আর্তপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল কাজ নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। নিজের সামান্য সামর্থ্য দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর পড়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। মানুষের কল্যাণে আমাদের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%